২০১৮-০৯-১৮

শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

আজ সংসদে পাস হতে পারে কওমি সনদের বিল

OURISLAM24.COM
news-image

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

আজ মঙ্গলবার )১৮ সেপ্টেম্বর) ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হতে পারে।

গতকাল সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফসারুল আমিন বিলটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

গতকাল সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিলটি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি সংসদে। পরে আজ বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। বিলটি সংসদের আজকের কার্যদিবসে পাস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাদরাসা সভ্য পৃথিবীর অহঙ্কার

এর আগে জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সোমবার বিলটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হলো।

বলা হয়েছে,  এই আইন বাংলাদেশের দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নেসাব (পাঠ্যসূচি) অনুসরণে পরিচালিত হবে কওমি মাদরাসাগুলোর দাওয়ারে হাদিস এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সম্পূর্ণ ফিতে নিন অ্যাকাউন্টিং ও ইনভেস্টরি সফটওয়ার

সংসদে উত্থাপিত বিলে আরো বলা হয়, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে কওমি মারাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া- বেফাক সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল গঠিত ওই কমিটিকে এখন এ আইনে আনা হয়েছে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, কমিটিতে নয় ধরনের ব্যক্তি থাকবেন।

বেফাকুল মাদ্রারিসিল আরাবিয়ার সভাপতি কমিটির চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কো-চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদ্রারিসিল আবারিয়া বা এর মহাসচিব মনোনীত আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন কমিটিতে।

এছাড়া গওহরডাঙ্গার বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, চট্টগ্রামের আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়া, সিলেটের আযাদদ্বীনি এদারায়ে তালিম, বগুড়ার তানজীমুল মাদারিসিল কওমিয়া এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দুইজন করে সদস্য কমিটিতে আসবেন।

এসে গেল যাদুকরী মাদরাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে যে কাউকে কমিটিতে যোগ করে নিতে পারবেন, তবে সব মিলিয়ে তা ১৫ জনের বেশি হবে না। কমিটি ‘দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে’ থাকবে।

এই কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিবেচিত হবে। এদের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বিবেচিত হবে।

এই কমিটির অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল এবং সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে কওমি মাদরাসা সনদের আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। তখন থেকে আলেমগণ সরকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সংসদে উত্থাপন করে তা পাসের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসা সদনের সরকারি স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিলে গণভবনে এই স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: যা আছে সংসদে উত্থাপিত কওমি মাদরাসা বিলে

আরএম/