সুরা ফাতেহার ফজিলত
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ০২:২৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| ‍মুহিউদ্দীন মাআয ||

সুরা ফাতেহা। পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা। এই সুরা আল্লাহ তায়ালা পূর্ণরূপে প্রথম নাজিল করেন। রাসুলুল্লাহ সা. এই সুরাকে ‘উম্মুল কুরআন’ অর্থাৎ কোরআনের মা বলেছেন। এই সুরা সকল রোগের শেফা বলেও সুসংবাদ দিয়েছেন রাসুল (সা.)। 

হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা রা: বর্ণনা করেন, একদা হজরত রাসূল সা: বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তারপর যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবেন বলেছিলেন। তিনি বললেন, তা হলো সূরা ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ এটিই সেই সাতটি পুনঃ আয়াত এবং আমাকে প্রদত্ত মহা কুরআন। (বুখারি, হাদিস ৫০০৬)

অন্য এক হাদিসে আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, কয়েকজন সাহাবি আরবের এক গোত্রে এলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোনো মেহমানদারি করল না। হঠাৎ ওই গোত্রের নেতাকে সাপে কাটে। তখন তারা এসে সাহাবিদের বলল, আপনাদের কাছে কি সাপে কাটার কোনো ওষুধ আছে? আমরা উত্তর দিলাম, হ্যাঁ, আছে। তবে শর্ত হলো, তোমরা আমাদের মেহমানদারি করবে। আমরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। তারা মেহমানদারি করতে রাজি হল। এছাড়া আমরা তাদের কাছে একপাল বকরি দাবি করি। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কোরআন অর্থাৎ সূরা ফাতেহা পড়ে মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির ক্ষতে মেখে দেন। ফলে বিষ নেমে যায় এবং সে সুস্থ হয়ে যায়।

সাহাবিরা খাওয়া-দাওয়া করে নবী করিম (সা.)-এর কাছে বকরিসহ ফিরে এলেন। তারা রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, তাদের এ ধরনের কাজ ঠিক হল কি না। নবী (সা.) শুনে মুচকি হেসে বললেন, ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং আমার জন্য একটি অংশ রেখে দিও।’ (বুখারি, হাদিস-২২৭৬) 

আসুন জেনে নিই এই পবিত্র সূরা ও তার অর্থ-

 بسمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ - الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ (1) الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (2) ملِكِ يَوْمِ الدِّينِ (3) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (4) اهْدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ (5) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عليهِمْ (6) غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)

অর্থ: 

দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। 

১. সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই

২. যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু,

৩. বিচার দিবসের মালিক। 

৪. আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি শুধু তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি,

৫. আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,

৬. তাদের পথ, যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছো,

৭. তাদের (পথ) নয় যারা ক্রোধে নিপতিত ও পথভ্রষ্ট। 

সুরা ফাতিহার আমল

সুরা ফাতিহাকে রাসূল (সা.) সকল রোগের মহৌষধ বলেছেন। (মিশকাত-২১৭০) এছাড়া বহু হাদিসে সুরা ফাতিহার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। 

হজরত জাফর সাদেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, সুরা ফাতেহা পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রন্ত লোকের মুখমণ্ডলে ছিঁটিয়ে দিলে জ্বর ভালো হয়ে যাবে।(তাওয়ারিখে মাদিনা)

এ সুরা ৪০ দিন নিয়মিত তেলাওয়াত করে পানিতে ফুঁ দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করালে আল্লাহ অসুস্থতা দূর করে দেবেন।

ফজরের নামাজের সুন্নত ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ৪১ বার এ সুরা পাঠ করে চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যথা দূর হয়।

শেষ রাতে এ সুরা ৪১ বার তেলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বাড়িয়ে দেন।

এমএইচ/