২০১৮-০৮-১৮

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইমরান খানের প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা

OURISLAM24.COM
news-image

রকিব মুহাম্মদ
আওয়ার ইসলাম

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক সময়ের গ্ল্যামার দুনিয়ার অধিনায়ক  তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

গত ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ১১৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে পিটিআই। তবে সরকার গঠনের জন্য তা পর্যাপ্ত ছিল না। পরে দলটির সঙ্গে যোগ দেয় ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এতে পিটিআইর আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৫টিতে।

সরাসরি নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে গত সপ্তাহে দলটি ৩৩টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পায়। এতে পিটিআই সব মিলিয়ে ১৫৮টি আসন পায়। নিয়ম অনুসারে সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ১৩৭টি আসন।

শুক্রবার বিকেলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে ভোটাভুটিতে সাবেক এই ক্রিকেট তারকাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন দেশটির নবনির্বাচিত সাংসদরা। জাতীয় পরিষদে ১৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন ৬৫ বছর বয়সী ইমরান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রধান শাহবাজ শরিফ পান মাত্র ৯৬ ভোট।

সবশেষ শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হাউসে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন দেশের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিজের আদর্শ উল্লেখ করে নয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, কায়েদ-ই-আযমের পর আমিই সবচেয়ে সংগ্রাম করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। জনগণ যে পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে, আমি তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত একটি দেশ হাতে পাচ্ছেন ইমরান। তবে এ অবস্থা থেকেই একটি নতুন পাকিস্তান গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

নির্বাচনের আগেই বিবিসি কে ইমরান বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে প্রথমেই অর্থনীতির দিকে নজর দেবেন।

 ব্যবসা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আর নয়  ক্লিক

ইতিমধ্যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে ইমরানের দল। এ পরিকল্পনার আওতায় সরকারের উঁচুতলা থেকে নিচুতলা পর্যন্ত ঢেলে সাজাবেন সাবেক এ ক্রিকেট কাপ্তান।

কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে রাজস্ব বিভাগ, রেলওয়ে, বিমান সব বিভাগেই বদল আনা হবে।

গত ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনের আগেই সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে পিটিআই। বৃহস্পতিবার হবু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তা চূড়ান্ত করা হয়।

কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে গত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদেরকেও ছাঁটাই করা হবে।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির লাগাম টেনে ধরতে এবং সর্বস্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর), জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এনইপিআরএ), রেলওয়ে, সরকারি বিমান সংস্থাসহ (পিআইএ) সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমরান খান।

কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া, পাঞ্জাব ভেঙে নতুন একটি প্রদেশ গঠন, শাসনের ক্ষেত্রে বেলুচিস্তান প্রদেশকে বৃহত্তর কর্তৃত্ব দেয়া প্রাধান্য পাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন হবু অর্থমন্ত্রী আসাদ ওমর।

তিনি বলেন, তার সরকার উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের পথ ত্বরান্বিত করবে। প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সরকারি অতিথি ভবনগুলোকে আবাসিক হোটেলে রূপান্তর করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আসাদ।

জনগণের আস্থা অর্জনেই কেটে যাবে : প্রথম ১০০ দিনে সরকার ঢেলে সাজানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাজ শুরুর পরিকল্পনা এঁটেছে ইমরানের দল পিটিআই। তবে বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জনগণের আস্থা এবং কাজের ক্ষেত্র বা টার্গেট ঠিক করতে করতেই কেটে যাবে প্রথম ১০০ দিন।

বিশ্লেষকরা এবং পিটিআই দলের শীর্ষ নেতারাই বলছেন, সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনে জনগণের জন্য তেমন কিছুই করতে পারবে না সরকার। সবকিছু বুঝে উঠতেই কেটে যাবে এ সময়।

সূত্র : জিও নিউজ ও ডন

আরও সংবাদ-

কেমন প্রধানমন্ত্রী হবেন ইমরান খান?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান
পাকিস্তান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি : ইমরান খান