২০১৮-০৭-০৯

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মসজিদে নববীতে যেখানে জমে পাঠকের ভিড়

OURISLAM24.COM
news-image

সুফিয়ান ফারাবী
সৌদি থেকে ফিরে

মসজিদে নববীতেই সর্বপ্রথম স্থাপিত হয় মাদরাসা। এখান থেকে শুরু হয় ইসলামি জ্ঞানের বিকাশ এবং এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে দুনিয়ার আনাচে কানাচে কুরআন-হাদিসের আলো। সেই মাদরাসাটির নাম হলো আসহাবে সুফ্ফা। রাসুল সা. যেখানে শুয়ে আছেন তার একদম নিকটেই ছিল মাদরাসাটি।

আজ আমাদের মাঝে রাসুল সা. নেই। আছে তাঁর স্মৃতিধন্য মসজিদে নববী। যার সবকিছুই মুগ্ধ করে মুমিনদের। জান্নাতি পরিবেশ, মসজিদের ইমামদের মনমুগ্ধকর তিলাওয়াত, সাজসজ্জা আরো কতো কী!

কিন্তু এখানে যেসব জ্ঞানি-গুণীরা আসেন তাঁদের আরো একটি জিনিসও খুব বেশিই মুগ্ধ করে। সেটা হলো মসজিদে নববীর ‘মাকতাবা’ । যা মসজিদে নববীর দশনম্বর গেইটে দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত। পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই মানুষ রাসুলের রওজা জিয়ারতে আসেন না কেন, তাঁরা জিয়ারত সেরে মসজিদে নববীর মাকতাবায় ঢুকবেনই। কারণ এখানে যে হাজার হাজার কিতাবের সমারোহ।

মাকতাবা ঘুরে দেখা যায় এখানে প্রায় সবগুলো হাদিসের কিতাবই রয়েছে। শুধু হাদিসের কিতাবই নয়, এখানে রয়েছে তাফসীরের কিতাব, ফিকাহের কিতাব, ইসলামি তারিখের কিতাব, নাহুর কিতাব-সরফের কিতাব ও ইসলামি নানান ধরনের কিতাব।

চার মাজহাবের সবগুলো মতন ও মতনের শরাহও এখানে তাকে তাকে সাজানো রয়েছে।  হানাফী মাজহাবের কিতাবগুলো এক রেকে। শাফেয়ী মাজহাবের কিতাবগুলো অন্য রেকে। মালেকী ও হাম্বালী মাজহাবের কিতাবগুলোও আলাদা আলাদা রেকে। মনে হয় গ্রহণযোগ্য এমন কোন কিতাব নেই যা এখানে নেই।

আধুনিক পদ্ধতিতে মুতালায়া করার জন্যও রয়েছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি। যাতে মানুষ সহজেই মুতালায়া করতে পারেন।

এ মাকতাবার কিতাবের সংখ্যা কতো, কোথা থেকে আপনারা কিতাব সংগ্রহ করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মাকতাবার দায়িত্বশীল বলেন, আমাদের এখানে প্রায় একলক্ষ্য কিতাবের সংগ্রহ রয়েছে। আমরা আমাদের দেশ ছাড়াও মিশর, কাতার, ব্রুনাই ও হিন্দুস্তান থেকে কিতাব আমদানি করে থাকি।

তিনি আরও জানান, খাজা-ইনুল কুতুবিল আরাবিয়্যাহতে উল্লেখ আছে, মাকতাবাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ রমজান ৮৮৬ হিজরিতে। তবে প্রথম মাকতাবার কিতাবগুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পুনরায় ১৩৫২ হিজরিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

মসজিদে নববীর তৎকালিন সময়ের দায়িত্বশীল মাওলানা উবায়েদ মাদানি রহ. এর প্রস্তাবে মাকতাবাটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। মাকতাবার প্রথম মুদির (দায়িত্বশীল) ছিলেন আহমদ ইয়াসিন আল খিয়ারি।

এটি সৌদি আরবের প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর অন্যতম। এখানে ৫৮০ হিজরিতে লিখিত কিতাব এবং কোরআনের প্রাচীন নকশা আছে।

কেন ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে পারে তুরস্ক?

-আরআর