নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে: বিবিএস
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০৮:৪৫ রাত
নিউজ ডেস্ক

গত এক দশকে দেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। দশ বছর আগে ২০১৫ সালে যৌন সহিংসতা ছিল ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে যৌন সহিংসতা বাড়লেও শারীরিক সহিংসতা কমেছে।

বৃহস্পতিবার(২৭ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের অডিটোরিয়ামে নারীদের ওপর সহিংসতা শীর্ষক জরিপ ২০২৪ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সহায়তা করেছৈ জাতিসংঘের ইউএন এফপিএ।

প্রতিবেদনে বলা  হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে জীবনসঙ্গীর দ্বারা সহিংসতা এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান, যা লাখ লাখ নারীর জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।

জরিপে চার ধরনের সহিংসতার কথা তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- শারীরিক সহিসংতা, যৌন, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সহিসংতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী আইনের আশ্রয় নেয়। বাকি ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এ ছাড়া সহিংসতার শিকার ৬৪ শতাংশ নারী তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা কারো সঙ্গে শেয়ার করে না।

আরও বলা হয়, এ সমস্যা বাংলাদেশে এতটাই প্রকট যে, প্রায় ৭০ ভাগ নারী তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন। ৪১ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে গত ১২ মাসে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো জাতিসংঘের মানসম্পন্ন পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতার বিস্তার পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এমন সহিংসতামূলক আচরণগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে এই সহিংসতার ব্যাপকতা আরও বেশি হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আকতার। 

অতিথি ছিলেন ইউএনএফপিএ’র রিপ্রেজেনটেটিভ মাসাকি ওয়াটাবে এবং অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লাইনটন পবিক। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার করিম। প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপঙ্কর রায়।

মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, মানসিকতার কারণে ভায়োলেন্স বাড়ছে। ইউরোপ আমেরিকার মতো জায়গায়ও নারীর প্রতি সহিংসতা রয়েছে। হজের সময় নারী পুরুষ সবাই থাকে কিন্তু সেখানে সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটে না। কারণ, সেখানে তাদের ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকে, তাদের মাথায় সহিংসতার কোনো চিন্তাই আসে না। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে মানসিক পরিবর্তন দরকার।

এমএম/