২০১৮-০৬-২৪

বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

থানবী রহ. কে হযরত হাজী সাহেবের দুই উপদেশ

OURISLAM24.COM
news-image

হুমায়ুন আইয়ুব : হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.। উপমহাদেশের ইলম ও তাসাউফের বাদশাহ। আলেমদের হৃদয়রাজ্যে চলে যার একচ্ছত্র শাসন। তিনি ভারত ছেড়ে হিজরত করেছেন মক্কায়। বায়তুল্লাহর প্রতিবেশি হয়ে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন।

মক্কায় ডেকে নিয়েছেন হযরত থানবী রহ.কেও। হাজী সাহেব রহ. বড় আদর করে ‘মিয়া আশরাফ আলী’ ডাকতেন তাকে।

হজের সফরে বায়তুল্লাহর মহব্বত। সঙ্গে আপন মাহবুব হাজী সাহেবের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা-ভক্তির সময় চলছে। ছয় মাস নিজে ইশকের জ্বলন্ত আগুনে পুড়বেন। হাজী সাহেবের ইলমি দরিয়া ও তাসাউফের ভা-ার থেকে তুলে নেবেন কিছু মণিমুক্ত।

ওহির পবিত্র ভূমিতে চলছে মিয়া আশরাফ আলীর জীবন গঠনের দীক্ষা। শায়েখের দরবারে নিজেকে আত্মশুদ্ধির উপমাতুল্য বানানোর প্রশিক্ষন। শিষ্য হযরত থানবীর প্রতি অগাধ স্নেহ মায়া হাজী সাহেবের হৃদয়ে। বড় যতে, চাষ করছেন থানবীর দিল-দুনিয়া। কারণ তিনিই হবেন এই উপমাহাদেশে হাজী সাহেবের প্রতিচ্ছবি। মিয়া আশরাফ আলীই হবেন উম্মতের আস্থা, ভালোবাসা ও চেতনার মিনার। তিনি আমাদের হযরত আশরাফ আলী থানবী।

সময় যত গড়িয়ে যায় থানবী সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেন। হাজী সাহেবের ইশকের আগুনে দগ্ধ এই মন। কামারের হাঁপরের আগুনে লোহা প্রস্তুত হয়। হাজী সাহেবের ইশকের আগুনে তৈরি হয় থানবীর হৃদয়জমিন।

অল্পতেই প্রস্তুত হয়ে উঠলেন হযরত থানবী। নিজেকে মেলে ধরলেন আত্মশুদ্ধির এক স্তম্ভ ও আলোকিত মানুষের উপমা হিসেবে। অন্তর থেকে অন্তরে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে গড়িয়ে পড়ল মারেফাতের পেয়ালা উপচে।

হাজী সাহেব রহ. অন্তর্দৃষ্টিতে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও দরদি হৃদয়ের মালিক হয়ে উঠলেন মাওলানা আশরাফ আলী।

– মিয়া আশরাফ আলী!
– জি হযরত!

– তোমাকেই নিতে হবে আগামী পৃথিবীর ভার!
– জি হযরত।

– এই উপমহাদেশে তুমি আমার প্রতিনিধি।
– জি হযরত।

– তোমাকে তাসাউফের ইজাজত ও খেলাফত দান করলাম।
– জি হযরত।

– জীবনভর মানুষ ও মানবতার দাস হয়ে থাকবে। ইলমে নবুওতের সেবা করে যাবে।
– জি হযরত।

সফরের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারত ফেরার কথা বললে দুটি উপদেশ করলেন হাজী সাহেব রহ.।
তিনি বললেন, মিয়া আশরাফ আলী! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহ তাআলা তোমাকে সমকালীন পৃথিবীতে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী করবেন। যা লিকা মিন ফাযলিল্লাহ, ইউহিতি মান ইয়াশা।

যাবার বেলা দুটি কথা মনে রেখো :
এক. মাতৃভূমি ভারতে পৌঁছার পর তোমার মনোরাজ্যে আলোকিত ও আন্তরিক পরিবর্তন দেখতে পাবে। অস্বাভাবিক এই পরিবর্তনে ভয় পাবে না। আমাকে পত্র মারফত সব অবস্থা অবগত করবে।

দুই. মাদরাসার নিয়ম-নীতি তোমার হৃদয় সহনীয় হয়ে উঠবে। মাতৃভূমিতে পৌঁছে আমার ইমদাদি খানকা ও মাদরাসাকে জীবনের শেষ ঠিকানা বানাবে। উম্মতের দরদি মালি হয়ে উঠবে মিয়া আশরাফ আলী!