২০১৮-১১-২০

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় লড়ছেন?

OURISLAM24.COM
news-image

সুলাইমান সাদী: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য ৩০০ আসনে সংসদ পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে কোনো জোটের অধীন না আসা ইসলামভিত্তিক বৃহৎ রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

গত রবিবার আইএবি মিলনায়তনে দিনব্যাপী মনোনয়নপত্র প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৩০০ আসনের মনোনয়ন সম্পন্ন করেছে দলটি।

এবারের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে সারাদেশের জনপ্রিয় প্রতিনিধিরা নিজ নিজ আসনে লড়ছেন। ৩০০ আসনের সবগুলো মনোনয়ন বিলি করে দলটি পুরোপুরিভাবে নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত। নেতৃবৃন্দ যার যার এলাকায় জোরালো প্রচারণায় নেমে পড়ছেন।

দেশে ইসলাম, ন্যায়নিষ্ঠা, আদর্শ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়বেন বলে দাবি করছেন।

দলের শীর্ষ নেতারাও পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল সদরে তিনি হাতপাখার প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া ঝালকাঠি-২ আসনে ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলায় দলের প্রতীক নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের আরেক নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আবদুল আউয়াল খুলনা-২ ও খুলনা-৬ আসনের মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন। দলটির শীর্ষ এ নেতা খুলনা-২ আসনের খুলনা সদর মেট্রোপলিটন থানা ও সোনাডাঙ্গা মেট্রোপলিটন থানায় দলের প্রতীকে লড়বেন।

এছাড়া খুলনা-৬ আসনের কয়রা ‍উপজেলা ও পাইকগাছা উপজেলায়ও হাতপাখারা প্রতীক নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

দলের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ পেয়েছেন খুলন-৪ আসনের মনোয়ন। তিনি এ আসনের দিঘলিয়া, রুপসা ও তেরখাদা উপজেলায় হাতপাখায় নির্বাচন করবেন।

দলটির পক্ষে ঢাকা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নং ওয়ার্ড ও শ্যামপুর থানাধীন শ্যামপুর ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকে লড়বেন।

দলটির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী পেয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনয়ন। তিনি এ আসনের রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় হাতপাখা প্রতীকে লড়বেন। এর আগেও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন।

গাজীপুর-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি এ আসনের ৩৯ ও ৪২ নং ওয়ার্ড এবং সদর ও কালিগঞ্জ উপজেলায় দলের প্রতীকে লড়বেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার শেখ মারুফ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি আলহাজ আবদুর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা-৭ আসন থেকে। এর আগে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করে আলোচনায় এসেছিলেন।

চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন দলের চট্টগ্রাম জেলা-সভাপতি মাওলানা মো: আতিকুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি এ আসনের ফটিকছড়ি উপজেলায় হাতপাখা নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

কুমিল্লা-৩ আসন থেকে হাতপাখার মনোনয়ন নিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আমেলা মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার করে যাচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব আন্দোলনের সভাপতি কে এম আতিকুর রহমান মুন্সিগঞ্চ-১ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এ আসনের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায় পীর সাহেব চরমোনাইয়ের পক্ষে হাতপাখায় নির্বাচন করবেন।

এছাড়াও বরিশাল-৪ আসনে  মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল করীম, মাদারীপুর-৩ আসনে সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকি, নোয়াখালী-২ মাওলানা খলিলুর রহমান, মাদারীপুর-২ আসনে লোকমান হোসাইন জাফরী হাতপাখার প্রতীকে দলের পক্ষে লড়বেন।

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলনের আমির হিসেবে যিনি থাকেন তিনি সাধারণত কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন না। এ নিয়ম দলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চলে আসছে।

‘আমরা ক্ষমতায় গেলে কেবল মানুষ নয়, পশু পাখি সবাই অধিকার পাবে’

আরআর