২০১৮-০৯-২০

শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

ডাকসু নির্বাচন: ইসলামভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলো বৈষম্যের শিকার কেন?

OURISLAM24.COM
news-image

এম ওমর ফারুক আজাদ
প্রতিবেদক

সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়, বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুষ্টু পরিচালনায় সহযোগিতা করাসহ নানাবিধ প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে শিক্ষাবর্ষ ১৯২২-২৩ এ প্রতিষ্টালাভ করে অরাজনৈতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (Dhaka University Central Students Union) বা ডাকসু।

ডাকসুকে বলা হয় দ্বীতিয় সংসদ। এই সংসদ থেকে উঠে এসেছে অনেক জাতীয় নেতৃত্ব। ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক যুগে ও পাকিস্তান আমলে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান ও ৭১ এর স্বাধিনতা আন্দোলনে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মাদরাসা সভ্য পৃথিবীর অহঙ্কার

প্রতিষ্ঠার পর প্রনয়ণ করা হয় গঠনন্ত্র।এতে উল্লেখ ছিলো উপাচার্যকে চেয়ারম্যান করে বাকি ১৪ পদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে ডাকসু প্রতিনিধি।

ঢাবি প্রশাসন প্রতিবছর নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করবে। যদি কোন কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্বাচন দিতে ব্যার্থ হয় তাহলে সর্বোচ্চ তিন মাস পুর্বের কমিটির কার্যকারিতা বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

গঠনতন্ত্রে প্রতি বছর নির্বাচন আয়োজনের বাধ্য বাধ্যকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর এই পর্যন্ত নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৩৬ বার। যার মধ্যে স্বাধীনতার পর মাত্র ৪৬ বছরে মাত্র ৭ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে।

সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্টিত হয় ১৯৯০ সালে যাতে ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন যথাক্রমে আমানউল্লাহ আমান ও খাইরুল কবীর খোকন। এরপর ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের বিরোধের কারণে নানা সময় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

সম্পূর্ণ ফিতে নিন অ্যাকাউন্টিং ও ইনভেস্টরি সফটওয়ার

দীর্ঘ সময় ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে রাজনীতির সুষ্টু পরিবেশ হারিয়ে যায়। সেইসাথে ঢাবি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা কিংবা প্রতিবাদের কোন শক্তিশালী সংগঠনের অভাব প্রস্পুটিত হয়।

এমতাবস্থায় ২০১২ সালে ২৫জন শিক্ষার্থী নির্বাচনের দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত রুল দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, “ডাকসু নির্বাচন করার ব্যার্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা।”

রুলের নিষ্পত্তি করে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি রায় প্রদান করা হয়। এতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে নির্দেশ দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু রায়ের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন না দেয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ঢাবি কর্তৃপক্ষকে উকিল নোঠিশ পাঠান আইনজীবি মনজিল মোরসেদ। জবাব না পেয়ে ১২সেপ্টেম্বর উপাচার্যসহ ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরোদ্ধে হাইকোর্ট অবমাননার অভিযোগ আনেন তিনি।

এরি প্রেক্ষিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (১৩, ১৪ সেপ্টেম্বর’২০১৮) ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আকতারুজ্জামান এর সাথে মতিবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণপত্র পাঠান প্রক্টর প্রফেসর গোলাম রব্বানি। গত রোববার (১৭সেপ্টেম্বর) নির্বাচন বিষয়ে ছাত্র সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন উপাচার্য অধ্যাপক আকতারুজ্জামান।

এসে গেল যাদুকরী মাদরাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

এতে ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাসদ ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, বিসিএল, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ বাম সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

তবে ইসলামভিত্তিক সংগঠনগুলোকে এ মতবিনিময় সভায় ডাকা হয়নি। ক্যাম্পাসে শক্তিশালী কমিটি ও সক্রিয় কার্যক্রম থাকার পরেও আমন্ত্রণপত্র না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে  সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউল হক এক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রিয় নেতার সাথে। ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাবি শাখার সভাপতি ওমর ফারুক-এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন আমন্ত্রণপত্র পাননি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের জন্য ইশা ছাত্র আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে ও আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের কিছুটা প্রস্তুতি দেখা দেয়ার এই মূহুর্তে আমাদের আমন্ত্রণ না করাটা পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিমাতাসূলভ আচরণ। ”

আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সলামী ছাত্রসমাজ এর কেন্দ্রিয় সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান বলেন, ক্যাম্পাসে সুষ্টু রাজনীতির পরিবেশ না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। কিন্তু ঢাবি উপাচার্যের আমন্ত্রণপত্র প্রক্টর প্রেরণ না করে বৈষম্যের পরিচয় দিয়েছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে একই অভিযোগ আনেন ইসলামী ছাত্র মজলিস এর কেন্দিয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ। ডাকসু নির্বাচনে কোন সংগঠন যদি প্যানেল গঠন করে তাতে তারা যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ” যদি কোন সংগঠন আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন আমরা অবশ্যই প্যানেলে গিয়ে যৌথভাবে নির্বাচন করবো।”

ছাত্র সংগঠনগুলোর এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুঠোফোনে ঢাবি প্রক্টর প্রফেসর গোলাম রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। আমন্ত্রণত্র না পাওয়ার অভিযোগ আনা দলগুলোকে কেনো ডাকা হয়নি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোন সংগঠন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। কেউ যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখবো। এছাড়াও ডাকসুর গঠনতন্ত্র মেনেই শুধুমাত্র ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

ক্রিয়াশীল সংগঠনের বাইরেও অন্য কোন সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনমাত্রই যে কারো নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পরবর্তি পদক্ষেপ নিয়ে কি ভাবছেন এমন প্রশ্ন করা হলে ইশা ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রিয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “ক্যাম্পাসে সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকলে ইশা ছাত্র আন্দোলন এককভাবে কিংবা সমমনা সংগঠনগুলোকে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ৷” এর অংশ হিসেবে ঢাবি কর্তৃপক্ষের সাথে সাংগঠনিকভাবে খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৬সেপ্টেম্বর) ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সাথে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচনদানের আশ্বাস দিলেও একই দিনে সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাটর্নি জেনারেল এর কার্যালয় থেকে লিভ টু আপিলের আবেদন জমা দেয়া হয় বলে মিডিয়াকে জানান আইনজীবি মনজিল মোরসেদ। এতে করে আবারো অনিশ্চিয়তার দিকে ডাকসু নির্বাচন এগুচ্ছে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞ মহল।

আরএম/