২০১৮-১০-১৮

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রস্তুতি শেষের দিকে, ঢাকায় আসছেন আল্লামা শফী

OURISLAM24.COM
news-image

রোকন রাইয়ান >>

কওমি মাদরাসা স্বীকৃতি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার প্রস্তুতি জোরেশোরে এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগামী সপ্তায় ঢাকায় আসছেন আল হাইআতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কওমি স্বীকৃতির বিল পাসের পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার কথা জানায় হাইআতুল উলইয়ার নেতৃবৃন্দ।

মাদরাসা : সভ্য পৃথিবীর অহঙ্কার

৫ অক্টোবর হাটহাজারীতে হাইআতুল উলইয়ার বৈঠকে চলতি মাসেই সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় আনেন নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষ্যে ১৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

সংবর্ধনা প্রস্তুত কমিটিতে রয়েছেন, (বেফাক থেকে) সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব, মাওলানা মাহফুজুল হক ও মুফতি নুরুল আমিন।

অন্য বোর্ড থেকে, আল্লামা আবদুল হালিম বোখারী, মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মুফতি মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা আবদুল বছির।

ঢাকায় আসছেন আল্লামা শফী 

চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে চলমান সরকারের মেয়াদ। এরপর গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার।  এর আগেই কওমি স্বীকৃতি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার কাজ সম্পন্ন করতে চান নেতারা।

আর কাজটি দ্রুত এগিয়ে নিতে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক কওমি স্বীকৃতির অগ্রনায়ক শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ঢাকায় আসছেন।

কওমি মাদরাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার – বিস্তারিত জানুন

জানা গেছে, আগামী শনিবার রাতে তিনি ঢাকা আসবেন। রোববার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অফিসে হাইআতুল উলইয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে চূড়ান্ত হবে সংবর্ধনার পুরো রূপরেখা।

বৈঠকে হাইআতুল উলইয়ার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সংবর্ধনা কবে, কোথায়?

দ্রুততম সময়ে সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসলেও এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। কোথায় সংবর্ধনা দেয়া হবে তাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনেকেই সোহরাওয়ার্দী ময়দানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কথা বললেও অধিকাংশের মত হলরুমের ব্যাপারে।

তবে তারিখ ও স্থানের বিষয়টি ২১ অক্টোবরের বৈঠকেই ফায়সালা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, যেহেতু প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে তাই তার শিডিউল নেয়া জরুরি। আর এ জন্য আল্লামা আহমদ শফী রবি বা সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তার সময় অনুযায়ী যেদিন নির্ধারণ করেন তখনই অনুষ্ঠিত হবে সংবর্ধনা সভা।

আর স্থানের ব্যাপারে এখনো হলরুমেই অধিকাংশের মত। তবে অভিজাত হলরুমে অনুষ্ঠান ব্যয়সাপেক্ষ বলে অনেকেই মাঠে অনুষ্ঠানের মতামতও দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

কী থাকবে সংবর্ধনায়?

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে নেতিবাচক কিছু প্রবেশ যেন না করে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখবে কমিটি।

সংবর্ধনায় শুধুই কি ক্রেস্ট দেয়া হবে, নাকি থাকবে আরও কিছু? এ নিয়ে সুস্পষ্ট মতামত পাওয়া যায়নি। তবে হাইআতুল উলয়ার বিগত মিটিংয়ে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

সেখানে অনেকেই কুরআন শরিফ, জায়নামাজ বা হিজাবসহ অন্যান্য ইসলামিক আইটেম হাদিয়ার কথা তুলেছেন। তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত আলোচনায় আসেনি।

সংবর্ধিত হবেন আল্লামা আহমদ শফীও

সরকারি কোনো হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রমুক্ত কওমি স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে আলেমগণ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অবদান স্বীকার করছেন অকপটে। আর এ কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আল্লামা আহমদ শফীকেও সংবর্ধিত করার প্রস্তাব করেছে উলামায়ে কেরাম ও হাইআতুল উলইয়ার নেতৃবৃন্দ।

কওমি শিক্ষার্থীদেরও দাবি বংবর্ধনার বৃহৎ এ অনুষ্ঠানে আল্লামা আহমদ শফীকেও স্মরণীয় করে রাখা হোক। সে প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আল্লামা আহমদ শফীকেও সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে আওয়ার ইসলামকে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

আরও পড়ুন: ‘শাপলার ঘটনার সঙ্গে কওমি স্বীকৃতির সম্পর্ক নেই; এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন’