২০১৮-১১-১৭

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ধর্ম কখনো ভাগ হয় না: আল্লামা আনোয়ার শাহ

OURISLAM24.COM
news-image

মাহমুদুল হাসান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহতামিম আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ বলেছেন, বর্তমান তাবলীগ জামাতে যে বিভেদ চলছে, উলামায়ে কেরাম আর এতাআতি, মসজিদে মসজিদে মারামারি, আলাদা আলাদা মারকায, এখন এই বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনের একটাই বক্তব্য ধর্মের নামে এতো বিভেদ কেন? এরাও ধর্ম করবে আপনারাও ধর্ম করবেন এতো বিভেদ কেন?

তাদের এই জ্ঞান ততোটা নেই, যে জ্ঞানটা হলে পরে এদের বুঝানো যায়। বুঝার জন্যও একটা জ্ঞান লাগবে, বিরোধটা কেন হচ্ছে! এখানে কুরআনের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। কুরআন বলছে, হেদায়েতে আল্লাহর হাতে, মৌলভী সাদ বলছেন হেদায়েত নবীর হাতে, কুরআন বলছে আসহাবে কাহাফের সাথে কুকুর ছিল আর তিনি বলছেন, বাঘ ছিল। এটা কি ধর্ম হয়! ধর্ম কখনো ভাগ হয় না।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে ১৬ নভেম্বর (শুক্রবার) আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ জুমার বয়ানে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হক আর বাতিল এক সাথে থাকতে পারে না, সামনে নির্বাচন প্রশাসন কোন ঝুঁকি নিতে চায় না, আমরা চাইলে যে কোন কিছু করতে পারি। কিন্তু আমরা যদি সুলহে হুদাইবিয়ার দিকে তাকিয়ে আপাতত সুলেহ (সন্ধি) করে নেই, যেভাবে রাসুল সা. মক্কার কাফেরদের সাথে করেছিলেন, হিজরি ষষ্ট সনে রাসুল সা. স্বপ্নে দেখলেন, তিনি সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে কাবা ঘর তওয়াফ করছেন।

আর নবীদের স্বপ্ন সাধারণত সত্যি হয়ে থাকে। তিনি সাহাবায়ে কেরামদের সামনে এ স্বপ্ন ব্যক্ত করলেন, সাহাবায়ে কেরাম স্বপ্ন শুনে আনন্দিত হয়ে গেলেন, সবাই প্রস্তুতি নিতে লাগলেন।

হিজরী ৬ষ্ট সনে রাসুল সা সাহাবায়ে কেরামদের সাথে নিয়ে কাবা ঘর তওয়াফ করার জন্য রওনা দিলেন। মক্কা থেকে ২০ মাইল দূরে যে জায়গার নাম হুদাইবিয়া সেখানে আসলেন। অপর দিকে মক্কার কাফেররা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লো সাহাবায়ে কেরামদের মুকাবিলা করার জন্য, ঐ সময় সাহাবায়ে কেরামগণ হুদাইবিয়া নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন।

রাসুল সা. হযরত উসমান রা. কে দূত হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন কাফেরদের সাথে আলোচনা করার জন্য, এদিকে শয়তান এক কথা রটিয়ে দিলো উসমান রা কে কাফেররা শহীদ করে দিয়েছে।

এই খবর রটানোর পর রাসুল সা. সাহাবাদের ডেকে বললেন, এখন আর বসে থাকার সময় নেই আসো জিহাদের জন্য বায়াত হও এখন আর বসে থাকার সময় নেই অতপর সাহাবায়ে কেরাম রাসুল সা. এর হাতে বায়াত হলেন।

এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করলেন এই বায়াত করার কারণে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন।

জিহাদ করতে আল্লাহ তাআলা কবুল করে জিহাদের আগেই ঘোষণা দিয়ে দিলেন, জিহাদ তো করবে আমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমি ঘোষণা দিয়ে দিলাম আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট। এর মধ্যে খবর আসলো উসমান শহীদ হয়নি এটা একটা গুজব ছিলো এরপর সাহাবায়ে কেরাম শান্ত হলেন।

কাফের আর মুসলমানদের মধ্যে সন্ধি হলো, মদিনা থেকে কেউ মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে না কিন্তু মক্কা থেকে কেউ গেলে ফেরত দিতে হবে।

এই বছর তোমরা উমরা পালন করতে পারবে না আগামী বছর উমরা করতে আসবে, তোমাদের অস্ত্রগুলো খোপের ভেতরে থাকবে, বের করতে পারবে না।

উমর রা. সহ্য করতে না পেরে বললেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ আমরা কি হকের ওপর নয়! আর তারা কি বাতিলের উপর নয়!

রাসুল সা বললেন হ্যাঁ। উমর রা. বললেন, তাহলে এতো শর্ত মেনে আমরা কেন সন্দি করবো? রাসুল সা. বললেন, আল্লাহ্‌র হুকুম এটাই।

এ সন্ধির পর যখন রাসুল সা. সাহাবাদের নিয়ে মদিনায় ফিরে আসছিলেন পথে সূরা ফাতাহ নাজিল হয়, তিনি উমর রা. কে ডেকে উক্ত সূরা শুনিয়ে দিলেন। উমর রা. বললেন, হুজুর এটার নাম কি বিজয়? রাসুল সা. বললেন, এটাই বিজয়।

এ ঘটনা আমাদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত, সময়ে সময়ে তোমাদের একটু নেমে যেতে হবে। সময়ে সময়ে এমন কিছু করতে হবে যা তোমাদের মন চাচ্ছে না। কিন্তু এর মধ্যে আমি এমন কিছু রেখেছি যার ফলাফল তোমরা পরে দেখবে।

সেই দিক বিবেচনা করেই আপাতত বিষয়টি পেন্ডিং হয়েছে। বাকি ফায়সালা নির্বাচনের পর হবে ইনসাআল্লাহ।

আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ বলেন, আমরা সুলহে হুদাইবিয়ার দিকে তাকিয়ে আপাতত কিছু সময়ের জন্য একটু ধৈর্য ধারণ করি, ইনশাআল্লাহ দেখা যাবে খুব তাড়াতাড়িই জিনিসটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যারা দীনের জন্য তারা দীন বুঝবে, আর যারা দুনিয়ার জন্য তারা দুনিয়া বুঝবে।

‘ইসলামের তিনটি বিধান মেনে চলেলে কখনো ডায়াবেটিস হবে না’

আরআর