
মাওলানা এহসানুল হক
‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি এখন টকঅব দ্যা কান্ট্রি। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ, আলেম উলামা- মাদরাসা ছাত্রদের মুখে মুখে প্রধান আলোচ্য বিষয় কওমি সনদের রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতির ঘোষণা করবেন বলে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই স্বীকৃতির রূপরেখা বা কারিকুলাম কিংবা আইনি ভিত্তি কী হচ্ছে তা স্পষ্ট না হলেও স্বাধীনতার পর সব আলেম এই স্বীকৃতি বিষয়ে এভাবে ঐকমত্য হননি।
এবার সবদল মত নির্বিশেষে, প্রান্তিকতার উর্ধ্বে ওঠে আল্লামা শাহ আহম শফীর নেতৃত্বে সারা দেশ এক ও অভিন্ন মতের ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই যাওয়াটা রাত পোহালেই চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইতিহাস বলে, কওমি সনদের এই স্বীকৃতির হৃদয়ভরা দাবির প্রবাদপুরুষ, শাইখুল হাদিস বাংলার বুখারি আল্লামা আজিজুল হক রহ.। কওমি সনদের এই স্বীকৃতির পতাকা নিয়ে যিনি মাঠে ঘাঠে, সমাবশে সম্মেলনে জীবনের বিরাট একটি সময় ব্যয় করেছেন। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসকানকালে বারবার মনে পড়ছে কওমি সনদের এই স্বীকৃতির পতাকাবাহী বীরসেনা শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে। স্বীকৃতি বিষয়ে হজরত শায়েখের বিস্তারিত আন্দোলন সংগ্রামের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ এহসানুল হক।’ -সম্পাদক
কওমি মাদরাসা শিক্ষা সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা এখন নতুন করে বলার কিছু নেই। দীর্ঘদিন আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনার পর দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেন আরও অনেক আগেই। এদেশের বিরাট একটি জনগোষ্ঠী কওমি মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত। দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার কওমি মাদরাসা। শিক্ষা অর্জন করছে লক্ষ লক্ষ ছাত্র। কিন্তু সরকারি হিসেবে এ শিক্ষা মূল্যহীন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে মাদরাসা শিক্ষার এক ধরনের সরকারি স্বীকৃতি থাকলেও বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের দেশের কওমি পড়–য়া লক্ষ লক্ষ ছাত্র। সামাজিক অবস্থান, কর্মের বিস্তৃত পরিধি, আর বৃহৎ দ্বীনি খেদমতের কথা বিবেচনা করে সচেতন আলেম উলামাদের পক্ষ থেকে কওমি মাদরাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির এই দাবি উত্থাপিত হয়। নিয়মতান্ত্রিক সাধারণ পদ্ধতিতেই আলেম সমাজ সরকারের কাছে এই দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কিনà§