২০১৮-১১-০৭

মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

কিয়ামতের ভয়াবহ শাস্তি থেকে কিভাবে বাঁচবো?: মুফতি মনসুরুল হক

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: ব্যবসায়ীরা বছরের শুরু ও শেষে হিসাব-নিকাশ করে। মিলিয়ে দেখে তার কতটুকু লাভ হল আর কতটুকু লোকসান হল। ব্যবসায়ী জীবনে সে সফল নাকি ব্যর্থ  তা যাচাই করে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন একমাত্র তার উপাসনা করার জন্য।

আমরা কি হিসাব-নিকাশ করে দেখি যে, আমরা আল্লাহ তায়ালার উপাসনা সঠিকভাবে করছি কিনা? রাসূল যেভাবে চলতে বলেছেন সেভাবে চলছি কিনা? যদি জীবনের হিসাব না করি তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে আমাদের।

আল্লাহ আয়ালা আমাদেরকে জীবন দিয়েছেন দ্বীনের জন্য কষ্ট-মুজাহাদা করার জন্য। সম্পদ দিয়েছেন তা দ্বীনের পথে ব্যয় করা, দ্বীন শিখা ও দ্বীন কায়েম করার জন্য। আমাদের জীবন এবং সম্পদ দুইটাই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে হবে।

আমাদের হিসাব মিলাতে হবে। একটি বছর কিভাবে কাটালাম, কি কাজ করলাম, কি আমল করলাম, সবকিছু হিসাব করতে হবে।ইসলাম আমি সঠিকভাবে মানছি কিনা? কতটুকু মানছি? কুরআন হাদিসে বর্নিত পদ্ধতিতে আমার আমল হচ্ছে কী? সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে।

বোখারী শরীফের এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, রাসূল সা. বলেন, শেষ জামানায় সকালে মানুষ মুসলমান থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় সে কাফের হয়ে যাবে। আজ আমরা না জেনে অনেক কথা বলে ফেলি। কোনো কথার দ্বারা আমার ইমান নষ্ট হল কিনা তাও খেয়াল রাখতে হবে। নিজের অজান্তে যেন আমি কুফরি করে না বসি। সেদিকে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হবে।

আমার অজু, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত রাসূল সা. যেভাবে বলেছেন সেভাবে হচ্ছে কিনা  সেদিকে নজর রাখতে হবে। যদি আমি এটা না বুঝতে পারি তাহলে আলেমদের শরনাপন্ন হতে হবে।

আমার উপার্জন হালাল কি না। আমি যে রিজিক  আমার স্ত্রী, সন্তানদের জন্য ব্যবস্থা করছি সেটা হালালপন্থায় উপার্জন করেছি না হারাম পন্থায়? আমাদের চাকরী-বাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক আছে কি? এগুলো যদি হালাল না হয়।

তাহলে কিয়ামতের মাঠে বড় নাজেহাল ্অবস্থায় পড়তে হবে আমাদের। সেদিন বাচার উপায় থাকবে না। কেউ কাউকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারবে না । ছেলে সন্তান আত্মীয়-স্বজন কোনো কাজে আসবে না।

বলতে গেলে বর্তমানের অধিকাংশ ব্যবসা চলছে হারাম পদ্ধতিতে যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই জেনে-শুনে ব্যবসা করতে হবে। কিভাবে ব্যবসা করলে হালাল হবে আর কোন পদ্ধতিতে হারাম তা জানতে হবে আমাদের। ব্যবসার মতো হালাল জিনিস যেন আমরা হারাম পদ্ধতিতে না করি।

সর্বপরি আমরা আজ  বাবা-মা, বউ-বাচ্চা, এবং আত্মীয়-স্বজনদের হক আদায় করি। প্রতিবেশিদের হকও যেন সুন্দরভাবে আদায় করি।

একজন ব্যবসায়ী যেমন দিন শেষে লাভ-লোকসানের হিসেব করে। আমরাও প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে পাঁচ মিনিট নিজের জীবনের হিসেব কষি তাহলে আমাদের জান্নাতের পথ সহজ হবে।

আমাদের দ্বারা কেউ কষ্ট পাবে না। আল্লাহর হক আল্লাহ ইচ্ছে করলে ক্ষমা করে দেবেন কিন্তু বান্দার হক ক্ষমা করবেন না যদি বান্দা ক্ষমা না করে। শ্রুতি লিখন: আবদুল্লাহ আফফান