২০১৮-১০-২২

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

আমিনুল ইসলাম মামুন; শোলাকিয়া থেকে কোটি হৃদয়ে

OURISLAM24.COM
news-image

মাহমুদুল হাসান > কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের সিনিয়র শিল্পী আমিনুল ইসলাম মামুনের কণ্ঠে রিলিজ হয়েছে মুসলিম ঐক্যের সংগীত ‘ও মুসলিম’।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামিক ইউটিউব চ্যানেল ‘হলি টিউনে’ সঙ্গীতটি রিলিজ হয়। ইতোমধ্যে সংগীতটি প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার শ্রোতা দেখেছে।

সংগীতের কথা, সুর করেছেন প্রতিভাবান শিল্পী আমিনুল ইসলাম মামুনের নিজেই।

বর্তমানে বিশ্বের মুসলমানদের নির্যাতনের করুন অবস্থা শিল্পীর হৃদয়েরাজ্যে আঘাত হানে। শিল্পী নির্যাতিত নিষ্পেষিত মুসলমানদের হৃদয়কে নতুন করে জাগাতে এই সংগীতের মাধ্যমে ঐক্যের ডাক দেন৷ হৃদয়ের মাধুরী দিয়ে কোমল কণ্ঠে গাওয়া সঙ্গীতটি ইসলামী সংগীত প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

আলাপকালে শিল্পী আমিনুল ইসলাম মামুন জানান, সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ’কে উৎসর্গ করেই আমার এই সংগীত। যদিও এর ভাষা বাংলা। আল্লাহ চাহে তো এর আরবি ও ইংলিশ ভার্সনও করার তামান্না রাখছি!

কওমি মাদরাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার – বিস্তারিত জানুন

আপনাদের প্রতি আমার নিবেদন, নাশীদটি হৃদয়ের কানে শুনবেন, যদি প্রয়োজন অনুভব করেন তবে অপর মুসলিম ভাইকেও শোনাবেন।

এ ছাড়াও আমিনুল ইসলাম মামুনের লেখা এবং সুর করা বেশ কিছু সংগীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।

উলে­খযোগ্য সংগীতগুলোর মধ্যে রয়েছে- তুমি তাওফিক দিও মোরে, চাই তোমার কথা শুধু বলতে, পবিত্র ভুমি ফিলিস্তিন, অপারের ডাক, মরনের আগে, তোমার প্রেমে আকুল হয়ে, হারিয়ে যাবো একদিন আমি, জীবন চলার পথে।

সঙ্গীতের জগতে পদচারণা নিয়ে আমিনুল ইসলাম মামুন জানান, সংগীত গাওয়া ছোটবেলা থেকেই। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের দিন গেয়েছিলাম সঙ্গীত।

সেখানে ঢাকা থেকে আসা খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফ্তি বখতিয়ার হুসাইন ঈদগাহ মাঠে আমার গজল শুনে মুগ্ধ হন।

তিনি আমাদের বাসায় গিয়ে আব্বা আম্মাকে তাশকিল করেন যেন আমাকে মাদরাসায় ভর্তি করান, এভাবে তার মাধ্যমে ইলমে নববীর জ্ঞানার্জনের জন্য মাদরাসায় ভর্তি হওয়া।

কিশোরগঞ্জের আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় পড়াকালে সংগীতের উস্তাদ কিশোরগঞ্জের ইসলামি সংস্কৃতিক সংগঠন ‘দিশারীর’ পরিচালক শরীফ জামীর কাছে যাওয়া। তারপর দিশারীতে প্রায় এক বছরের মতো কাজ করা হয়।

২০০৬ সালে মরহুম আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ, এর কাছে যাই এবং এরপর জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবে কাজ শুরু করি। আজ অবধি মরহুম আইনুদ্দিন আজাদ রহ. এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে কলরবের সাথে কাজ করে আসছি এবং প্রথম থেকেই নিজের লেখা, সুরে গান সংগীত গেয়ে আসছি।

প্রতিভাবান এ শিল্পীর গল্প শুনে বলতেই হয় সেই শোলাকিয়া থেকে এখন তিনি কোটি হৃদয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছেন ঈমানি প্রেরণার সুর।

আমিনুল ইসলাম মামুন ক্লাস সেভেন পর্যন্ত স্কুলে পড়ে মাদরাসায় ভর্তি হন। ২০০৫ সালে কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ায় হিফজ শেষ করেন।

তারপর ঢাকার উত্তরায় মাদরাসাতুর রহমান আল-আরাবিয়ায় তাইসির থেকে কাফিয়া পড়েন। এবং ক্লাসে সবসময় প্রথম স্থানের অর্জন করেন।

জামিয়া শরহিয়্যাহ মালিবাগে শরহে বেকায়া, যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসায় থেকে জালালাইন, মধ্যবাড্ডা জামিয়া নুরিয়া থেকে মিশকাত ও দাওরা সম্পন্ন করেন৷

কওমীতে পড়াশোনার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ নোহার নান্দলা আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল, আলিম পরীক্ষা দেন এবং গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে কৃতীত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ অর্জন করে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স সম্পন্ন করেন, বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এ সঙ্গীতশিল্পী।

৩৭ লক্ষ ভিউ হলো শিশুশিল্পী মুশফিক সামী’র মাকে নিয়ে সঙ্গীত

-আরআর