২০১৮-০৫-০৫

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে পড়তে আগ্রহীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

OURISLAM24.COM
news-image

হেদায়েতুল্লাহ হানিফ

মাদরাসায় পড়ুয়া ভাইদের অনেকেই বর্তমানে ইসলামি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের জন্য আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ক্ষুদ্র পরামর্শ।

ইসলামি অর্থনীতি নিয়ে পড়া শুরু করতে চাইলে প্রথমেই ইসলামি অর্থনীতি ও অন্যান্য অর্থনীতর মধ্যকার দর্শনগত পার্থক্য বুঝতে হবে। এর জন্য মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ. প্রণীত ‘ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন’ বইটি পড়া যেতে পারে।

একই বই থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার শুরু, আধুনিক মুদ্রার পেছনের কথা ইত্যাদি ঐতিহাসিক বিষয়গুলো জানা যেতে পারে।

ইসলামি অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য অংশ ভালোভাবে আয়ত্ত করার জন্য كتاب البيوع ও كتاب الإجارة এর ওপর ভালো দখল থাকতে হবে। সেজন্য সংক্ষেপে مجلة الأحكام العدلية কিতাবটি পড়া যেতে পারে। এটি খিলাফতে উসমানিয়ার সময় তুর্কী ভাষায় কাজিদের জন্য লিখিত কিতাব।

এতে আইনের ধারার ন্যায় মুয়ামালাত ও ক্বাযার বিষয়গুলো সংকলিত হয়েছে। আগে বিভিন্ন দেশের নগর আইন ছিল এই কিতাবটিই। এখনো কিছু কিছু দেশে আংশিক আছে।

কিতাবটি সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর একটি ধারা অন্য আরেকটি ধারাকে ব্যাখ্যা করে। তাই কোনো শরাহ ছাড়াও আয়ত্ত করা যায়। এতে কোনো মতপার্থক্য আনা হয়নি। প্রয়োজনে সহজ ও বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। কিতাবটি পড়লে মুয়ামালাতের অধ্যায়গুলোর ওপর একটি শক্ত দখল হয়ে যাবে।

আরবি ভাষার জ্ঞান প্রয়োগে ইংরেজি শেখার বিশেষ কোর্স

যৌথ ব্যবসা সম্পর্কে পড়তে একই কিতাবের كتاب الشركة টা পড়া যেতে পারে। এখানে مشاركة، مضاربة، مزارعة، مساقاة সব চলে এসেছে। এই কিতাবটি থেকে এই তিনটি كتاب পড়লে মোটামুটি ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত ফিকহি কিতাবগুলোর বর্ণনা আয়ত্তে চলে আসবে।

উল্লেখ্য, কিতাবটি পড়ার সময় প্রয়োজনে شرح المجلة للأتاسي মুতালা করা যেতে পারে।

এরপর মুশারাকা, মুদারাবা, সালাম, ইস্তিসনা, মুরাবাহা ও ইজারার ওপর বর্তমান বিষয়গুলো বুঝার জন্য মুফতি ইমরান আশরাফ উসমানি প্রণীত Meezan Bank’s guideline to Islamic Banking বইটি পড়া যেতে পারে। এটি অনলাইনে ইংরেজিটা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সম্ভবত বাংলাও হয়েছে।

এই কিতাবটি পড়া শেষে المعايير الشرعية পড়া যেতে পারে। কিতাবটির আরবি ও ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এটি ইসলামি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের এ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং সংক্রান্তি নীতিমালা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান AAOIFI কর্তৃক প্রণীত।

এই কিতাবটিও আইনের ধারার ন্যায় বিন্যাস করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ এর সংস্করণে এতে ৪১ টি معيار বা Standard বা শরিয়াহ মানদণ্ড রয়েছে। তন্মধ্যে প্রথমে যেগুলো পড়া উচিৎ:

১. المرابحة للآمر بالشراء

২. الإجارة و الإجارة المنتهية بالتمليك

৩. الشركة و الشركات الحديثة

৪. المضاربة

এগুলো পড়া হয়ে গেলে পরবর্তীতে الأوراق المالية، صكوك الاستثمار، سلم، استصناع ও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য معيار গুলোও পড়ে নেয়া উচিৎ।

المعايير الشرعية পড়ার সহজ পদ্ধতি হলো, একেকটি معيار এর একেকটি ধারা পড়ে সাথে সাথে معيار এর শেষে থাকা সংশ্লিষ্ট مستند الأحكام الشرعية বা শরয়ী দলিল পড়ে নেয়া।

পাশাপাশি ইংরেজি সংস্করণটি রাখলে নতুন পরিভাষাগুলো বুঝতে সুবিধা হবে।

এই তিনটি কিতাব পড়ার পর মুফতি তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহর কিতাবগুলো পড়লে কাঁচের মত স্বচ্ছ মনে হবে সবকিছু। তাঁর ভিন্ন তাসনিফাতগুলো পড়ার পাশাপাশি তাঁর ফতোয়াগুলোও পড়া যেতে পারে। এভাবে আস্তে আস্তে মুতালার পরিধি বাড়ানো যেতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি বিষয়ে ড. আলি আল কারাদাগির বক্তব্য

তবে ভিত্তির কিতাবগুলো পড়া না থাকলে মাসয়ালাগুলো সবসময় স্বচ্ছ হবে না। সন্দেহ সন্দেহ লাগবে।

আশা করি অনেকের উপকারে আসবে লেখাটি। ইসলামি অর্থনীতিতে আমাদের ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করা সময়ের দাবি। মানুষকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালের ওপর চলার পথ দেখানোর দায়িত্ব আলেমদেরই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

(উল্লেখ্য, مجلة الأحكام العدلية، المعايير الشرعية এবং Meezan Bank’s guidelines to Islamic Banking – তিনটি কিতাবই অনলাইনে পাওয়া যায়।)

-আরআর