শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিকেএমের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় অধিবেশন চলছে মক্কায় বাঙালি নারী প্রতিষ্ঠিত প্রথম কওমি মাদরাসা! দুই প্রতিষ্ঠানে ‘যে গল্পে ঈমান জাগে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন দৃষ্টির হেফাজত ঈমানের নূর ও অন্তরের প্রশান্তির উৎস: মসজিদে হারামের খতিব আলজেরিয়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ২৭ ছাত্রদের নেতৃত্ব গড়ে উঠতে হবে আদর্শ, নৈতিকতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে: শায়খে চরমোনাই দুপুরের মধ্যে ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা নারীদের জন্য হাতিমে প্রবেশের সময়সূচি ও নির্দেশনা প্রকাশ ‘বন্দে মাতরম’ মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী: মাওলানা আরশাদ মাদানী হবিগঞ্জে হামলায় আহত আলিফকে দেখতে হাসপাতালে আমিরে মজলিস

আলেমদের ফিকহী মতপার্থক্যে শিক্ষার্থীর করণীয় কী?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম 
ডেস্ক

প্রশ্ন: আমি শরী‘য়াহ্‌ অনুষদের প্রথম বর্ষের ছাত্র; অনেক বিরোধপূর্ণ মাসআলা আমাদের নিকট পেশ করা হয়। আর এসব মাসআলার ক্ষেত্রে কোনো কোনো অধিক গ্রহণযোগ্য মাসআলা এখনকার সময়ের আলেমদের কোনো কোনো বক্তব্যের বিপরীত, অথবা আমরা মাসআলাসমূহ গ্রহণ করি, কিন্তু সেগুলো থেকে অগ্রাধিকার দেয়ার মত কিছু নেই।

ফলে আমরা আমাদের কাজে-কর্মে হয়রানির শিকার হই। সুতরাং বিরোধপূর্ণ মাসআলার হুকুমের (বিধানের) ক্ষেত্রে অথবা যখন সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আমরা প্রশ্নের সম্মুখীন হব, তখন আমরা কী করব? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন।

উত্তর: প্রশ্নকারী ব্যক্তি যে প্রশ্নটির অবতারণা করেছে, সেটি শুধু শরী’য়াহ্‌ অনুষদের ছাত্রের প্রশ্নই নয়, বরং এটা সাধারণভাবে প্রত্যেকেরই প্রশ্ন। যখন কোনো ফতোয়াকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ দেখে, তখন সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থমকে দাঁড়ায়।

কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো- এতে হয়রান হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, যখন কোনো মানুষের নিকট একই বিষয়ে বিভিন্ন রকম ফতোয়া আসবে, তখন সে ওই ব্যক্তির মতামতের অনুসরণ করবে, যাকে সে তার অধিক জ্ঞান ও ঈমানী শক্তির কারণে সত্যের খুব কাছাকাছি দেখবে।

যেমনিভাবে মানুষ যখন অসুস্থ হয়, অতঃপর তার চিকিৎসার ব্যাপারে দু’জন ডাক্তার ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে, তখন সে ওই ডাক্তারের কথাকে গ্রহণ করে, তার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র প্রদানে যার কথাটিকে তার নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।

আর যদি তার নিকট দু’টি বিষয়ই সমান হয়, অর্থাৎ যদি বিরোধপূর্ণ মতামত পেশকারী দুই আলেমের কোনো একজনকে প্রাধান্য দেয়া না যায়, তখন আলেমদের কেউ কেউ বলেন- সে কঠিন মতটির অনুসরণ করবে, কেননা এতে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

আর কোনো কোনো আলেম বলেন, সে সহজ মতের অনুসরণ করবে। কারণ, এটাই ইসলামী শরী’য়াতের মূলনীতি। আবার কেউ কেউ বলেন, তার জন্য এটা এবং ওইটা উভয়টার যে কোনো একটা গ্রহণ করার ব্যাপারে স্বাধীনতা থাকবে। আর অধিক গ্রহণযোগ্য কথা হলো- সে সবচেয়ে সহজ মতামতটি গ্রহণ করবে। কারণ, এটা ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সহজ-সরলতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

কেননা আল্লাহ (তাবারাকা ওয়া) তা’আলা বলেন- يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ

“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না।”- ( সূরা আল-বাকারা: ১৮৫); তিনি আরও বলেন- وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ

“তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।”- ( সূরা আল-হাজ্জ: ৭৮)।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا “তোমরা সহজ কর, কঠিন বা জটিল করো না।” - (আহমাদ); আর যে কোনো বস্তুর ব্যাপারে মূলকথা বা মৌলিক নীতিমালা হচ্ছে, ‘দায়দায়িত্ব বা জিম্মাদারী (কঠিনতা থেকে) মুক্ত থাকা’ যতক্ষণ না সে দায়-দায়িত্ব বা জিম্মাদারী (মত কঠিনতা) মুক্ত না হওয়ার ব্যাপারটি সাব্যস্ত হবে।

আর এই কায়দা বা নিয়ম ওই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে ব্যক্তি নিজে নিজে সঠিক বিষয় অনুধাবন করতে সক্ষম নয়; সুতরাং সে যদি সত্য অনুধাবন বা উদঘাটনে সক্ষম হয় এবং তার মাঝে যদি এর শর্তগুলো পাওয়া যায়, যেমন: সে এমন ছাত্র, যে এই মাসআলার মধ্যে কি বলা হয়েছে, তা পাঠ করতে।

অতঃপর তার নিকট বিদ্যমান শরী’য়তের দলিলসমূহের মাধ্যমে যা তার নিকট শ্রেষ্ঠ মনে হয়, তা প্রাধান্য দিতে সক্ষম; তাহলে এমতাবস্থায় তার উপর জরুরি হলো- সে গবেষণা করবে ও পড়াশুনা করবে, যাতে সে এসব মতামত থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মতটি সম্পর্কে জানতে পারে, যেসবের ব্যাপারে আলেমগণ মতপার্থক্য করেছেন। এর বেশি আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি আমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন। সূত্র: ইসলামকা ডটকম।

আরও পড়ুন - কিছু জরুরী শিক্ষা পরামর্শ
আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ