Tag Archives: আওয়ামী লীগ

ঈদে জনগণের দুয়ারে আ.লীগের সংসদ সদস্যরা

মুমিনুল ইসলাম:  ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হওয়ার আশায় ঈদ উপলক্ষে হাজির হচ্ছেন জনগণের দুয়ারে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যেসব নেতা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, আমিও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো।’ তার এই কথাকে প্রাধান্য দিয়ে ঈদুল ফিতরের সুযোগে তৃণমূলের নেতা ও জনগণের কাছাকাছি যাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। স্থানীয়দের মন জয় করে নিতে রমজান মাস জুড়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তারা।

দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ও দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদ এলেই দেশের বাইরে পাড়ি জমাতেন। অনেকে ঈদ উদযাপন করতেন রাজধানীতেই। স্থানীয় জনগণ ও দলের তৃণমূলের নেতাদের খবর রাখতেন না। কিন্তু এবারের চিত্র অন্যরকম। সবাই সপরিবারে ঈদ করছেন নিজেদের জেলা ও থানায়।

তবে সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা স্থানীয়দের নিয়ে যে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন তা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের দৃষ্টিতে অতি মূল্যায়ন মনে হচ্ছে। তাদের মন্তব্য, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে এটি শেষ ঈদুল ফিতর। ফলে সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। তাদের প্রত্যেকেই পুরো রমজান মাস জুড়ে এলাকার জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ইফতার টেবিলে সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে। ইফতার সামগ্রী ও যাকাত বিতরণের জন্য দরিদ্রদের কাছেও গেছেন তারা। দরিদ্রদের উপহার পাওয়ার পরিমাণও এবার তিন-চার গুণ বেড়েছে।

একদিকে সংসদ সদস্যরা দিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে একেকটি এলাকায় একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় তারাও সাধ্যমতো উপহার বিতরণ করে যাচ্ছেন। কে কার চেয়ে বেশি দান করে এলাকার মানুষের আলোচনায় আসতে ও মন জয় করতে পারেন, এমন প্রতিযোগিতাও ছিল দেশের কোনও কোনও অঞ্চলে। মসজিদ আর মাদ্রাসায়ও দানের পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সারাদেশের অন্তত ১০টি জেলার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ কথা স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার আমাদের দলের নেতারা নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে বেশি মিশেছেন। সামনে সংসদ নির্বাচন, ফলে সবাই গ্রামমুখী থাকছেন, স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই এই ঈদে এলাকাকেন্দ্রিক। ফলে এটা একটু বেশি চোখে পড়েছে। এসব কাজ মানে কিন্তু মনে করিয়ে দেয়— রাজনীতি হলো সবসময় জনগণের সেবা।’

সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই তোড়জোড়ে আশার আলো দেখছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এলাকার জনগণকে যে মূল্যায়ন করতে হয় তা জনপ্রতিনিধিরা একসময় বুঝতে বাধ্য হন। কারণ তারাই ভোটার। আমাদের দলে এমন অনেক সংসদ সদস্য আছেন যারা এলাকার মানুষের খোঁজ নেওয়া তো দূরে থাক, দলের নেতাদের পাশেও দাঁড়াতে আসেননি কখনও।’

অবশ্য এটাকে স্বাভাবিকই মনে করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান। তিনি বলেছেন, ‘এবারের ঈদে নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা সবাই এলাকামুখী। এলাকার মানুষ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, এতে এত হিসাব মেলানোর কী আছে?’

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় যারা বর্তমান সংসদ সদস্য তারা ও নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জনগণের মন জয় করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ঈদুল ফিতর নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ হওয়ায় স্থানীয় জনগণের খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন তারা।’

সারাদেশে একই চিত্র। পঞ্চগড় জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটও জানালেন, এবারের ঈদে স্থানীয় নেতা ও জনগণের খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

সিন্ডিকেট দিয়ে ছাত্রলীগ চলবে না বললেন কাদের

আওয়ার ইসলাম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি চাই ত্যাগী, যোগ্য নেতৃত্ব। কারও পকেটের কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না।

কোনো সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। এর বাইরে কোনো ভাবনাচিন্তা করার অবকাশ নেই।’

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন খালেদা জিয়া কতটা অসুস্থ। কিন্তু জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকেরা রাজনৈতিকভাবে একটি রাজনৈতিক সার্টিফিকেট দিয়ে দেবেন, এটা কি গ্রহণযোগ্য?

তিনি বলেন, এমন একটা ভাব যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাগজ গেছে, তিনি সই করলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যাবে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও জেলকোড আছে, অসুস্থতার চিকিৎসা আছে।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে কাগজপত্র কেন যাবে?

বিএনপি নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজেদের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন আদালতের বদৌলতে। সেটা নিয়েও বিএনপি রাজনীতি করছে। যেন সরকার এই মামলা দিয়েছে, সরকারই খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছে এমন একটি ভাব।

আরো পড়ুন- তারেক রহমানের পাসপোর্ট নেই, নাগরিকত্ব আছে কি?

‘২০৪১ সালে বাংলাদেশকে যেমন দেখতে চাই সে কাজ শুরু করেছি’

আওয়ার ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রুপকল্প ২০২১ এর পর এবার ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার।

শনিবার বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির সোফিটেল হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই সেভাবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।’

এর আগে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে রুপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে এই রুপকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখা আজকের এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।

সিডনিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল উইমেন সামিট-২০১৮তে যোগ দিতে এবং গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণ করতে গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্যই আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হবার যোগ্যতা অর্জনে সমর্থ হয়েছে।’

আরো পড়ুন- ‘কাকরাইলে যা ঘটছে তা খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক’

ব্যক্তি নয়, দুদক কাজ করে অপরাধ নিয়ে: ইকবাল মাহমুদ

আওয়ার ইসলাম: দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে মামলা বা তদন্ত করে না। দুদক কাজ করে অপরাধ ও অভিযোগ নিয়ে। কেউ এটাকে অন্যভাবে দেখলে ‘উই আর সরি’। আমরা অন্যায় ও অভিযোগের তদন্ত করি। আমাদের কাছে অভিযোগ ও অপরাধ সংঘটিত হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

রোববার বিকালে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে ‘দুদক’র বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৭’ হস্তান্তর শেষে বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি বিএনপির আট নেতা ও আওয়ামী লীগের এক হুইপসহ চার সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তের পর দুদক নিয়ে রাজনীতিকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জবাবে ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, আমি সব সময় বলেছি, সমালোচনা আমরা স্বাগতম জানাবো। তবে সমালোচনা গঠনমূলক হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন-তেন মামলা করতে চাই না। যেন-তেন মামলায় হয়রানির আশংকা থাকে। কেবল মেরিট ধরেই মামলা করা হবে। তবে ঘুষখোরদের আমি শেষবারের মতো সতর্ক করতে চাই। তাদের গ্রেপ্তার আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আমরা চাই সবাই আইনকে সম্মান করুক, শ্রদ্ধা করুক। আইন মেনে চলুক।’
মানিলন্ডারিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেক সংস্থাই এটা নিয়ে কাজ করছে। তবে আমরা এ বিষয়ে অচিরেই বড় ধরনের কাজ শুরু করব।’

কেএল

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

আওয়ার ইসলাম : রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক বেন্টুর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে কাটাখালি এলাকাবাসী।

সোমবার বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে কাটাখালী এলাকার মাসকাটাদীঘি বহুমুখী কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি  রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে।

এসময় ১১ জনের বিরুদ্ধে বেন্টুর দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা অভিহিত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।

কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বেন্টু পুরো রাজশাহীবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। বেন্টুর হাত থেকে রাজশাহীবাসী মুক্তি চায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মানুষের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার এই দস্যুতা বন্ধ করতে হবে।

অনেক দিন ধরে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে আব্বাস আলী এবং আজিজুল হক বেন্টুর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে।

‘ফেরেশতা এলেও সমালোচনা করবে আওয়ামী লীগ’

আওয়ার ইসলাম :  আসমান থেকে ফেরেশতা আনা হলেও আওয়ামী লীগ তার সমালোচনা করত। আর আওয়ামী লীগের সমস্যা হচ্ছে লর্ড কার্লাইলের এই নিয়োগের ফলে ব্রিটিশ আইনজীবীরাও জানবে আমাদের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার কী অবস্থা। এই আতঙ্কেই আওয়ামী লীগ তার নিয়োগের বিরোধীতা করছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আইনজীবী নিয়োগের দৃষ্টান্ত এদেশে রয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা মোকাবেলায়ও বিদেশি আইনজীবী আনা হয়েছিল। আইনজীবীরা আইনের ব্যাখ্যা দেন। লর্ড কার্লাইল মীর কাসেমী আলীর লবিস্ট ছিলেন কি, ছিলেন না তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আইনজীবী আইনের ব্যাখ্যা দিবেন, এটাই তার কাজ।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির বড় বড় আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ মানসিক সন্তুষ্টির জন্য। এ ছাড়া বিশ্বও জানল ৭৪ বছর বয়স্ক একজন মানুষকে ৫ বছরের সাজা দিয়ে জেলে নিয়ে কী ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। তিনি তো দেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জনগণ তাকে ২৩ আসনে ২৩ বার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। এমন একজন মানুষকে এভাবে নাজেহাল করা ঠিক নয়।

রায়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগই অবান্তর: ব্যারিস্টার মওদুদ

আওয়ার ইসলাম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় পড়ে অবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘এই রায় ১ হাজার ১৬৮ পৃষ্ঠার। যদিও এর পাঁচ ভাগের চার ভাগ একেবারেই অবান্তর। সেগুলো কোনও গ্রাউন্ডস না, কিন্তু সবই দিয়েছেন উনি (বিচারক)।’ মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন হাইকোর্টর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘রায়ের সত্যায়িত কপি গতকাল বিকেলে পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইনজীবীরা আপিল প্রস্তুতির কাজে লেগে যান। আমরা রায়টি পড়ে অবাক হয়েছি। একটা উদাহরণ দেই আপনাদের, আপনারাও টেলিভিশনে স্ক্রলিং করেছেন, ‘খালেদা জিয়া যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন’।

এমন একটা মিথ্যা, সম্পূর্ণ অসত্য কথা রায়ের মধ্যে লিখে সারাদেশের মানুষের মধ্যে প্রচার করা হলো। এটাও একই ষড়যন্ত্রের অংশ। কোনও আসামি কি বলে, আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি? সেখানে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল।’’

এই আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া এক জায়গায় বলেছেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে। প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি?’ সে প্রশ্নবোধক চিহ্নটাকে উঠিয়ে দিয়ে এখানে একটা দাঁড়ি দিয়ে দিয়েছে।’’

‘শেয়ার বাজার লুট করে লক্ষ কোটি টাকা তসরুপ হয়ে গেলো। নিঃস্ব হলো নিম্নআয়ের মানুষ। ব্যাংকগুলো লুটপাট করে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং এই যে আজকে রায়ের মধ্যে একটা মিথ্যা কথা বলে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রশ্নবোধক চিহ্নটাকে তুলে দিয়ে সেখানে দাঁড়ি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অরিজিনালি খালেদা জিয়ার যে বক্তব্য, সেটা পরীক্ষা করে দেখেছি। সেখানে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আছে এবং সেটা রেকর্ডে আপনারা পাবেন। যখন বিচার হবে আমরা রেকর্ড কল করাব, যেন এটা পরীক্ষা করে দেখা যায়।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘কোনও আসামি এই পর্যায়ে গিয়ে বলতে পারে না, আমি নিজে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি। তিনি প্রথমে বলতে গিয়ে দ্বিধাবোধ করতেন। সুতরাং সম্পূর্ণভাবে অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটা করা হয়েছে, যেন তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘যাই হোক আজকে আমরা আপিল ফাইল করেছি। এই আপিলের নম্বরও পড়েছে। আপিল নম্বর ১৬৭৬/১৮।

আমরা আজ বারের সভাপতির (অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন) নেতৃত্বে স্লিপ দিয়েছি। কারণ দু’টি আদালত আছে এ ধরনের মামলা শুনানি করার জন্য। আমরা সিনিয়র বেঞ্চে গিয়েছি। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আমরা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করি। আমরা সেই সিনিয়র বেঞ্চে গেছি। জয়নুল আবেদীন সেই স্লিপ দিয়েছেন। সেই স্লিপ আদালত গ্রহণ করেছেন। আমাদের সব সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে তরুণ আইনজীবীরাও ছিলেন।

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম

আওয়ার ইসলাম: জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সহ-সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংসদীয় বোর্ডের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দলের সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নাসিরনগরের বিখ্যাত গুনিয়াউক পরিবারের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকরুল হোসেনের ছেলে ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।

ফরহাদ ১৯৯৩-৯৪ সালে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দুই বছরের দায়িত্ব পালনের মেয়াদে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দক্ষতার গুনে ১৯৯৩ সালে মনোনীত হন ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য পদে। পরের বছর ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নেন সদস্য হিসেবে।

১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল এই চার বছর গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে এবং ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক এর মৃত্যুতে আসনটি ফাঁকা হয়। আগামী ১৩ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এসএস/

আপিল করবে না ইসি; নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় হতাশ আওয়ামী লীগ: কাদের

আওয়ার ইসলাম: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে না নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ইসি বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসির এক সভার পর কমিশন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

হেলালুদ্দিন জানান, আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করা হবে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগও হতাশ বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লায় মহাসড়ক পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে নির্বাচনে বিজয়ের শতভাগ সম্ভবনা ছিলো। তাই নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমরা হতাশ।

স্থগিতের আদেশ নিয়ে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের হাইকমান্ডকে খুশি করতে তারা মিথ্যাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

এসএস/

আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না বলেই নির্বাচন স্থগিত করেছে: ফখরুল

আওয়াার ইসলাম: ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে সরকার জিততে পারবে না বলেই স্থগিত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার বিএনপি চেয়ারপরসন রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে সেখানে ডিসিসি উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিতের প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।

ফখরুল বলেন,  এটা নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। কারণ, তারা সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এটা আইন অনুযায়ী হয় না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সরকার যেহেতু নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানতো, অর্থাৎ তারা হেরে যাবে। এবং হেরে যাবে বলেই তারা নির্বাচন বন্ধের এই সুযোগ নিয়েছে বলে আমরা মনে করি।

এসএস/