142962

‘কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার মূলধন ছাত্র-উস্তাদের সম্পর্ক’

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

কওমি মাদরাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু শ্রেণীকক্ষে আবদ্ধ থাকে না। বরং একজন উস্তাদ ও ছাত্রের মাঝে থাকে আত্মার সম্পর্ক। তালিম-তরবিয়াত, আদব-আখলাখ ইত্যাদি বিষয়ে ছাত্রের প্রতি উস্তাদের সজাগ দৃষ্টি থাকে সবসময়। ছাত্ররাও শিক্ষকের সঙ্গে স্থায়ী ও দৃঢ় সম্পর্ক রাখেন।

ছাত্ররা একজন আদর্শ উস্তাদের কাছে বিশেষ সোহবত গ্রহণ করে। বিভিন্ন ইলমি বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণ করা, ইলমী সমস্যাবলির সমাধানের জন্যে উস্তাদের শরণাপন্ন হওয়া এবং দুয়া লাভ করা ইত্যাদি বিষয়ে একজন তালিবে ইলম সবসময়ই সজাগ-সচেতন থাকেন। আমাদের পূর্বসূরী আকাবির এই রীতির উপর নিষ্ঠার সাথে যত্নবান ছিলেন।

কওমি মাদরাসার পরিভাষায় এই রীতি বা পদ্ধতিকে ‘তালিমে মুরুব্বি’ গ্রহণ করা বলা হয়। গত কয়েক বছর পূর্বেও কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইলমী ফায়েদার জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন।

কিন্তু বর্তমানে মাদরাসাগুলোর চিত্র এমন- শিক্ষার্থীরা তাদের ইলমি ও আমলি উন্নতির জন্য তালিমে মুরুব্বি গ্রহণের প্রবনতা কিছু ভাটা পড়েছে। এমনকি শ্রেণীকক্ষের বাইরের উস্তাদের সঙ্গে তেমন কোনো বিশেষ সম্পর্কও গড়ে উঠছে না।

এই মুহুর্তে প্রশ্ন উঠছে, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী কি শুধু শ্রেণীকক্ষের ছাত্র হতে অভ্যস্থ হচ্ছে?

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ বসুন্ধরা ইসলামী রিসার্স সেন্টারের মুহতামিম মাওলানা আরশাদ রাহমানী  একজন মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রের জন্য তালিমে মুরুব্বির সোহবত গ্রহণ খুবই জরুরি বলে মনে করেন। তালিমে মুরুব্বির পরামর্শ ছাড়া ছাত্র জীবনে অনেক শিক্ষার্থীই ভুল পথে পা বাড়ায় বলেও জানান এই শিক্ষাবিদ আলেম।

তিনি বলেন,  “প্রতিটি তালিবে ইলমের জন্য তালিমে মুরুব্বির প্রয়োজন রয়েছে। একজন ব্যক্তিকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে মুশীর মানতে হয়। চাই সেটা ইলমী বিষয়ে হোক অথবা আমলী বিষয়। তালিমে মুরুব্বি ছাড়া দীনী ইলম অর্জনে গভীরতা তৈরি হয় না। ছাত্র জীবনে তালিমে মুরুব্বি নির্ধারণ করা ইলমের অন্যতম আদব ।”

এছাড়া তালিমে মুরুব্বিহীন ছাত্র খুব সহজেই শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে এবং ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে জীবনের মূল্যবান সময়কে বিপথে নষ্ট করে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা তালিমে মুরুব্বি নির্ধারণ করা নিয়ে একটি প্রশ্নের মাঝে ঘুরপাক খায় যে সে তালিমে মুুরুব্বি হিসেবে কোন শিক্ষককে নির্বাচন করবে?

এ বিষয়ে জামিয়া ইসলামিয়া আজমিয়া দারুল উলুম রামপুরা’র মুহতামিম মাওলানা ইয়াহইয়াহ মাহমুদ বলেন, রাজনীতিবিমুখ এবং কিতাবমুখী একজন শিক্ষকই তালিমে মুরুব্বি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি একজন বুযুর্গের দীর্ঘ সোহবতে থেকেছেন এমন আলেম, মুহাদ্দিস তালিমে মুরুব্বি হতে পারেন।

তিনি বলেন, এমন কাউকে তালিমে মুরুব্বি হিসেবে গ্রহণ করলে, শিক্ষার্থী ইলমের প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তার পরামর্শ মেনে চললে সফলতা অর্জন করবেন।

তিনি আরও বলেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক এবং মূলধন হলো ছাত্র-উস্তাদের ভালো সম্পর্ক। শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ঘাটতির কারণে অকালে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। প্রত্যেক ছাত্রের তালিমি মুরুব্বি থাকলে ঝরে পড়ার হার কমে যাবে। বললেন মাওলানা ইয়াহইয়াহ মাহমুদ ।

আরএম/

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *