২০১৮-০৮-১৪

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির বিরোধিতাকারীরা মূর্খের স্বর্গে বাস করেন’

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী মন্ত্রিসভায় কওমি মাদরসাা সনদ অনুমোদন হওয়ায় সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। সরকারের এই উদ্যোগ কওমি মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় পুরানা পল্টনস্থ মাওলানা আতহার আলী মিলনায়তনে নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারওয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, সহকারী মহাসচিব ওবায়দুল হক ও রবিউল ইসলাম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক পীরজাদা সৈয়দ মোঃ আহসান ও ইসলামী ছাত্র সমাজের সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান প্রমুখ।

ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা নেজামী কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে বলেন, কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতাকারীরা মূর্খের স্বর্গে বাস করেন।

ইদানিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৃথক ধর্ম শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে দেখা যাচ্ছে। তাই সরকারি ও বেসরকারিভাবে গড়ে উঠছে পৃথক পৃথক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশে সরকারি উদ্যোগে পৃথকভাবে খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা চালু করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম শিক্ষার জন্যে স্কুল-কলেজ ছাড়াও ওয়াশিংটনে একটি ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। এককালের কমিউনিষ্ট দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নে ৭০ বছর পর আবার ধর্ম শিক্ষা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজতান্ত্রিক মহাচীনেও ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কোনো বাধা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারিভাবে আলাদা খ্রিষ্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতে পৃথক জৈন স্কুল, বৈশ্য স্কুল, রাজপুত স্কুল চালু আছে। ফ্রান্স ধর্মীয় বিদ্যালয়ে ও ভর্তুকি দিয়ে থাকে। জার্মানিতে ও গ্রিসে অর্থডক্স খ্রিষ্ট ধর্ম শিক্ষা চালু আছে।

ব্যবসার হিসাব এখন হাতের মুঠোয় (কল- 01771 403 470) ক্লিক করুন

কানাডায় ক্যাথলিক ধর্ম শিক্ষার জন্যে বাজেট বরাদ্দ বাধ্যতামূলক। তুরস্কে ধর্ম শিক্ষাকে নিঃশেষ করে দেয়ার কামাল আতাতুর্কের প্রয়াস সফল হয়নি। সৌদি আরবসহসব মুসলিম দেশে কোনো না কোনোভাবে পৃথক ধর্মীয় শিক্ষা চালু আছে।

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট কওমি মাদরাসা ভারতের দেওবন্দে অবস্থিত। বিশ্বে যখন ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশে এক শ্রেণির লোক মাদরাসা শিক্ষা বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি দুঃখজনক বৈ কি।

তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানেও কওমী মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান করা হয়েছে।

স্বীকৃতির পর আমাদের কী করণীয়?

-আরআর