মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মিশরে মনোমুগ্ধকর এক কিতাবপাড়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম: ইরাকের নাজাফ শহরে এক আশ্চর্য কিতাবপাড়া রয়েছে, যার হাত ধরে ইসলাম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এই শহরটি আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সাহিত্য আলোচনারও প্রাণকেন্দ্র৷

নাজাফের পুরোনো পাড়া, হাভিশ মার্কেটের ভেতর একটি বইয়ের দোকান৷ বইয়ের তাকে একদিকে রাখা কবিতা, দর্শন, অর্থনীতির বিভিন্ন বই৷ আর ঠিক পাশের তাকেই রাখা পবিত্র কুরাআনসহ অন্যান্য ধর্মতত্ত্বের একগুচ্ছ বই৷

তিন বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে নাজাফে পড়তে আসা ছাত্র, মুহাম্মদ আলি রেদার মতো অনেক ছাত্রেরই এই দোকানে নিয়মিত যাতায়াত৷ যারা মহানবি মুহাম্মদের বংশধর, তাদের গায়ে থাকে কালো ও ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের গায়ে থাকে সাদা পোশাক৷

Irak Najaf, Stadt von Buchhandlungen, Theologie und Poesie

সাদা পোশাক ও স্কার্ফ পরিহিত রেদা এখনো তার ধর্মশিক্ষার প্রাথমিকস্তরে আছেন বলে তার ইরানি, পাকিস্তানি এবং তুর্কি সহপাঠীদের মতোই ভাঙা ভাঙা আরবি ভাষায় কথা বলেন৷

হাদিসের নানান কিতাব  থেকে শুরু করে তাফসিরের সব কিতাব পাওয়া যায় সেখানে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বড় বড় কবিদের কিতাব ও কবিতার বইও পাওয়া যায়। আরবি কবিদের কাব্য কবিতার খুঁজে মানুষ সেখানে ছুটে যায়।

এই মুহূর্তে আমাদের আরবি, আইন ও ইসলামি নীতিতে পাঠ দেওয়া হচ্ছে,’ বলে তিনি জানান৷ যদিও ইরাকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে খুবই কম সংখ্যক মানুষ শিয়া মতানুসারী৷

সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে শিক্ষক, মুহাম্মদ মুস্তাফা জামাল আল-দীনেরও এ অঞ্চলে বহুদিন ধরে যাতায়াত৷তার মতে, ৭৫০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী বাজার নাজাফের ভেতর যেন একটি স্বতন্ত্র শহর গড়ে তুলেছে৷

বাগদাদ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহর প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিয়া তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানায়৷ এই তীর্থযাত্রীরা মূলত আসেন নবী মোহাম্মদের জামাতা, ইমাম আলী ও অন্যান্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সমাধি দেখার জন্য৷

Irak Najaf, Stadt von Buchhandlungen, Theologie und Poesie

ধর্মের সাথে কাব্যচর্চার কোনো বিরোধ না দেখা জামাল আল-দীন বলেন, নাজাফের ধর্ম বিষয়ক শিক্ষার্থীদের ভিড়ে কবিতাপ্রেমীদেরও খুঁজে পাওয়া যায়৷

ধর্মতত্ত্বের জ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য বিষয়ে আকর্ষণ থাকতেই পারে৷ এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই৷ প্রথমদিকে ধর্ম নিয়ে লিখলেও পরবর্তীতে উগ্র জাতীয়তাবাদের দিকে আকৃষ্ট হওয়া প্রখ্যাত কবি মুহাম্মদ মাহদি আল জাওয়াহিরিকেও ১৯২০-র দশকে নাজফের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেতো৷

জাওয়াহিরির মৃত্যুর একুশ বছর পর, তার লেখাসমূহ পাওয়া যায় এই বইপাড়ার আনাচে কানাচে৷ ‘ইসলামী অর্থনীতি– মার্কসবাà