
মুফতি মাহফূযুল হক
প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে স্বীকৃতি ও নিয়ন্ত্রণ দুটি ভিন্ন বিষয়। যেমন, আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরকারি স্বীকৃতি আছে। প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে সেগুলোর চ্যান্সেলার হোন। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, সিলেবাস ও কারিকুলামের উপর সরকার বা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি আসছে। কওমির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আসছে না। নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বীকৃতি অসম্ভ, অবাস্তাব কোন কিছু নয়।
নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য আসে বেতন-ভাতার সাথে। যেহেতু বেতন-ভাতা, বাজেট কোন কিছুই সরকার থেকে নেয়া হবে না সেহেতু অযাচিত নিয়ন্ত্রণের পথ সরকারের জন্য বন্ধ থাকছে। জন্মলগ্ন থেকে নিয়ে বিগত দেড় শতাধিক বছর কওমি মাদরাসা যেভাবে চলেছে স্বীকৃতি নেয়ার পরে আগামী দিনেও সেভাবেই চলবে। সরাসরি জনগণের অনুদান ও আর্থিক সহযোগিতাই হবে কওমি মাদরাসার সকল ব্যয়ের একমাত্র তহবিল।
যেহেতু কওমি মাদরাসা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা। সেহেতু কওমীর স্বীকৃতি হয়েগেলে যে কোন সরকারি, বেসরকারি চাকরির দোয়ার খোলে যাবে, তা ভাবার কোন সুযোগ নেই। কেননা, মেডিকেলে পড়াশোনা করে ব্যাংকে কর্ম করা যায় না। প্রকৌশলে লেখাপড়া করে চিকিৎসক পদে চাকরি করা যায় না। তাই কওমির স্বীকৃতি হয়ে গেলেও অবাধ কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে ভাবা কা আশা করাও অযৌক্তিক, অবস্তাব ও অসম্ভব।
তবে স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় সুফল হলো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা। স্বীকৃতি না থাকায় কওমীর সর্বোচ্চ স্তর শেষ করার পরেও সমাজ ও রাষ্ট্রের কাগজে সে অশিক্ষিত। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য যদি শিক্ষার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় তবে কওমিতে পড়াশোনা করা সমাজ সেবক একজন যোগ্য ব্যাক্তির নির্বাচনে প্রার্থী পদে দাঁড়ানোর যোগ্যতাও থাকবে না। সময়ের পরিবর্তনের অনেক ব্যবসা বাণিজ্যের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য শিক্ষার শর্ত আরোপ হবে। তখন কওমীতে পড়ুয়ারা স্বাধীন ব্যবসা করার আইনগত অধিকার বঞ্চিত হবে। স্বীকৃতি নাথাকায় আপনি দাওরা পাশ করে ন্যাশনাল আইডি করতে গেলে ফরমে শিক্ষার কলামে আপনাকে অশিক্ষিত লিখতে হবে। এটা সামাজিক একটি অসম্মান। এর থেকে মুক্তির একটাই উপায় কওà¦