|| মোস্তফা কামাল ||
তখনও সে মুসলমান হয়নি। দুচোখে তার রোষের আগুণ। মুসলমানরা বড্ড বাড় বেড়েছে। আর নয়, এবার বোঝাপড়া হবে তরবারিতে। ময়দানে। বদরে।
বলছি উমায়ের ইবনে ওহাব জুমাহীর কথা। বেরিয়েছিল অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে। কোমর বেঁধে। মুসলমানদের বিপক্ষে লড়াই। কিন্তু খানিক পরে..! ঘটনার মোড় ঘুরে গেল বিপরীতে।
বদর যুদ্ধ থেকে কোনরকম বেঁচে ফিরল উমায়ের। কিন্তু তার ছেলে ওহাবকে সে রেখে এসেছে মুসলমানদের হাতে বন্দি। উমায়ের পেরেশান— বাবার অপরাধে মুসলমানরা হয়ত তার ছেলেকে পাকড়াও করবে, কঠিন শাস্তি দিবে। কারণ, সেও কষ্ট দিয়েছিল নবীজিকে। সীমাহীন নির্যাতন করেছে সাহাবায়ে কেরামকে।
একদিন সকালবেলা । রক্তিম উষা উঁকি দিয়েছে মাত্র। পাখিরাও নীড় ছেড়ে বের হয়েছে খাদ্যের সন্ধানে। প্রভাতের মৃদুভাব চারদিকে ছড়িয়ে আছে। আড়মোরা ভেঙে উমায়ের গেল কাবা ঘর তাওয়াফ করতে। মুশরিকরা তখনো কাবা ঘর তাওয়াফ করত। তবে মুখে থাকে মূর্তির নাম। উপাসনা করে মূর্তির নামে। তারা একাধিক প্রভু মানে। মনে করে— এই মূর্তিগুলোই তাদের খাওয়ায়, পরায়।
সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া তখন মূর্তির পাশে বসা। তাকে দেখে যেন উমায়েরের ব্যথিত প্রাণ কিছুটা প্রশান্তি খুজে পেল। অভিবাদন জানালো তাকে—
শুভ সকাল হে কুরাইশ-সরদার!
—শুভ সকাল আবু ওয়াহাব। বসো। তোমায় দেখে প্রাণ ভরে গেল। একাকী বসে আছি। কেউ নেই। দুঃখ-কষ্ট চারদিক থেকে ঘিরে আছে। নিজেদের বাপ-দাদা, নেতা, সর্দার সবই গেল! কী করবো বুঝতে পারছি না। কিছুক্ষণ কথা বলি। বসো। গল্প ছাড়া সময় কাটে না।
উমায়ের বসলো। পাশাপাশি। দুজনে মিলে স্মৃতিচারণ করতে লাগল বদরের। পরাজিত সেই স্মৃতি। লাঞ্চনাকর সেই স্মৃতি। সেই মহাবিপদের স্মরণ আঘাত করতে লাগল তাদের মনে। কারা কারা মুহাম্মদ ও তার সাথীদের হাতে বন্দি হয়েছে— সে খবর পড়তে লাগল দুজনে। স্মৃতির রক্তিম কাগজে। নিহত কুরাইশ-নেতাদের শোকগাঁথায় ভারি হয়ে এলো তাদের বুক ।
দুঃখে-কষ্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইবনে উমাইয়া। বলল— এরপর আর বেঁচে থাকার মানে হয় না। লাঞ্চনাকর এই জীবনের চেয়ে মৃত্যুই যে বড় শ্রেয়! প্রতিত্তোরে উমায়ের বললো— 'সত্য বলেছ'। কিন্তু বলেই চুপ হয়ে গেল। কী যেন ভাবছে। নীরব হয়ে। চুপচাপ। খানিকটা সময় এভাবে কেটে গেলো। দুজনের মুখে কোন কথা নেই। পরিবেশটাও কেমন ভারি ভারি। বাতাসেরাও যেনো তাদের কষ্টের ভাগ নিচ্ছে। মৃদু বয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙ্গে উমায়ের বললো— ‘রব্বে কা'বার কসম! যদি আমার উপর ঋণের বোঝা না থাকতো, যদি পরিবার-পরিজনের ভয় না থাকতো, তাহলে নিশ্চিত মুহাম্মদের এলাকায় ছুটে যেতাম। তাকে হত্যা করতাম। তার ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা নিতাম। তার দুষ্কৃতি বন্ধ করতাম’। দুঃখে তার দু'ঠোঁট কাঁপছে। বাচ্চা শিশুর মত ঠোঁট ভেঙে আসছে।
ইবনে উমাইয়া ঘোর লাগা থেকে যেনো সম্বিত ফিরে পেলো। ধুরন্ধর চালবাজ সে। এইতো সুযোগ। উমায়েরের এই কথাকে সে গণীমত মনে করল। যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। মনে খুশির বান। খুশিতে আটখানা। এই সুযোগকে সে হাতছাড়া করতে চায় না। কোনভাবেই না। তড়িৎ তার দিকে মনোযোগ দিল। তাকে বললো— উমায়ের! তোমার সব ঋণ আমার উপর নিয়ে নিলাম। তোমার যত ঋণই থাকুক আমি তা পরিশোধ করব। তোমার পরিবারের কথা ভাবছো!—যতদিন বেঁচে থাকবো তাদেরকে নিজের পরিবার মনে করব। আমার সম্পদের প্রাচুর্য তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। তারা স্বাচ্ছন্দে জীবন-যাপন করতে পারবে।
উমায়ের কী বলবে বুঝতে পারছে না। মুখ ফসকে তো কথা বের হয়ে গেছে। এখন কী করবে। কথার খেলাফি যে চরম অসম্মানজনক! কিভাবে তা নাকচ করবে। নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে তবু বলল— তাহলে আমাদের আলোচনা এখানেই গোপন রাখো! কাউকে জানতে দিও না!
তাদের কথা শেষ হলো। উমায়ের উঠলো। হিংসার আগুন তার মনে। সে জ্বলছে। মুহাম্মদের প্রতি তার চরম ক্ষোভ। একবার সুযোগ যদি পেত!
সকাল ফুরিয়ে সন্ধ্যা আসে। সন্ধ্যা ফুরিয়ে রাত। উমায়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো। প্রতিজ্ঞা তার বাস্তবায়ন করে তবেই ক্ষান্ত হবে।
তরবারি প্রস্তুত করতে বললো। শান দেওয়া হল। বিষ মাখানো হলো। আরোহন-জন্তু উপস্থিত। সাওয়ার হলো। ঘোড়া হাকালো মদিনার দিকে। মনে তার প্রচন্ড বিদ্বেষ। মুহাম্মদকে হত্যার পরিকল্পনা।
কিন্তু আল্লাহ তাআলার পরিকল্পনা তো ভিন্ন কিছু। তিনি কোথায় কিভাবে কার নসিব লিখে রেখেছেন, তিনিই ভালো জানেন।
মদিনায় পৌঁছল উমায়ের। মনে শত পরিকল্পনা। আস্তে আস্তে অগ্রসর হচ্ছে নবীজিকে হত্যার উদ্দেশ্যে। নবীজির দরজায় পৌঁছে ঘোড়ার লাগাম টানলো। ঘোড়া থেকে নামলো।
ওদিকে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। ফারুক যার উপাধি। হক বাতিলের পার্থক্যকারী যিনি— হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। কয়েকজন সাথী নিয়ে বসে আছেন মসজিদের দরজায়। বদর নিয়ে আলোচনা করছেন। বিজিত বদর। আলোচনা করছেন কুরাইশের বন্দি ও নিহতদের ব্যাপারে। মুহাজির ও আনসারের বীরত্ব, আল্লাহ তাআলার নুসরত, শত্রুদের মনে ভয়-ভীতি ও বঞ্চনা — ইত্যাদির স্মৃতিচারণ করছিলেন।
ওমরের দৃষ্টির পরিবর্তন ঘটল। চোখ পড়লো উমায়েরের দিকে। দেখলেন ঘোড়া থেকে নামছে সে। তরবারি তার ঝুলন্ত। মসজিদের দিকে অগ্রসরমান। ওমর দাঁড়িয়ে গেলেন। চিৎকার করে বললেন— এই কুকুর তো আল্লাহর দুশমন! এ তো উমায়ের ইবনে ওহাব!
আল্লাহর কসম! সে নিশ্চয়ই কোন খারাপ মতলব নিয়ে এসেছে। মক্কায় সে আমাদের বিপরীতে মুশরিকদের প্রাধান্য দিয়েছে। বদরের পূর্বে তাদের গুপ্তচর ছিল। সাথীদেরকে বললেন— তোমরা রাসূলের কাছে যাও। তার পাশে থাকো। সতর্ক থাকবে। যেনো এই বেইমান কোনরূপ প্রতারণা করতে না পারে।
ওমর তাড়াতাড়ি নবীজির কাছে আসলেন। বললেন— ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে আল্লাহর দুশমন উমায়ের। আমি মনে করি সে কোন খারাপ উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছে"। নবীজি প্রশান্ত। অস্থিরতা তাকে স্পর্শ করেনি। শান্ত স্বাভাবিক কন্ঠে বলেন— তাকে আসতে দাও। ওমর তার সামনে গেলেন। গলায় ছুরি ধরে নবীজির কাছে নিয়ে আসলেন।
নবীজি উমায়ের ইবনে ওহাবের সামনাসামনি হলেন। বললেন— উমায়ের কাছে আসো। সে কাছে এসে বলল— সুপ্রভাত হে মুহাম্মদ! নবীজির স্থির উত্তর— আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উত্তম অভিবাদনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। আমাদেরকে সালাম শিক্ষা দিয়েছেন। সালামই হবে জান্নাতীদের অভিবাদন। উমায়ের বললো— আপনি মনে রাখবেন আপনি আমাদের অভিবাদন থেকে দূরে না। আপনি এখন মাত্র সূচনাতে আছেন!
নবীজি বললেন— উমায়ের কেন এসেছ? নবীজির প্রশ্ন শুনে সে অস্থির। কী উত্তর দিবে খুঁজে পাচ্ছে না। এদিক সেদিক না ভেবে উত্তর দিল— আপনার কাছে আমাদের যেসকল বন্দি আছে তাদের মুক্তির জন্য এসেছি। তাদের সাথে উত্তম আচরণ করুন। আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।
নবীজির তো বোঝার বাকি নেই। ওহির মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা নবীজিকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও তাকে একবার জিজ্ঞেস করলেন— ‘তাহলে তোমার কাঁধে এই তরবারি যে'!
উমায়ের কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। এমনিতেই এই তরবারির উপর তার চরম ক্ষোভ। বদরের যুদ্ধে এই তরবারি তাদের পক্ষে কথা বলেনি। পরাজয়ের গ্লানি তাদের ললাটে ছেপে দিয়েছে। জেদের পাহাড় মাথায় নিয়ে বললো— ধুর এই তরবারি! এই তরবারি কি বদরের দিন আমাদের কোন কাজে লেগেছিল!
নবীজি সত্যটা জানেন। সে সত্য উপেক্ষা করার ক্ষমতা তার নেই। তাকে নিজের মুখে স্বীকার করানোর জন্য আবার জিজ্ঞেস করলেন— উমায়ের! সত্য বলো কেন এসেছ?
—আমি কেবল এই উদ্দেশ্যেই এসেছি।
নবীজি এবার স্থির হলেন। বললেন— তুমি সত্য বলোনি। তোমার উদ্দেশ্য তো ছিল ভিন্ন কিছু। আমি বলছি, তুমি কেন এসেছ। বলে নবীজি তার আসল উদ্দেশ্য বলতে শুরু করলেন- ‘তুমি আর সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া বসা ছিলে কাবার পাশে। আলোচনা করছিলে বদরে কুরাইশদের নিহতদের সম্পর্কে। তুমি বললে— যদি আমার উপর ঋণের বোঝা না থাকতো, যদি আমার পরিবার পরিজনের আশঙ্কা না থাকতো, তাহলে নিশ্চিত আমি মুহাম্মদকে হত্যা করতাম। সফওয়ান ইবনে উমাইয়া আমাকে হত্যা করতে তোমার ঋণ এবং পরিবার পরিজনের দায়িত্ব নিল।’
নবীজি কথাগুলো বলছেন। এদিকে উমায়ের যেন হতবাক হয়ে গেল। এ কিভাবে সম্ভব! যেই কথা আমি আর ইবনে উমাইয়া ছাড়া কোন কাকপক্ষিও জানে না, সেই কথা মুহাম্মদ কিভাবে জানলো?
উমায়েরের মনে কিছুটা হেদায়েতের নূর ছড়াতে শুরু করলো। সে ভেবে পায় না— এটা কিভাবে সম্ভব! এ তো আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয়! নিশ্চিত আল্লাহ তাআলাই তাকে জানিয়েছেন। উমায়ের ক্ষণিকের জন্য দিশেহারা হয়ে গেল। চিৎকার করে বলে উঠলো— আশহাদু আন্নাকা রাসূলুল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল!
হেদায়েতের আলোয় পূর্ণ আলোকিত হলো উমায়েরের মন। সত্যের ছোঁয়ায় যেন সজীব হয়ে উঠলো তার তৃষ্ণার্ত প্রাণ।
এরপর সে বলতে লাগল— হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদেরকে যে আসমানের সংবাদ বলতেন আমরা তা মিথ্যা মনে করতাম। আপনার উপর যেই ওহী আসতো আমরা তা মিথ্যা মনে করতাম। কিন্তু সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া ও আমার মাঝে যে কথোপকথন হয়েছে তা কেবল আমি আর সে ছাড়া কেউ জানতো না। আল্লাহর কসম! আমি এখন এটা নিশ্চিত বিশ্বাস করছি যে— এটা আল্লাহই আপনাকে জানিয়েছেন। শুকরিয়া ওই সত্ত্বার, যিনি আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছেন। ইসলামের পথে হেদায়েত করার জন্য। বিশ্বাসের সুর উঁচিয়ে সে পড়ল—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
উমায়ের ইবনে ওহাব মুসলমান হয়ে গেলেন। নবীজি সাহাবায়ে কেরামকে বললেন— তোমরা তোমাদের ভাইকে দ্বীন শিক্ষা দাও। কোরআন শিক্ষা দাও। তার পরিবারসহ বন্দিকে মুক্ত করে দাও। মুসলমানগন উমায়ের ইবনে ওয়াহাব এর ইসলাম গ্রহণে সীমাহীন আনন্দিত হলেন। তাদের মাঝে যেন আজ খুশির উৎসব। মনে মনে সবাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। আনন্দের আতিশয্যে সবাই বললেন—আলহামদুলিল্লাহ। হযরত ওমর তো বলেই ফেললেন— একটা শূকরও আমার কাছে অধিক ভাল ছিল উমায়ের ইবনে ওয়াহাব থেকে। আর আজ সে আমার কাছে আমার ছেলের চাইতেও প্রিয়তম।
উমায়ের এখন দ্বীন শিখছেন। ইসলাম শিখছেন। কুরআনের আলোয় নিজের অন্তরকে পূর্ণ করছেন। নিজেকে তিনি পরিশুদ্ধ করছেন। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ দিন অতিবাহিত করছেন।
ওদিকে সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া হাজারো আশায় বুক বেঁধে আছে। কুরাইশের উপত্যকায় ঘুরে ঘুরে ঘোষনা করছে— তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এক মহাসংবাদের, যা তোমাদের কাছে অচিরেই আসছে। যা তোমাদেরকে বদরের ঘটনার দুঃখ ভুলিয়ে দেবে।
বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি। অপেক্ষার প্রহর খুব বেশি প্রলম্বিত হয়নি। তার উৎকন্ঠা উদ্বিগ্নতায় রূপ নিল। অবস্থা এমন দাঁড়াল— যেন জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর সে অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছে। রাস্তায় পথিক যাকে পাচ্ছে তাকেই সে উমায়ের ইবনে ওহাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। কারো কাছে কোন সন্তোষজনক উত্তর সে পায় না।
হঠাৎ একদিন এক আরোহী আসলো। সংবাদ দিল— উমায়ের মুসলমান হয়ে গেছে! সফওয়ান ইবনে উমাইয়ার ওপর যেন বজ্রপাত হল। সে মনে করতো— যমিনের সবাই মুসলমান হয়ে গেলেও উমায়ের কখনোই মুসলমান হবে না। সে ভেবেছিল— উমায়েরের হৃদয়ভূমি এক আশাহীন মরীচিকা। কিন্তু তার ভেতর যে লুকিয়ে ছিল ঈমানের উর্বর সম্ভাবনা— তা দেখার শক্তি কি কারো আছে? আল্লাহ যখন চান, আশাহীন শক্ত অবিশ্বাস ফুঁড়েও ফুটতে পারে ঈমানের ফুল। উমায়ের সাক্ষী।
বাইতুল আমান মদীনাতুল উলুম মাদরাসা, খিলগাঁও, ঢাকা।
এমএইচ/