২০১৮-০৯-০৪

বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যে ১০ কারণে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ

OURISLAM24.COM
news-image

সাজিদ নুর সুমন
ফিচার রাইটার

দিন দিন বেড়েই চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা। নানা কারণে হচ্ছে এই বিচ্ছেদ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দেশে গত ৭ বছরে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে ৩৪ ভাগ। আর নারীরাই দিচ্ছে ৭০ ভাগ তালাক

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে বেশি তালাক হচ্ছে ঢাকা সিটিতে। ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় তালাক হচ্ছে ১টি করে। ঢাকার অভিজাত অঞ্চলখ্যাত উত্তর সিটিতে তালাকের প্রবণতা বেড়েছে ৭৫ ভাগ।

 এই বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হল-

ব্যক্তিত্বে অমিল: ২০১৩ সালে Institute for Divorce Financial Analysts একটি সমীক্ষা করে। যেখানে দেখা যায় বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যে কারণটি সবচেয়ে বেশি দায়ী তা হল ব্যক্তিত্বের অমিল অর্থাৎ দুজনের মাঝে পারস্পরিক অসঙ্গতি। নিজস্ব মতবাদ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ইচ্ছা সবকিছুতে যখন পার্থক্য দেখা দেয় তখন দাম্পত্য জীবন বেশ জটিল হয়ে উঠে। যা প্রতিদিনের ঝগড়া এবং সর্বশেষে বিবাহ বিচ্ছেদের কারন হয়।

সঠিক যোগাযোগের অভাব: যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যোগাযোগ একটি বড় বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী দেশের বাইরে বা আলাদা জেলায় থাকে বলে যোগাযোগ হয়ত অনেক কম হয়। এই কম যোগাযোগ এক সময় সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং একঘেয়ামির জন্ম দেয়। যা বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়।

আবার অনেক সময় ঠিকমত যোগাযোগ হলেও যোগাযোগের ধরণ ঠিক না থাকায় সম্পর্কে অবনতি ঘটে। উচ্চস্বরে কথা বলা, বিনা কারণে সন্দেহ করা, ছোটখাটো বিষয়কে অনেক বড় করে দেখা… এই বিষয়গুলো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী।

প্রত্যাশা পূরণের অভাব : প্রত্যেকটি ছেলে বা মেয়ের মনেই আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি থাকে বিয়ের আগে থেকেই। বিয়ের পর সেই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের স্ত্রী বা স্বামীটির মিল পাওয়া যায় না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। সেখান থেকেই তৈরি হয় প্রত্যাশা অপূর্ণ থাকার একটি হতাশা।

পরিবারের সদস্যদের অনধিকার চর্চা : স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনেরই পরিবারের সদস্যদের নাক গলানো যে কোনো নবদম্পতির কাছে একটা বড় সমস্যা। বাড়ির বড়রা যদি কথায় কথায় পরামর্শ, উপদেশ বা আদেশ দিয়ে নব বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চালনা করতে চান তাহলে খুব মুশকিল। তাদের এই অবাঞ্ছিত নাক গলানো স্বভাবের ফলে সমস্যা তৈরি হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যেও।

ধৈর্যের অভাব : বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিয়ের পর স্বামীর অথবা স্ত্রীর কোনো একটি বিশেষ অভ্যাস বা জীবনযাপনের কোনো একটি দিক অন্যজনের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। স্বামী হয়তো অফিস বেরনোর আগে ভিজা তোয়ালেটা রেখে যাচ্ছেন বিছানার উপর, সেটা স্ত্রীর পছন্দ নয়। আবার স্ত্রী হয়তো প্রতিদিন বাথরুমে সুইচটা অফ করতে ভুলে যাচ্ছেন, সেটা পছন্দ নয় স্বামীর। সেই নিয়েই বেঁধে যাচ্ছে ঝগড়া।

ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্যা : বিয়ের পর ক্যারিয়ার আর পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়। বিয়ের পর স্বামী আশা করেন, স্ত্রী চাকরি ছেড়ে পরিবারকে সময় দেবেন। স্ত্রী-ও আশা করেন স্বামীর কাছে তার অফিসের থেকে বেশি প্রাধান্য পাবেন তিনি নিজে। সেই আশা পূরণ না হলেই দেখা দেয় সমস্যা।

ভালো দাম্পত্য জীবন পেতে তাই আগে থেকেই এই সমস্যাগুলো যাতে জীবনে হামলা করতে না পারে, তেমনভাবে নিজেকে তৈরি রাখুন। আর এরপরও যদি কোনো একটি সমস্যা আপনাদের জীবনেও চলে আসে, তাহলে ভেঙে না পড়ে, সেগুলো প্রতিকারের রাস্তা খুঁজুন দুজনে বসে।

মানসিক প্রশান্তির অভাব: বিবাহিত জীবন যখন মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন মানুষ বাধ্য হয়ে বিচ্ছেদের পথ বেঁছে নেয়। অপরপক্ষে অবহেলা, অকারণে সন্দেহ মানসিকতায় বেশ প্রভাব ফেলে। শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা, দুজনের আলাদা সময় না কাটানো, নিজেদের ব্যস্ততা নিয়ে ব্যস্ত থাকাও এর জন্য দায়ী।

অতিরিক্ত ঝগড়া: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অতিরিক্ত ঝগড়া বিবাহবিচ্ছেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ঝগড়ার সময় সাধারণত মানুষের মাথা ঠিক থাকে না। ফলে এ সময় তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত ঝগড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কও নষ্ট করে দেয়।

অত্যাচার: বিবাহবিচ্ছেদের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পরস্পরকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন দাম্পত্য জীবনকে কোরে তুলে দুর্বিসহ। বর্তমানে আমাদের দেশে এ কারনেই বেশি বিবাহবিচ্ছেদ হতে দেখা যাচ্ছে।

এখন ব্যবসার হিসাব হবে সফটওয়ারে – বিস্তারিত জানুন

আরএম/