২০১৮-০৯-০৩

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

পরিতৃপ্তির ছোট্ট এক গল্প!

OURISLAM24.COM
news-image

অাওয়ার ইসলাম: পরিতৃপ্তির যথার্থ অর্থ প্রয়োগ এক্ষেত্রে হয়েছে কি না তার মূল্যায়ন করতে যাব না। তবে অভিধানে পরিতৃপ্তি একটি বিশেষণ পদ এবং এর অর্থ হল ‘গভীর তৃপ্তি’। এমনই এক গভীর তৃপ্তির গল্প আজ আপনাদের শোনাবো।

তার নাম জাকির। রিকশা চালায়। বয়স ১৭ হবে। বাবা মারা যাওয়ার পর কপালে জুটেনি পড়াশোনা।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জাকির আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানে লাগানো খাবারের ছবিগুলো দেখে আর কি যেন ভাবে। প্রতিদিনই জাকিরের এই কাজটা আমি লক্ষ করি।

আজও রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জাকির। আমি তাকে ভেতরে আসতে বললাম। সে হতবম্ব হয়ে ভয় পেয়ে বলল, ‘চইলা যাইতাছি মামা’।

আমি বললাম ভেতরে আসো কথা আছে…

কিছুটা ভয় নিয়ে ভেতরে আসলো জাকির। আমি সামনের টেবিলে বসতে বললাম। বললাম কিছু খাবা?

ও বলল টাহা! মানুষ আহে নাই গ্রাম দিয়া একটা ক্ষ্যাপ দিছি মামা। খাইতে গেলে বাসায় চালও নিতে পারমু না। বাসার কথা বলতেই জিজ্ঞাসা করলাম বাসায় কে কে আছে?

বলল, ছোট বোন আর মা। যাই হোক বুঝেছিলাম ওর আকাশ চুম্বি খুদা লেগেছে। বললাম কি খাবা বলো, সমস্যা নাই আমি ভাই হিসেবে আজ তোমাকে খাওয়াবো। সে খাবে না, বলল না মামা খামু না। আমি জোর করেই বসালাম এবং বললাম কি খাবা বলো, না খেলে যাইতে দিব না।

বলল, মামা ওই যে গোল গোল রুটির মত যেটা বিক্রি করে ওইটা। আমি বুঝেছি সে পিজ্জার কথা বলতেছে।

আরও পড়ুন: আল্লাহ বলেছেন তাঁর সাথে ব্যবসা করলে প্রফিট হবে পাক্কা ১০ গুণ!

যাই হোক, ওকে পিজ্জা দিলাম আর বললাম পিজ্জা চেনো? বলল একবার মিরপুর ২ এ রাতে এক প্যাকেট ফালানো পিজ্জা ওকে দিছিল কেউ একজন। খাইয়া নাকি অনেক মজা পাইছে।

বললাম প্রতিদিন কি দেখ আমার দোকানের পোস্টারে? বলল ওই যে গোল রুটির ছবি, ম্যালা দাম তাই দেখি। ছোট বইন ডারে গল্প বলছিলাম এই গোল রুটির। ওরে খাওয়ামু খাওয়ামু কইরা হয় না।

ছোট বোনের ভালবাসা আর ক্ষুধার যন্ত্রণা এই দুইয়ের কম্বিনেশনের ব্যাখ্যা আমার থেকে বেশি কেউ জানে না!

জাকিরকে ছোট একটা পিজ্জা দেই খাওয়ার জন্য। খেতে খেতে একটা চকচকা হাসি দিল সে। অর্ধেক খাওয়ার পর বলল মামা বাকিটা নিয়া যাওয়া জাইব? মা আর ছোট বোনটার জন্য নিয়া যামু।

আমিও একটা চকচকে হাসি দিয়ে বললাম ওটা তুমি খাও। তোমার মা আর ছোট বোনের জন্য আমি ওই গোল রুটি (পিজ্জা) দিয়ে দিচ্ছি আলাদা করে। সে মহা খুশি।

তারপর সে তার পকেট থেকে যে কয়টাকা জগার করেছিল সেটা আমকে দিতে চাইলো (৮০ টাকা হবে)।

আমি বললাম, মাইর দিয়া সোজা কইরা দিমু যাও। এটা বড় ভাই হিসেবে খাওয়াইলাম। অবশেষ এক পরিতৃপ্তি আমাকে আকরে ধরল। বুক ভরে একটা নিশ্বাস নিতে পারলাম। মনে হল মহান আল্লাহ রাব্বুল খুশি।

আমাদের সমাজের কিছু মানুষ সুখ খুঁজে বেরায় লক্ষ কোটি টাকার পেছনে। অথচ সুখ আমাদের আসে পাশেই ভরপুর। সত্যি বলতে সুখটা বোঝার জন্য মনের একটা আলাদা ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন। অবশ্য সেই ক্ষমতা সব মানুষের থাকে না।

(লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)

এখন ব্যবসার হিসাব হবে সফটওয়ারে – বিস্তারিত জানুন

আরএম/