শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮

তিন কারণে বরিশালে হাতপাখা জয়ী হতে পারে

OURISLAM24.COM
জুলাই ১১, ২০১৮
news-image

রায়হান মুহাম্মদ ইবরাহিম
আলেম, লেখক ও শিক্ষক

বরিশাল সিটিতে আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখানে সাতটি দল প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের একটি। ৩ টি কারণ সামনে রেখে আমাদের মনে হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী খ্যাতিমান আলেমে দীন মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব বিজয়ী হতে পারেন। কারণগুলো হলো-

ব্যক্তিইমেজ : স্থানীয় নির্বাচনে দলের চেয়ে ব্যক্তিইমেজই বেশি গুরুত্ব পায়। সে হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব অন্য কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই; বরং শিক্ষা, যোগ্যতা ও সততায় এগিয়ে রয়েছেন।

তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা-ভালোবাসায় পরিচালিত বরিশালের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক।

হাটহাজারীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর একান্ত স্নেহধন্য ক্লিন ইমেজের এ প্রার্থীর পক্ষে ইতোমধ্যেই বরিশালের বৃহত্তর উলামায়ে কেরামও সমর্থন জানিয়েছেন।

হেফাজত আন্দোলনে এ অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়ে এবং জেল খেটে মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব বরিশালবাসীর হৃদয়েও যে জায়গা করে নিয়েছেন, প্রচারণার শুরুতেই গণমানুষের অভাবনীয় সাড়ায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দলীয় শক্ত অবস্থান : বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন। তৃণমূল পর্যায়েও মূল সংগঠনসহ সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় কমিটি গঠন করে দীর্ঘদিন যাবত নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে আসছে। কোথায়ও কোনো কোন্দল নেই।

অন্যরা যেখানে দলীয় কোন্দল নিরসনে ব্যস্ত, সেখানে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আছেন। এক্ষেত্রেও হাতপাখার প্রার্থী এগিয়ে আছেন।

শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সহযোগী সংগঠন- ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ব্যানারে তাদের পাশে থাকায় শ্রমিকরাও এবার ইসলামী আন্দোলন তথা হাতপাখার পাশেই থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর তরুণ ও নারী ভোটারদেরও হাতপাখার পক্ষে টানার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আলোকে নিরলস কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

হাতপাখার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা : নিকট অতীতে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সর্বশেষ নির্বাচনে হাতপাখার প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় এ নির্বাচনগুলোতে ভোট বেড়েছে পাঁচ থেকে দশ গুণ।

বরিশাল সদর এলাকায় হাতপাখা বিগত (সংসদ) নির্বাচনে ভোট পেয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার। এটাকে রিজার্ভ ভোট ধরে যদি পাঁচগুণ বাড়ানো হয়, তাহলে হাতপাখার ভোট হতে পারে এক লক্ষ ৫০ হাজার।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৪ জন। আভাস পাওয়া যাচ্ছে এখানে নৌকা-ধানের শীষ ও হাতপাখার মধ্যে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

মোট ভোটার এবং সম্ভাব্য কাস্ট হওয়া ভোটের হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার ভোট যিনি পাবেন, তিনিই বিজয়ী হয়ে যেতে পারেন। হাতপাখার এ পরিমাণ ভোট পাওয়ার আশা কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়।

(এ হিসাবটা তখনই কার্যকরী হবে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়)

‘জয়ী হলে বেতনের অর্ধেক টাকাও জনসেবায় দেব ইনশাআল্লাহ’

-আরআর