150258

ছাত্রীর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ, পলাতক কোচিং সেন্টারের পরিচালক

আওয়ার ইসলাম: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কোচিং সেন্টার পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত ১২ই এপ্রিল দুপুরে নিজ বাসায় একা পেয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে কোচিং সেন্টারের পরিচালক।

ধর্ষিতাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে গত ১৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাড়ি ফিরেছে মেয়েটি।

ধর্ষণের ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেছেন। পলাতক রয়েছে কোচিং সেন্টারের পরিচালক সাইফুল। সাইফুল গোপনে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছেন বলে স্কুলছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছেন।

মামলার এজাহার ও ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম কিছু দিন আগে উত্তর আমিরাবাদে সৃজনশীল নামের একটি কোচিং সেন্টার খুলেন। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী, তার বোন ও দুই ভাইকে ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সেই থেকে সাইফুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিবারের যোগসূত্র তৈরি হয়।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ঘটনার আগের দিন আমি বিশেষ কাজে আমার বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাই। ১২ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সাইফুল ইসলাম আমাকে ফোন করেন। আমি কোথায় জানতে চাইলে আমি বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আছি বলে জানাই।

এরপর তিনি আমাদের ঘরে এসে আমার মেয়েকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে গুরুতর আহত করেন। এ সময় আমার মেয়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সাইফুল পালিয়ে যান।

পরে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ১৮ এপ্রিল আমার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

এরই মধ্যে ১৫ এপ্রিল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সহযোগিতায় লোহাগাড়া থানায় মামলা করি। কিন্তু পুলিশ এখনো আসামি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে আসামি আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ রুদ্র বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। সে যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য আমরা বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসমূহে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছি। আশা করি, ধর্ষক দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।

এমএম/

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *