২০১৮-০৯-০৬

বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘আব্বাজান সোনার হারটি বেচতে গেলে দোকানি জানালেন সেটাতে একটুও স্বর্ণ নেই’

OURISLAM24.COM
news-image

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি সপ্তাহে দুদিন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে। আজ প্রকাশ হলো ২৩ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মাওলানা  উমর ফারুক ইবরাহীমী।]

পূর্ব প্রকাশের পর: আমাদের পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি বৈচিত্রময় সংস্কৃতিপূর্ণ ছিলো। হজরত আব্বাজান মুফতি মুহাম্মাদ শফি রহ. মর্যাদা মাফিক সকল প্রতিবেশির হক আদায়ের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।

আমাদের শৈশবে যখন খেলাধুলা ছাড়া অন্যসব ব্যাপারে অনুভূতিশূন্য ছিলাম তখন আমরা এই বৈচিত্রময় সংস্কৃতি থেকে আমোদিত হতাম। তবে আমাদের সংস্কৃতি ও কালচারে বিস্তর ফারাক থাকলেও সবার মাঝে এমন ভাতৃত্বের বন্ধন ছিলো যে সবাই পরস্পরের দুঃখে সুখে সঙ্গী হতাম।

আমার মনে আছে, একবার একটি তুলার গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। গোডাউনটি আমাদের বাসা থেকে অন্তত তিনমাইল দূরত্বে ছিলো। কিন্তু সেই অগ্নিকাণ্ডের ভয়ঙ্কররকম ধোঁয়া দেখে মনে হচ্ছিলো এর উৎপত্তিস্থল যেনো আমাদের সামনের বাসার পেছনেই।

ধোঁয়া দেখে আমাদের বিল্ডিংয়ের যুবকের দল ধোঁয়ার উৎপত্তিস্থলের দিকে দ্রুত ছুটে গেলো।আমাদের বড়ভাই জনাব মুহাম্মদ রাজি সাহেব রহ. ও তাদের সঙ্গী হলেন। খানিকক্ষণের ব্যবধানে আমি আমাদের বাসার জানালা দিয়ে লক্ষ করলাম, প্রতিটি নিকটস্থ বিল্ডিং থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি বড় অংশ সেই অগ্নিকাণ্ডের দিকে ছুটে যাচ্ছে।

কয়েকঘন্টা পর ভাইজান ফিরে এসে বললেন,এই অগ্নিকাণ্ড এখান থেকে যথেষ্ট দূরে সিটি স্টেশনের তুলার গুদামঘরে লেগেছিলো। এলাকার সর্বস্তরের লোকজন সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করেছেন। এবং সেখানে সহায়তা করতে গিয়ে তুলার একটি জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ ভাইজানের পায়ে এসে পড়েছিলো। ফলে বেশকিছুদিন তার পায়ে জখম ছিলো।

সেকালের মানুষের মাঝে ভালোবাসা ও মানবতার এমন অসংখ্য চিত্তরঞ্জন ও মনোজ্ঞ দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যেতো যেগুলো দেখার জন্য আজ দুচোখ অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকে!

তবে আমাদের বাবা-মা এই দিনগুলোতে বড় ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছেন! হিজরতের পর তিনমাস পর্যন্ত তো হযরত আব্বাজান রহ., এবং হযরত মাওলানা মানাযির আহসান গিলানি ও ডক্টর হামিদুল্লাহ প্রমুখ পাকিস্থানের রাষ্ট্রীয় সংবিধান সম্পর্কিত সুপারিশের রিপোর্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাই সেখান থেকে কিছু সম্মানি আসতো।

কিন্তু এরপর তার ভিন্ন কোন আয়-উপার্জনের উপায় ছিলো না। যে চার ছেলে সাথে ছিলো সবাই ছিলেন অল্পবয়সী। এবং তাদের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা ছিলো শিক্ষাদীক্ষার ব্যবস্থাপনা। উপরন্তু তাদের উল্লেখযোগ্য উপার্জনের কাজে লাগানোও সম্ভবপর ছিলো না।

দেওবন্দ থেকে ফেরার কালে যা কিছু নগদ অর্থ ছিলো এই লম্বা সফরে সেগুলো সাথে রাখা সমীচীন মনে হয়নি। তাই সে নগদ অর্থ দিয়ে আব্বাজান রহ. দেওবন্দের এক স্বর্ণকারের থেকে
স্বর্ণের হার বানিয়ে আম্মাজানকে পড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ভেবেছেন- পরে যখন প্রয়োজন হবে এটিকে বিক্রি করে নগদ অর্থের যোগান দেয়া যাবে।

সুতরাং যখন আয়-উপায়ের কোন ব্যবস্থা হচ্ছিলো না তখন আব্বাজান সেই স্বর্ণের হারটি বিক্রির উদ্দেশ্যে করাচির এক স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে গেলেন। স্বর্ণকার এটিকে পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানালেন, এটিতে স্বর্ণের লেশমাত্রও নেই!

যেই স্বর্ণকারের কাছে এটিকে বানানো হয়েছিলো সম্ভবত সে ধোকা দিয়ে পিতলের ওপর স্বর্ণের প্রলেপ লাগিয়ে স্বর্ণের হার বলে বিক্রি করেছে। যতসামান্য যে পুঁজি অবশিষ্ট ছিলো তাও এভাবে মাটি হয়ে গেলো!

তবে আমার স্পষ্ট মনে আছে, আব্বাজান রহ. হেসে হেসে এ ঘটনাটির বিবরণ দিতেন। চলবে ইনশাআল্লাহ…

আগের পর্ব

আমাদের সে বাড়ির নাম ছিলো ‘কিংস কোর্ট’: আল্লামা তাকি উসমানি

‘আমাকে একটু বেশি মানুষ রিসিভ করেছে এতে দোষের কী?’

বিসফটি – বিস্তারিত জানুন