|| নাঈমুর রহমান নাঈম ||
মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য ও প্রশান্তি আল্লাহ তাআলার স্মরণে নিহিত। আর আল্লাহ তাআলার স্মরণ ও প্রশংসার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য কিছু বিশেষ বাক্য নির্ধারণ করেছেন, যেগুলো বলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়। যা হলো: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এবং আল্লাহু আকবর। প্রতিটি বাক্যের গভীর অর্থ ও তাৎপর্য রয়েছে, যা একজন মুসলমানের ঈমানকে মজবুত করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সাহায্য করে।
১. সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ اللَّهِ)
‘সুবহানাল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো ,আল্লাহ সমস্ত অপূর্ণতা থেকে মুক্ত, তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহিমান্বিত। এটি পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশুদ্ধতা ঘোষণা করা হয়। এই বাক্য পাঠ করা দ্বারা চিন্তাভাবনা পরিশুদ্ধ হয় এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও যেকোনো উত্তম, আনন্দময় ও শুভ খবরে ভালো কিছুর জন্য এটি বলা হয়ে থাকে। পছন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হয়।
২. আলহামদুলিল্লাহ (الْحَمْدُ لِلَّهِ)
‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো ,সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এটি দ্বারা আমরা স্বীকার করি যে জীবনের প্রতিটি ভালো ও মন্দ মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। এই বাক্য পাঠ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। ভালো কোনো খবর শুনলে আলহামদুলিল্লাহ বলা সুন্নত।
৩. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ইসলামের মূল ভিত্তি। এর অর্থ হলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।’ এটি তাওহীদের মূল বাক্য, যা একজন মুসলমানের ঈমানের মূল ভিত্তি। এই বাক্য পাঠ করলে ঈমান মজবুত হয় এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতা সৃষ্টি হয়।
৪. আল্লাহু আকবর (اللَّهُ أَكْبَرُ)
‘আল্লাহু আকবর’ এর অর্থ হলো ,আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার কোনো কিছুরই আল্লাহর তুলনায় কোনো মূল্য নেই। এই বাক্যটি ঈমানকে দৃঢ় করে এবং জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখায়।
আল্লাহ তায়ালার এই চারটি প্রিয় বাক্য শুধু উচ্চারণের জন্য নয়, বরং এগুলো অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে হবে এবং আমলে পরিণত করতে হবে। এটি আত্মার পরিশুদ্ধি এবং জান্নাতের পথ সুগম করার মাধ্যম। এই বাক্যগুলো বেশি বেশি পাঠ করলে আমাদের ঈমান মজবুত হয়, গুনাহ মাফ হয়, এবং জান্নাত লাভের আশা বৃদ্ধি পায়। তাই, প্রতিদিন এই মহান বাক্যগুলো বেশি বেশি বলা উচিত এবং জীবনে এর শিক্ষা অনুসরণ করা উচিত।
এনআরএন/