২০১৮-০৯-১৯

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ইদলিবে বাফার জোন ঘোষণায় সম্মত হলো তুরস্ক-রাশিয়া

OURISLAM24.COM
news-image

আবদুল্লাহ তামিম:  সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। ইদলিব অঞ্চলে নতুন একটি অ-সামরিকীকৃত এলাকা বা বাফার জোন ঘোষণার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে তারা।

তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যকার এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। সিরিয়ার বিদ্রোহীরা একে তাদের বিজয় বলে মনে করছেন।

আর সিরিয়া সরকার বলেছে, এ চুক্তি তুরস্কের জন্য একটি পরীক্ষা। লেবাননের আল-মায়াদিন টিভি চুক্তিটির প্রতি ইরানের সমর্থনের খবর জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার মহানায়ক ড. মাহাথির মোহাম্মদ

ইদলিব সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। বিগত কয়েক মাসে সামরিক হামলা জোরালো করার মধ্য দিয়ে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল থেকে বাশার সরকার বিদ্রোহীদের সরিয়ে দেয়া হলে তারা ইদলিব প্রদেশে এসে জড়ো হয়। ২০১৫ সাল থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বিদ্রোহীরা।

তবে দৃশ্যত ভয়াবহ বিমান হামলার মাধ্যমে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছে রাশিয়ার মিত্র বাশার বাহিনী। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই পুরো সিরিয়ার ওপর বাশার বাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা দেখতে চায়।

বিপরীতে বাশার বাহিনীর হামলা থেকে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে তুরস্ক। সোমবার রাশিয়ার পর্যটন নগরী সোচিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

বৈঠকে ইদলিব অঞ্চলে রুশ ও তুর্কি সেনাদের মধ্যে একটি অসামরিকীকৃত অঞ্চল ঘোষণার ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা হয়।

এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ স্বাগত বার্তা দেয়া হয়। ইরান একে ‘দায়িত্বশীল কূটনীতি’ বলে স্বাগত জানিয়েছে।

বৈঠকের আগে এরদোগান বলেন, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা এই অঞ্চলের জন্য আশা হয়ে উঠেছে। তার মতে, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোতে মতবিনিয়ম দুই দেশকেই শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি শুধু আমাদের অঞ্চলই নয়, গোটা বিশ্বের চোখ এখন সোচির দিকে।’

তিনি দাবি করেন, সোচির আলোচনার ফলাফল এই অঞ্চলের জন্য নতুন আশা জাগাবে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, তুর্কি-রুশ সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে উন্নতি করছে। তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা ব্যাপক মাত্রায় বাড়ছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে।’ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তুরস্ক-রাশিয়ার সম্পর্ক, অর্থনীতি ও জ্বালানি ইস্যুসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতেও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়া ইস্যু এই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পায়।

রাশিয়া ও তুরস্কের এক সমঝোতার ফলে সম্ভবত সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আপাতত সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হচ্ছে।

নিরীহ মানুষের আশ্রয়ের জন্য আলাদা এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আবার গোটা দেশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চান।

একমাত্র ইদলিব প্রদেশই বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটি হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু গোষ্ঠীর ওপর তুরস্কের প্রভাব রয়েছে। রাশিয়ার মদদে বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেও বিদ্রোহীদের তাড়াতে চান বাশার আল আসাদ।

কিন্তু এমন হামলা ঘটলে বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার রাশিয়া ও তুরস্ক এক সমঝোতায় এসেছে।

এর আওতায় তারা আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইদলিব প্রদেশে নিরীহ মানুষের জন্য নিরাপদ এক এলাকা চিহ্নিত করবে, যেখানে কোনো রকম সামরিক কার্যকলাপ চলবে না।

১৫ থেকে ২০ বর্গকিলোমিটার এই এলাকা সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের পরস্পরের থেকে আলাদা রাখবে।

নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করতে পারলেও বাশার প্রশাসন ও বিদ্রোহীদের মধ্যে কোনো রকম আপস এখনো সম্ভব হচ্ছে না। এরদোগান বলেন, বিরোধীরা নিজেদের এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

এর বদলে রাশিয়ার সাথে মিলে তার দেশ উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের সেই নির্দিষ্ট এলাকায় নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হবে। এই সমঝোতার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এরদোগান।

রাশিয়ার সাথে সমঝোতা তুরস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের কাছে ইদলিব প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

বেশ কিছুকাল ধরে তুরস্ক সেখানে সক্রিয় রয়েছে এবং ১২টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান চালালে অনেক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে আশ্রয় নেবে।

সিরিয়ার বিদ্রোহীপক্ষও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তুরস্ক সমর্থিত বিরোধী জাতীয় মুক্তি ফ্রন্টের এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়া বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন। তাই তারা সঙ্ঘাত থেকে পিছিয়ে এসেছে।

অন্য দিকে ইদলিবের স্বার্থরক্ষার জন্য তিনি তুরস্কেরও প্রশংসা করেন। আরেক বিদ্রোহী সংগঠন ‘সিরিয়ার জাতীয় জোট’ বলেছে, ইদলিবে হামলা চালালে তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কোনো সমর্থন পাওয়া যাবে না, এমন উপলব্ধির পর রাশিয়া বাধ্য হয়ে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে।

ব্যবসাকে সহজ করতে এলো বিসফটি!

আরএম/