শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

এরশাদ আলেমদের প্রতি আন্তরিক; সংসদেও দেখতে চান: আতাউল্লাহ আমিন

OURISLAM24.COM
আগস্ট ১০, ২০১৮
news-image

গত বছরের ৪ মার্চ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ। তখন উভয় দলের জোটবদ্ধ হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো ধরনের সাড়া ছিলো না উভয় দলের মধ্যে।

অবশেষে সব কল্পনা-জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার উভয় দলের জোটবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল ১১টায় ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে সাংবাদিক সম্মেলনে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবেন দলীয় প্রধানগণ।

ইসলামী ঐক্যজোটের অংশ হিসেবে একসময় চারদলীয় জোটের অন্যতম অংশিদার ছিলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জোট সরকারের শেষ সময়ে জোট থেকে বের হয়ে আসে দলটি।

২০০৬ আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিখিত সমঝোতায় উপনীত হয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দারুণ চমক সৃষ্টি করে শায়খুল হাদিসের দলখ্যাত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই সড়ে যায় চুক্তি থেকে।

এরপর দীর্ঘদিন ইসলামি দলগুলোর ভিন্ন প্লাটফর্ম অথবা একক নির্বাচনের কথা বলে আসলেও হঠাৎ করেই জোটবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা আসলো দলটির পক্ষ থেকে। কিন্তু কেনো?

আওয়ার ইসলামের কাছে চারদলীয় জোট ত্যাগ ও নতুন জোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন। তার সঙ্গে কথা বলেন আতাউর রহমান খসরু

আওয়ার ইসলাম : জোট রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়ে এক সময় আপনারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে এলেন। এখন আবার জোটবদ্ধ হচ্ছেন। কেনো?

মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কখনোই শর্তহীন জোটের পক্ষে ছিলো না। বিএনপির সঙ্গে আমরা যে জোট করেছিলাম সেখানেও আমরাও নিঃশর্তভাবে যাই নি। তাদের সঙ্গেও আমাদের কিছু লিখিত এবং কিছু অলিখিত শর্ত ছিলো।

সরকার গঠনের পর আমরা যখন তাদের কাছে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে যাই তখন তারা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয় নি। বিশেষত কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি, ফতোয়া বিরোধী রায় ও কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি নিয়ে আমরা বারবার বিএনপির সঙ্গে কথা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত সরকারের শেষ সময়ে ৫টি দাবি ঠিক করেছিলাম। আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, এই পাঁচ দফার ভিত্তিতে নতুনভাবে চুক্তিবদ্ধ হই। কিন্তু বিএনপি আমাদের কথায় গুরুত্ব দিলো না। আমরা নিরুপায় হয়ে বের হয়ে এলাম।

অন্যদিকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ লিখিত চুক্তিতে সম্মত হলো। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিখিত চুক্তিও হলো। চুক্তির পর আমাদের ওপর যেমন কিছু ইসলামি দল ক্ষিপ্ত হলো, তেমনি আওয়ামী লীগের ওপর তার মিত্ররা ক্ষিপ্ত হলো।

আমরা আমাদের জায়গায় ঠিক থাকলেও আওয়ামী লীগ এক তরফাভাবে চুক্তিভঙ্গ করলো।
সেই দাবিগুলোর ভিত্তিতেই এরশাদের সাথে আমাদের জোট হচ্ছে।

আওয়ার ইসলাম : পাঁচ দফার বা আপনাদের দাবির ব্যাপারে এরশাদের বক্তব্য কী?

আতাউল্লাহ আমিন : পাঁচ দফার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনী সমঝোতা করবে বলে চূড়ান্ত হয়েছে।

এরশাদ সাহেবের একটি বিষয় আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাহলো, তিনি বারবার বলেছেন, দেশের আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের আমি সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের মনে হয়েছে, এ জায়গায় তিনি অনেক বেশি আন্তরিক।

আওয়ার ইসলাম : আপনাদের লক্ষ্য ইসলামি দাবিগুলো পূরণ করা। কিন্তু জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভবনায় যেখানে সামান্য সেখানে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা কী?

আতাউল্লাহ আমিন : জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে না বিরোধী দল হবে তা আগাম বলার সুযোগ নেই। ধরেন! জাতীয় পার্টি বা আমরা বিরোধী দলে গেলাম। বা মাত্র ২০টি আসন পেলাম। তবুও তো দাবি আদায়ের জন্য চেষ্টা করতে পারবো।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের স্পষ্ট কথা হয়েছে আমরা সরকারে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি ইসলামি দাবিগুলো আদায় করার জন্য সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে যাবো।

আওয়ার ইসলাম : নির্বাচনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির অবস্থান এখনও স্পষ্ট না। জাতীয় পার্টি যদি মহাজোটের শরিক হিসেবে নির্বাচন করে সে ক্ষেত্রে আপনারা কী করবেন?

আতাউল্লাহ আমিন : এরশাদের সঙ্গে আমাদের কথা হলো, যে কোনো সিদ্ধান্ত উভয় দল পরামর্শের ভিত্তিতে নেবে। পরামর্শের ভিত্তিতে যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করা হবে।

যদি মনে হয় মহাজোটে থাকা উচিৎ থাকবো, যদি মনে হয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার দরকার যাবো আর যদি মনে হয় পৃথক নির্বাচন করা উচিৎ সেটাই করবো। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিন্ধান্ত নেয়া হবে।

আওয়ার ইসলাম : ক্ষমতা ত্যাগের পর থেকে জাতীয় পার্টি বরাবর আওয়ামী লীগের ‘বি টিম’ হিসেবে বা ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে খেলাফত মজলিস ইমেজ সংকটে পড়বে কিনা?

আতাউল্লাহ আমিন : জাতীয় পার্টিকে যেমন আওয়ামী লীগের ‘বি-টিম’ বলা হয়, বিপরীত মতও আছে। রাজনীতিতে কিছুটা রিস্ক নেয়াই লাগে। ইসলামের স্বার্থে আমরা কিছুটা রিস্ক নিলাম।

ধরুন! জাতীয় পার্টি মহাজোটে থেকে গেলো– যদিও এর বিপরীত কিছু হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল- তখন আমরা ও জাতীয় পার্টি এক সঙ্গে আমাদের দাবি আদায়ের জন্য চেষ্টা করবো।

আওয়ার ইসলাম : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে বড় দলের সাথে জোট করে ছোটদল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষত ইসলামি দলগুলো বার বার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আত্মরক্ষার জন্য কতোটা প্রস্তুত?

আতাউল্লাহ আমিন : বড় দলগুলো অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে ছোটগুলো তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পারে না। বস্তুত তখন সঙ্গত্যাগ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। আবার সঙ্গত্যাগ করতে চাইলে তারা ইমেজ রক্ষার জন্য দলভাঙ্গার চেষ্টা করে।

আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। জাতীয় পার্টির দ্বারা দলভাঙ্গার মতো কাজ হবে না।

দ্বিতীয়ত আমরা সিদ্ধান্তটা দলের সর্বসম্মতিতে নিয়েছি। দলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কাজেই দলের স্বার্থরক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ।

আওয়ার ইসলাম : যদি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে না যায়। তাহলে আপনারা নির্বাচন করবেন?

আতাউল্লাহ আমিন : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি নির্বাচনমুখী দল। খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার এক বছরের মাথায় যে নির্বাচন হয়েছিলো তাতেও খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিলো। পরিবেশ থাকলে আমরা অবশ্যই নির্বাচন অংশ নেবো।

আওয়ার ইসলাম : নির্বাচনী সমঝোতায় আসন বণ্টন একটি বড় ফ্যাক্ট। কয়টি আসনের আশ্বাস পেয়েছেন?

আতাউল্লাহ আমিন : আসন বণ্টন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। জোট গঠনের পর বৈঠকগুলোতে তা নির্ধারণ করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা কমপক্ষে ১৩টি আসন। চেষ্টা করবো আরও বেশি আসন আদায় করার।

আওয়ার ইসলাম : যদি কোনো কারণে মনে হয় জাতীয় পার্টি কথা রাখছে না, তখন কী করবেন?

মাওলানা আমিন : আমরা আশা করছি, তারা কথা রাখবে। তারপরও যদি তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তবে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে।

[ব্যবসার যাবতীয় কাজ সহজ করতে এলো বিসফটি।  এখনই রেজিস্ট্রেশন করুন বিসফটি।]

-আরআর