২০১৮-০৮-১৪

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আমাদের কুরবানি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

OURISLAM24.COM
news-image

মুহাম্মদ রুহুল আমিন খান: আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। তাই সকল ইবাদতের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। রিয়া বা লৌকিকতা নয়। কিন্তু স্বভাবগত কারণেই কোনো কোনো ইবাদতের সময় মানুষের অন্তরে বিরাজ করে রিয়া বা লৌকিকতা (যা আচার-আচরণে প্রকাশ পায়)।

ঈদুল আযহার কুরবানি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। কুরবানির পশু কেনার সময় থেকে শুরু হয় অনেকের প্রভাব, প্রতিপত্তি ও খ্যাতি প্রদর্শন। কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে কুরবানির পশুর সংখ্যা ও দাম নিয়ে আলোচনা এবং নিজের সামর্থ্য প্রচারণা।

কুরবানি তো নিজের অর্থ বিত্ত প্রকাশের মাধ্যম না। কুরবানির উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রিয় জিনিস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। ইসলামের বিধান হচ্ছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যই কুরবানি করা হোক না কেন তা আল্লাহ কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

মহান আল্লাহ বলেন; ‘অতএব তুমি তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানি কর।’ সুরা কাওসার: ২

পশু কুরবানির ক্ষেত্রে মানুষের লৌকিকতা প্রদর্শিত হয় বেশি। আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে সমাজে তার অবস্থান ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অনেকে মনে করে, আমি কুরবানি না দিলে মানুষ আমাকে কৃপণ মনে করবে…।

আবার কেউ কেউ কুরবানি করে পরিতৃপ্ত ভোজনের জন্য। এভাবে একেক জন একেক নিয়তে কুরবানি করে থাকে। এ প্রসঙ্গে রাসুল সা. বলেন, ‘সকল কাজই নিয়তের ওপর নির্ভর করে।’
সহিহ বুখারি

অন্তরে তাকওয়া না থাকার কারণেই সমাজে এমন দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয়। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার অন্তরের তাকওয়াকে শুধু দেখেন এবং বেশি গুরুত্ব দেন।

ব্যবসার হিসাব এখন হাতের মুঠোয় (কল- 01771 403 470) ক্লিক করুন

যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। সুরা আল-হাজ: ৩৭

অতএব কুরবানি হতে হবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্যে। এটাই হলো আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। আল্লাহ বলেন; ‘হে নবী! আপনি বলুন, আমার নামাজ আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য।’ সুরা আনআম : ১৬২

কুরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি করা। আল্লাহর বিধান পালনে জান-মালের ত্যাগ স্বীকার করার অনুভূতি লালন করা। কুরবানি ঈদকে গোশত খাওয়ার অনুষ্ঠানে পরিণত করা নয়।

পরিশেষে এই দোয়া করি, আমরা যেন ইখলাসের সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।

লেখক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জবি