২০১৮-০৬-২৪

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ; ভয়াবহ সঙ্কটের আশঙ্কায় বিশ্ব

OURISLAM24.COM
news-image

এম. ফরহাদুল ইসলাম
অতিথি কলাম লেখক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মি. ডােনাল্ড ট্রাম্প তার শাসন আমলে একাধিকবার আমদানি শুল্ক আরােপ করেছেন, যা সাধারণত ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’ হিসাবেই পরিচিত।

সর্বশেষ জানুয়ারি ২০১৮ মাসে সােলার প্যানেল ও ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে এবং মার্চ মাসে ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে কর আরােপ করে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ ঘােষণা করেছেন বলেই মনে হচ্ছে।

১ জুন ২০১৮ তারিখ হতে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরােপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে ইস্পাত আমদানিতে ২৫% ও এ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ১০% শুল্ক আরােপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলাে এতে স্বভবতই নাখােশ হয়েছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিযােগ্য দ্রব্যাদির উপর প্রতিশােধমূলক শুল্ক আরােপের পরিকল্পনা করেছে। ফলাফল, বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি বৃদ্ধি।

মর্গান স্টানলি’র মতে ইস্পাত, এ্যলুমিনিয়াম, ওয়াশিং মেশিন এবং সােলার প্যানেল মিলে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪.১% আমদানিকে কভার করা হয়েছে।

কিন্তু, এই শুল্ক আরােপ অর্থনীতিবিদরা সমালােচনার দৃষ্টিতেই দেখছেন। রয়টার্স কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের ১০৪ জন অর্থনীতিবিদের ৮০% ই মনে করেন, এই শুল্ক আরােপের ফলে অন্য কোন দেশের সামান্য ক্ষতি হতেও পারে বা নাও পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কোন অর্থনীতিবিদই মনে করেন না, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই লাভবান হবে।

অভ্যন্তরীণভাবেও কনজারভেটিভ ও রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে এই শুল্ক আরােপ মারাত্মক সমালােচনার সম্মুখীন। এমনকি, ডেমােক্রাটদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র।

শুল্ক আরােপের পটভূমি

২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সকল বাণিজ্য বিষয়ক চুক্তিসমূহ পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং চীনা দ্রব্যাদির কারণে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সে দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিধায়, চীনা আমদানীর উপর কঠিন শুল্ক আরােপ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

জানুয়ারি ২০১৬ এ নিউইয়র্ক টাইমস এর সম্পাদকীয় বাের্ডের সাথে এক সভায় চীন থেকে সকল আমদানি পন্যের উপর ৪৫% শুল্ক আরােপের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এমনকি, North American Free Trade Agreement এর সমালােচনা করে এটাকে “the worst trade deal the U.S. has ever signed.” বলে মন্তব্য করেন।

একইভাবে, Trans-Pacific Partnership 45 fac “the death blow for American manufacturing and that it would put the interests of foreign countries above our own” বলে মন্তব্য করেন।

২১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় “putting America first” নামে এক অর্থনৈতিক কৌশল তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন, “he would negotiate fair, bilateral trade deals that bring jobs and industry back onto American shores.” ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণের তিনদিন পরই Trans-Pacific Partnership হতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘােষণা দেন ট্রাম্প। কারণ, তার মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও স্বাধীনতাকে খর্ব করে।।

ট্রাম্প কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে স্বাক্ষরিত North American Free Trade Agreement বাতিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই চুক্তির শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনার জন্য বর্তমানে আলােচনা চলমান।

পুনর্বিবেচনায় এ আলােচনায় কোন বিষয় তার মনপুত না হলে ট্রাম্প আলােচনা হতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশেষভাবে ফোর্ড মটর কোম্পানি, ক্যারিয়ার কর্পোরেশান ও মােন্দেলেজ ইন্টারন্যাশনালের মেক্সিকোতে কার্যক্রম স্থানান্তরের কড়া সমালােচনা করেন।

আগস্ট ২০১৫ এ অরিও কুকিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মােন্দেলেজ ইন্টারন্যাশনালের মেক্সিকোতে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থানান্তরের প্রতিবাদে ওরিও বয়কটের ঘােষণা দিয়েছিলেন।

বাণিজ্য চুক্তির ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভােটারদের সাথে প্রতিজ্ঞার অংশ হিসাবে যে সমস্ত কোম্পানি চাকরি হতে কর্মী ছাটাই ও যুক্তরাষ্ট্র হতে অন্যদেশে ব্যবসা স্থানান্তর করবে তাদের পন্যের উপর “End the offshoring Act” জারি করে শুল্ক আরােপের ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোন বিল কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়নি। শুল্ক আরােপের বিষয়টি Department of Commerce ও Office of the United States Trade Representative এর আওতাধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ মনে করে, এ ধরণের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে ইমিগ্রেশান, মুক্ত বাণিজ্য ও সামরিক হস্তক্ষেপ হতে বিরত রাখার জন্য এবং রিপাবলিকান দলকে more populist, nativist, avowedly protectionist, and semi-isolationist করার চেষ্টা মাত্র।

মুক্ত বাণিজ্যের প্রবক্তা স্টিফেন মুর ও কনজার্ভেটিভ অর্থনীতিবিদ লরেন্স কুডলৌ এর মতে ট্রাম্প একজন সংরক্ষণবাদি মানুষ। বাণিজ্য সংরক্ষণশীলতায় তার বিশ্বায়ন-বিরােধী নীতি প্রায়শই তার নিজ দলের সীমা অতিক্রম করে থাকে।

আবার কোন কোন সময় নীতি নির্ধারকদের কেউ কেউ তা প্রশংসাও করে থাকেন। উদাহরণ হিসাবে, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এর Trans-Pacific Partnership থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের প্রশংসায় দেয়া মন্তব্য, “For the last 30 years, we have had a series of trade deals, which have cost us millions of decent-paying jobs and caused a ‘race to the bottom’ which has lowered wages for American workers.” প্রনিধানযােগ্য বটে।

PolitiFact, তথ্যের সত্যতা যাচাইকারি একটি ওয়েবসাইট, এর একজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে বর্তমান শুল্ক আরােপ সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারী ক্ষেত্রে কিছু কর্ম সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারলেও ভােক্তা ও উৎপাদন পর্যায়ে অবশ্যই খরচ বৃদ্ধি করবে, স্টক মার্কেট অবনমিত হবে, সুদের হার বেড়ে যাবে এবং বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হবে।

তারা আরাে উল্লেখ করেন, বর্ধিত শুল্ক আরােপের ফলে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়ামের উপর আমদানি শুল্ক আরােপ

১ মার্চ ২০১৮ তারিখে ট্রাম্প ইস্পাত আমদানিতে ২৫% ও এ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ১০% শুল্ক আরােপ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে এক টুইট বার্তায় বলেন, “Trade wars are good, and easy to win.” ৮ মার্চ তারিখে তিনি বর্ধিত এ শুল্ক আরােপেরে আদেশে সই করেন, যা স্বাক্ষরের ১৫ দিন পর অর্থাৎ ২৩ মার্চ হতে কার্যকর হয়েছে।

আপাতত নাফটা চুক্তির আওতায় এই বর্ধিষ্ণু শুল্ক কানাডা ও মেক্সিকোর উপর আরােপিত হচ্ছে না বলে তখন জানানাে হয়। একই সাথে এ কথাও বলা হয়, কানাডা ও মেক্সিকোর উপর শুল্ক আরােপ না করার এই অবস্থা স্থায়ী নয়, সাময়িক এবং নাফটা চুক্তির দর কষাকষির ওপর নির্ভর করছে কখন এই শুল্ক তাদের ওপর আরােপ করা হবে।

২২ মার্চ ২০১৮ তারিখে হােয়াইট হাউজের এক ঘােষণায় কানাডা, ইউরােপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ১ মে ২০১৮ পর্যন্ত বর্ধিত শুল্ক হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। অন্য সকল দেশের সাথে ২৩ মার্চ ২০১৮ তারিখ হতে এই বর্ধিত শুল্ক আরােপিত হয়।

২৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া ও ২ মে ২০১৮ তারিখে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে স্থায়ীভাবে ইস্পাত শুল্ক হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। ৩১ মে ২০১৮ তারিখ হতে ট্রাম্প কানাডা, ইউরােপিয়ান ইউনিয়ন ও মেক্সিকোর হতে ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে বর্ধিত শুল্ক আরােপ করেন।

সােলার প্যনেল আমদানিতে শুল্ক আরােপ

২৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিন সােলার প্যানেলের আমদানির উপর ৩০% শুল্ক আরােপের সিদ্ধান্ত ঘােষণা করা হয়। এই ৩০% শুল্ক নিম্নের ছক অনুযায়ী চার বছরে ক্রমান্বয়ে ১৫% এ নামিয়ে আনা হবে।

বর্তমানে চীন বিশ্বে সর্বাধিক সােলার প্যানেল উৎপাদক। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরােপকে তারা নিন্দা করবেই। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী Zhong Shan তার এক বক্তব্যে বলেছেন, “With regard to the wrong measures taken by the United States, China will work with other W.T.O. members to resolutely defend our legitimate interests.”

পরিবেশবিদ ও প্রাণী অধিকারের প্রবক্তাগণ সােলার সেলের উপর শুল্ক আরােপের ফলে টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হবে বিধায়। ট্রাডিশনাল উপায়ে চাহিদা মােতাবেক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি সমূহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ওয়াশিং মেশিন আমদানির উপর শুল্ক আরােপ

২৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে সােলার প্যানেলের সাথে সাথে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস ওয়াশিং মেশিন আমদানির উপর শুল্ক আরােপ করে। ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের মতে ২০১২ সাল হতে ২০১৬ সালে বসতবাড়িতে ব্যবহার্য্য বড় সাইজের ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযােগ্য পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে বিধায় আমদানিও অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে, দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি এ খাতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

নিম্নের ছক অনুযায়ী প্রথম বছরে ওয়াশিং মেশিন আমদানির উপর শুল্ক ২০% শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৩ বছরে পর্যায়ক্রমে ১৬% এ নামিয়ে আনা হবে। তবে এই ২০% শুল্ক শুধুমাত্র বছরে প্রথম ১.২ মিলিয়ন ওয়াশিং মেশিন আমদানির উপর আদায় করা হবে। এর বেশি সংখ্যায় আমদানির উপর ৫০% শুল্ক আদায় করা হবে, যা তৃতীয় বছরে ৪০% এ নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ওয়াশিং মেশিন উৎপাদক Whirlpool এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই শুল্ক বসানাে হয়। Whirlpool দক্ষিণ কোরিয়ার LG Electronics ও Samsung এর সাথে প্রতিযােগিতায় টিকতে পারছিল না।

২০১৬ সালে চীন ৪২৫ মিলিয়ন ডলার, মেক্সিকো ২৪০ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ওয়াশিং মেশিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে।

চীনা দ্রব্যাদি আমদানির উপর শুল্ক আরােপ

২২ মার্চ ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের Trade Act 1974 এর Section 301 এর আওতায় US Trade Representative (USTR) কে চীনা দ্রব্যাদির উপর ৫০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আরােপের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ত্ব চুরির অভিযােগে এই শুল্ক আরােপ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন।

তার মতে, চীনা দ্রব্যাদি আমদানির উপর এই শুল্ক আরােপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ‘আরাে শক্তিশালী ও আরাে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। প্রকৃতপক্ষে, এই শুল্ক আরােপ বিশ্বে বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা আরাে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের এই ঘােষণার সাথে সাথে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কায় Dow Jones এর সূচক দ্রুত কমতে শুরু করে এবং ৭২৪ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.৯% পতন হয়। Caterpillar Inc. ও Boeing এর মত বড় বড় প্রতিষ্ঠান যারা চীনের সাথে ব্যবসা করে তারা তাদের স্টকের দরপতনে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

যাহােক, যুক্তরাষ্ট্রের চীনা দ্রব্যাদির উপর আরােপিত শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের ১২৮টি দ্রব্যের উপর শুল্ক আরােপের ঘােষণা দেয়। এর মধ্যে ফল, মদ সহ ১২০ টি দ্রব্যের উপর ১৫% ও শুকরের মাংসসহ বাকি ৮টি দ্রব্যের উপর ২৫% শুল্ক আরােপ করা হয়। ২ এপ্রিল ২০১৮ এই সিদ্ধান্ত চীন কার্যকর করে।

চীন কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে ৩ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে U.S. Trade Representative অফিস ফ্ল্যাট স্ক্রিন টেলিভিশন, অস্ত্র, স্যাটেলাইট, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, বিমানের যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারিসহ ১৩০০’র উপরে চীনা দ্রব্যাদির উপর শুল্ক আরােপ করে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন ৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে অটোমােবাইল, উড়ােজাহাজ ও সয়াবিনসহ ১০৬টি আমেরিকান দ্রব্যের উপর ২৫% শুল্ক আরােপ করে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন চীনে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে।

শুল্ক আরােপ সংক্রান্ত ব্যবস্থা ও পাল্টা-ব্যবস্থা গ্রহণ দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধকে তরান্বিত করতে থাকে। ৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে ট্রাম্প তার এক টুইট বার্তায় উলেলখ করেন, “We are not in a trade war with China, that war was lost many years ago by the foolish, or incompetent, people who represented the U.S. Now we have a Trade Deficit of $500 Billion a year, with Intellectual Property Theft of another $300 Billion. We cannot let this continue!” এবং পরের দিনই U.S. Trade Representative কে চীনা দ্রব্যাদির উপর অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন শুল্ক আরােপের নির্দেশ দেন।

৯ মে ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির সমস্ত অর্ডার বাতিল করে দেয় চীন। U.S. Soybean Export Council এর চীনা পরিচালক Zhang Xiaoping বলেন, “The buyers simply stopped buying from the U.S. Exporters cannot find any buyers in China.”

দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক

২৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া এক কূটনৈতিক সভায় Korea – US Free Trade Agreement (KORUS FTA) এ শুল্ক সংক্রান্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘােষণা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালে মেয়াদ শেষে আরাে ২০ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৪১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ট্রাক রপ্তানির উপর ২৫% শুল্ক মওকুফের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করে।

তবে মজার বিষয় হল, দক্ষিণ কোরিয়ার কোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক রপ্তানি করে না। যাহােক, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির উপর আংশিক শুল্ক ছাড় দেয়ার জন্য রাজি হয়।

শুল্ক আরােপের আইনগত ভিত্তি ও তার চ্যালেঞ্জসমূহ

ট্রাম্পের শুল্ক আরােপের ভিত্তি হলাে Section 232 of the Trade Expansion Act of 1962, যার অধীনে কোন নির্দিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে (“if an article is being imported into the United States in such quantities or under such circumstances as to threaten or impair the national security”) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে শুল্ক আরােপের জন্য প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

আইনের এই ধারাটি খুব কমই প্রয়ােগ করার ইতিহাস আছে। ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর হতে এই ধারাটি কখনও প্রয়ােগ করা হয়

যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরােপের বিরূদ্ধে ৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে চীন এবং ১ জুন ২০১৮ তারিখে ইউরােপিয় ইউনিয়ন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আপত্তি দাখিল করেছে।

ট্রাম্প যেভাবে একের পর এক বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরােপ করে চলেছেন এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছেন তার সুদূর প্রসারী প্রভাব মারাত্মক। এর প্রভাব যে শুধু চীন, কানাডা বা ইউরােপিয় ইউনিয়নের ওপর পড়বে তা নয়, এর প্রভাব পরাে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়বে।

ইতােমধ্যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সেদেশে রপ্তানির উপর প্রতিশােধমূলক শুল্ক আরােপ করেছে, কানাডা ১ জুলাই হতে প্রতিশােধমূলক শুল্ক আরােপ করবে এবং ইইউ ও মেক্সিকো একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মর্মে ঘােষণা দিয়েছে।

অনেক বড় বড় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের ব্যবসা আশেপাশের দেশে স্থানান্তর করতে শুরু করেছে। শুল্ক ব্যবস্থায় যদি পরিবর্তন না আসে তবে এই স্থানান্তরের পরিমাণ দিনদিন বাড়বে বলেই অনুমিত।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক মাইকেল মুর বলেছেন, অভ্যন্তরীণ খাতকে সুরক্ষা দেয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অংশীদারদের বিরক্ত করা- এ দুটির মধ্যে সূক্ষ ভারসাম্য রাখা উচিৎ।

ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ম্যাট গােল্ড বলেছেন, আমরা যদি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করি তাহলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভীত নাড়িয়ে দেবে।

বিশ্বের এক নম্বর এবং দুই নম্বর অর্থনীতির মধ্যে এই বাণিজ্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। মি. ট্রাম্প বাণিজ্য যুদ্ধ ভালাে – এই উদ্বেগকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেনএবং আমেরিকার তাতে কোনাে ক্ষতি নেই, বরঞ্চ লাভ।

৫টি প্রধান কারণে এই শুল্ক আরােপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে

(১) আমেরিকায় ইস্পাত এবং এ্যালুমিনিয়াম শিল্পে চাকরির সুযােগ নাও বাড়তে পারে (২) বাড়তি শুল্কের ফলে আমেরিকায় জিনিষ-পত্রের দাম বাড়বে (৩) বাড়তি শুল্কে আমেরিকার মিত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তারা পাল্টা জবাব দিবে (৪) চীন পাল্টা জবাব দিবে (৫) অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উপর এর প্রভাব পড়বে

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুরােদমে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে তা পৃথিবীর অর্থনীতির ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা।

সংস্থাটির মহাপরিচালক রবার্টো আজেভেডাে এক সতর্কবার্তায় বলেছেন (ডব্লিউটিও), বৈশ্বিক অর্থনীতির বিকাশ হ্রাস পেতে পারে খুব দ্রুত। যুক্তরাষ্ট্রের চীনা দ্রব্যাদির ওপর শুল্ক আরােপের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং বলেছে, তারা বাণিজ্য যুদ্ধকে ভয় পায় না, কিন্তু আলােচনার পথ খােলা থাকা উচিত।

আজেভেডাে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ডব্লিউটিও তাদের ২৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলাের একটি পার করছে।

তিনি আরাে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউটিও ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও, তারা সত্যিই এমনটা করার জন্য কোনাে পদক্ষেপ নেয়নি। এখনও আলােচনা ও দরকষাকষি চলছে।

তবে এই পরিস্থিতিকে কোনােভাবেই হাল্কা করে দেখার সুযােগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই যুদ্ধ এড়াতে চাই। এটি করতে এ মুহূর্তে যা যা করা সম্ভব তার সবই আমাদের করতে হবে।

ইকোনমিস্ট-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক অনেক দিন আগে থেকে আমেরিকান গ্র্যান্ড স্ট্যাটেজি তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত- উন্মুক্ত বাণিজ্য এবং তা থেকে সৃষ্ট সমৃদ্ধি; জাপান থেকে অস্ট্রেলিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত দৃঢ় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মিত্রতা; এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবােধের বিকাশ।

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডােনাল্ড ট্রাম্প এগুলাের কোনােটিকে পরােয়া করেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তার বিজয়ে এশিয়ায় আমেরিকান শক্তি ও মর্যাদায় বিরাট আঘাত বিবেচিত হচ্ছে।

শুল্ক আরােপের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিশ্লেষণ

শিকাগাে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল অফ বিজনেস পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়ামের আমদানিতে শুল্ক আরােপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনমানের কোনো উন্নতি ঘটবেনা, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রায় ১,৪৬,০০০ হাজার মানুষ তাদের চাকরি হারাবে।

এ শুল্ক আরােপে লাভবান হবে একমাত্র ইস্পাত ও এ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী ইন্ডাস্ট্রিগুলাে। বুশ প্রশাসন কর্তৃক ২০০২ সালে ইস্পাতের উপর আরােপিত শুল্কের ফলে চাকরিপ্রাপ্তির তুলনায় চাকরি হারানাে লােকের সংখ্যা বেশি ছিল বিধায়, আরােপিত শুল্ক তখন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল।

তবে, প্রকৃত ক্ষতি এই অনুমিত ক্ষতির চেয়ে বেশি হবে, যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলােও নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি দ্রব্যের ওপর প্রতিশােধমূলক শুল্ক বসিয়ে দেয়।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র তার প্রয়ােজনের দুই-তৃতীয়াংশ ইস্পাত উপাদন করে সেহেতু তাদের এই শুল্ক আরােপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধুদের খুব কমই উপকারে আসবে, বরং বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে বেশি।

উল্লেখ্য, চীন হতে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত আমদানির পরিমাণ খুব কম। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি ট্রেড এ্যাসােসিয়েশান চীনের উপর শুল্ক আরােপ না করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি অনুরােধ জানিয়েছে। কারণ, চীনের উপর শুল্ক আরােপের ফলে যুক্তরাষ্টের চীনে রপ্তানি আশংকাজনক হারে কমে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ভােক্তাদের জন্য ক্ষতিকারকই হবে।

শুল্ক আরােপের প্রতিক্রিয়া

শুল্ক আরােপের প্রাথমিক ঘােষণাতেই চীন, কানাডা ও ইউরােপিয় ইউনিয়ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মােট ইস্পাত আমদানির ১৬% কানাডা, ১৩% ব্রাজিল, ১০% দক্ষিণ কোরিয়া, ৯% মেক্সিকো রপ্তানি করে থাকে। আর চীন রপ্তানী করে থাকে মাত্র ২% এবং চীনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত রপ্তানীকারক দেশ সমূহের প্রথম দশের মধ্যেই নাই।

এ শুল্ক আরােপের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক সয়াবিন আমদানীকারক দেশ চীন সয়াবিনসহ অন্যান্য আমদানির উপর শুল্ক আরােপ করেছে। কানাডিয়ান বাণিজ্য মন্ত্রী ফিলিপ শ্যাম্পেইন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরােপকে ‘অগ্রহণযােগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

ইউরােপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্য-ক্লড জাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের এহেন শুল্ক আরােপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কঠিন আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে বলে হুশিয়ার করেছেন।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত শ্রমিক সংগঠন AFL-CIO শুল্ক আরােপকে স্বাগত জানিয়েছে। একইভাবে ওহাইও’র ডেমােক্রাট সিনেটর শ্যারড ব্রাউনও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে ওহাইও’র ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রি অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করবে।

আবার অনেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান শুল্ক আরােপকে খুবই ক্ষতিকর হিসাবে মন্তব্য করেছেন। হাউজ স্পিকার পল রায়ান ও সিনেট মেজরিটি নেতা মিচ ম্যাককোনেল যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাকৃত প্রতিফল ভােগ করা ও সমান্তরাল ক্ষতির (collateral damage) হাত থেকে বাঁচার জন্য ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাউজ মাইনরিটি নেতা ন্যান্সি পেলােসি প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রয়ােজনীয় কৌশলগত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের গৃহীত ব্যবস্থাকে বিশৃঙ্খল ও আমেরিকার শ্রমিক শ্রেণি, ভােক্তাগণ ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের জন্য ধ্বংসাত্মক বলে সমালােচনা করেছেন।

৬ মার্চ ২০১৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের চেয়ারপার্সন গ্যারি কোহন পদত্যাগ করেন। এর প্রেক্ষিতে মি. কোহন কর্তৃক এই পরিকল্পিত শুল্ক আরােপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে আয়ােজিত প্রান্তিক ব্যবহারকারীদের সাথে ট্রাম্পের মিটিং ট্রাম্প বাতিল করেন।

মার্চ ২০১৮ মাসে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র ২৯% আমেরিকান ট্রাম্পের শুল্ক আরােপের সিদ্ধান্তকে। সমর্থন করেছেন অর্থ্যাৎ, বিপুল সংখ্যক জনগণ এই উদ্যোগকে সমর্থন করেনি।

আমেরিকান জাতীয় নিরাপত্তার কারনে শুল্ক আরােপে। কানাডা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিকে ‘অকল্পনীয়’ বলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডাে মন্তব্য করে বলেন, “American people are not the target … We hope eventually that common sense will triumph. Unfortunately, the actions taken today by the United States government do not appear headed in that direction.”

জি-৭ সম্মেলনের ব্যর্থতা এবং কানাডা ও ইউরােপিয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া

কানাডার কুইবেক প্রদেশের লা মালবেই শহরে ৮-৯ জুন ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪৪তম জি-৭ সম্মেলনের ঘােষণাপত্রে অন্য ছয় দেশের। সাথে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘােষণায় স্বাক্ষর করা বর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং দ্রুত সম্মেলনস্থল ত্যাগ করে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে বৈঠকের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের পথে রওনা দেন।

সম্মেলনের ব্যার্থতার পর জাস্টিন ট্রুডাে এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “Canadians are polite and reasonable but we will also not be pushed around.” ট্রডাে আরাে জানান, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন যে, “it would be with regret but it would be with absolute clarity and firmness that we move forward with retaliatory measures on July 1, applying equivalent tariffs to the ones that the Americans have unjustly applied to us.”

ট্রুডাের বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেন, “Based on Justin’s false statements at his news conference, and the fact that Canada is charging massive Tariffs to our U.S. farmers, workers and companies, I have instructed our U.S. Reps not to endorse the Communique as we look at Tariffs on automobiles flooding the U.S. Market!” ১০ জুন। ২০১৮ ভাের ৫:০৪ মিনিটে তিনি আরাে যােগ করেন, “PM Justin Trudeau of Canada acted so meek and mild during our

@G7 meetings only to give a news conference after I left saying that, “US Tariffs were kind of insulting” and he “will not be pushed around.” “Very dishonest & weak. Our Tariffs are in response to his of 270% on dairy!” এখানে তিনি সংশ্লিষ্ট আইনে নিরাপত্তার হুমকিজনিত কারনে প্রাপ্ত ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন নাই।

১০ জুন ২০১৮ তারিখ বরিবারে জার্মানীর চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মার্কেল ট্রাম্পের টুইটের জবাবে বলেন, “I don’t think that inflammatory language makes things better. Sometimes it seems the American president thinks that only one side wins and everyone else loses.” ট্রাম্পের জি-৭ ঘােষণা হতে এহেন প্রত্যাহারে মার্কেল দু:খ প্রকাশ করে আরাে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও এলুমিনিয়ামের উপর আরােপিত শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইউরােপীয় ইউনিয়ন।

ARD টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কেল বলেন, “The withdrawal, so to speak, via tweet is of course … sobering and a bit depressing.” তিনি আরাে যােগ করেন, “It’s hard, it’s depressing this time, but that’s not the end of the Group of Seven.”

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমা জোটের ভাঙন কতটা স্থায়ী, তা নির্ণয়ের সময় এখনাে আসেনি। তবে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র যে একা হয়ে পড়ছে, তাতে কোনাে সন্দেহ নেই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেই দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি না চায়, তাহলে জি-৭-এর পরিবর্তে জি-৬ গঠিত হবে।

আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, মূল্যবােধ রয়েছে; আমরাই তা রক্ষা করব। ট্রাম্পও জানিয়ে দিয়েছেন, তেমন কিছু ঘটলে তার তেমন কোনাে আপত্তি থাকবে না।।

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব

২০১৮ সালের বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালাে করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স (আইআইএফ)। সংস্থার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে করপােরেট কর কমায় তা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সহায়ক হবে। তবে বাণিজ্য যুদ্ধের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা প্রবৃদ্ধির চাকাকে লক্ষ্যচ্যুত করে দিতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বৈশ্বিক সংস্থাটি জানায়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে। বাড়বে। এ বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ০.২% বেড়ে হতে ৩.৫%। এতে বড় ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিরে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আসবে ২.৯%।

আইআইএফের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ সারগি লানাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কর সংস্কারের কারণে ভােক্তা ব্যয় এবং বিনিয়ােগ বেড়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছে। তবে বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা আশঙ্কার বড় কারণ।

আন্তর্জাতিক বাজারে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরােপের যে ঘটনা ঘটেছে তা বাজারে উদ্বেগের একটি কারণ হয়ে উঠেছে, যা বিনিয়ােগ ও ভােক্তা আস্থায় চিড় ধরাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরােপ শুধু যে সেই দুই দেশকেই ক্ষতিগ্রস্থ করবে তা নয়, রং তা সারা বিশ্বের সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাকে অস্থিতীশীল করে তুলবে ও দ্রব্য মূল্যের হার বাড়িয়ে দিবে। যদিও এর ক্ষতি চায়না তার বাজার উন্মুক্ত করে দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারবে বলে ধারণা।

শুল্ক আরােপের পরবর্তী দাপ হয়ত আমেরিকাতে চীনের বিনিয়ােগে বাধা দেয়া। আর যদি সেটা ঘটে চীনও বসে থাকবেনা। ফলে, যুদ্ধ। আর শুল্ক আরােপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা, তা সারা বিশ্বের সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাকে অস্থিতীশীল করে তুলবে। যার পরিণাম হবে, কোম্পানিগুলাে তাদের কারখানাসমূহ স্থানান্তরে বাধ্য হবে।

আর বিনিয়ােগ বাধাগ্রস্থ হওয়া অর্থ বেকারত্ব বৃদ্ধি ও অধিক কর আরােপ। আর এধরণের ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হবে কারণ, অনেক বহুজাতিক কোম্পানির, যেমন এ্যাপেল, এই দুই দেশেই বিনিয়ােগ রয়েছে।

এতে শুধু আমেরিকা নয় বরং আমেরিকান ভােক্তারা পড়বে বেশি সমস্যায়। ওয়ালমার্টসহ অনেক কোম্পানি মালামাল আমদানি করে চীন থেকে। সুতরাং, শুল্ক আরােপের ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে ও জীবনমানের হ্রাস ঘটবে।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্রব্যাদি সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়। আর সেসব দ্রব্যের কাঁচামালের এক বড় উৎস্য চীন। সুতরাং, দ্রব্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা সারা বিশ্বে আমেরিকান দ্রব্যাদির ব্যবহারকারীদের ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

একইভাবে চীনের যে সমস্ত উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রর কাঁচামারের উপর নির্ভরশীল সেসব ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলাে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে বেশি চীনা কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালের উপর কম মাত্রায় নির্ভরশীল। তাছাড়া, বৈশিষ্টগতভাবেই চীনারা যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালের বিকল্প খুঁজে পেতে অধিক সময় ব্যয় করবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরােপের ফলে আগামী ৩ বছরে ইউএস জিডিপি ১1.৫% কমে যেতে পারে এবং চীনের জিডিপি ১.৫-২% কমে যেতে পারে বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন।

প্রেসিডেন্ট শি’র Made in China 2025 কর্মসূচীর প্রধান লক্ষ্য উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফ্ল্যাগশিপ ইন্ডাস্ট্রীগুলােই যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট বলে মনে হয়। এসমস্ত ইন্ডাস্ট্রীতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও অটোমেশনের অধিকতর ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চীনা দ্রব্যাদি আরাে সহজলভ্য ও গুনগতমান বৃদ্ধি করার প্রয়াস করছে চীন।

চীনের বিরূদ্ধে আমেরিকানদের বড় অভিযােগ প্রযুক্তি চুরি। একইভাবে চীনা অভিযােগ, তাদের প্রযুক্তিতে প্রবেশ যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দিয়েছে।

ইস্পাতের উপর শুল্ক আরােপের পরপর দুই দেশের কর্মকর্তারা কিকরে বাজার আরাে উন্মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে আলাচনায় মিলিত হয়েছিল। চীনের বাজার উন্মুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করা হয়। কিন্তু, চীন তার বাজার উন্মুক্ত করতে আপাতত: এতটা আগ্রহী নয়।

অর্থাৎ, মুক্ত বাণিজ্যের পথ পরিহার করে উভয়দেশ যখন বাণিজ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে তখন সমাধান কঠিন বলেই মনে হয়। অবস্থা এমন হতে পারে যে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেখভাল করার মত অন্যান্য সংস্থা হতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে এতে শুধু আমেরিকা নয় বরং আমেরিকান ভােক্তারা পড়বে বেশি সমস্যায়। ওয়ালমার্ট সহ অনেক কোম্পানি মালামাল আমদানী করে চীন থেকে।

সুতরাং, শুল্ক আরােপের ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে ও জীবনমানের হ্রাস ঘটবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্রব্যাদি সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়, আর সেসব দ্রব্যের কাঁচামালের এক বড় উৎস্য চীন। সুতরাং, দ্রব্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা সারা বিশ্বে আমেরিকান দ্রব্যাদির ব্যবহারকারীদের ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

একইভাবে চীনের যে সমস্ত উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রর কাঁচামারের ওপর নির্ভরশীল সেসব ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলাে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে বেশি চীনা কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালের ওপর কম মাত্রায় নির্ভরশীল। তাছাড়া, বৈশিষ্টগতভাবেই চীনারা যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালের বিকল্প খুঁজে পেতে অধিক সময় ব্যায় করবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরােপের ফলে আগামী ৩ বছরে ইউএস জিডিপি ১1.৫% কমে যেতে পারে এবং চীনের জিডিপি ১.৫-২% কমে যেতে পারে বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন।

প্রেসিডেন্ট শি’র Made in China 2025 কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফ্ল্যাগশিপ ইন্ডাস্ট্রীগুলােই যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট বলে মনে হয়। এসমস্ত ইন্ডাস্ট্রীতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও অটোমেশনের অধিকতর ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চীনা দ্রব্যাদি আরাে সহজলভ্য ও গুনগতমান বৃদ্ধি করার প্রয়াস করছে চীন।

চীনের বিরূদ্ধে আমেরিকানদের বড় অভিযােগ প্রযুক্তি চুরি। একইভাবে চীনা অভিযােগ, তাদের প্রযুক্তিতে প্রবেশ যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দিয়েছে।

ইস্পাতের উপর শুল্ক আরােপের পরপর দুই দেশের কর্মকর্তারা কি করে বাজার আরাে উন্মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে আলাচনায় মিলিত হয়েছিল। চীনের বাজার উন্মুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করা হয়। কিন্তু, চীন তার বাজার উন্মুক্ত করতে আপাতত এতটা আগ্রহী নয়।

অর্থাৎ, মুক্ত বাণিজ্যের পথ পরিহার করে উভয়দেশ যখন বাণিজ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে তখন সমাধান কঠিন বলেই মনে হয়। অবস্থা এমন হতে পারে যে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেখভাল করার মত অন্যান্য সংস্থা হতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

আর এমন হলে তার ফলাফল ভয়ঙ্কর হবে তা না বললেও সহজেই অনুমেয়। সুতরাং, বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে যে কোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধ করতে।

শেষ কথা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন চীনের কাছে বাজার খুলে দিয়ে আমেরিকার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তিনি হিসাব দিচ্ছেন, ২০১৭ সালে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর এই ঘাটতির প্রধান কারণ চীনের সাথে বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা। তার কথা চীনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নানা কারসাজি করে শুধু জিনিস বিক্রি করা যার পরিণতিতে আমেরিকার শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে প্রাণবন্ত মহাদেশ হিসেবে এশিয়ার প্রতি আরাে বেশি মনােযােগ দিতে বারাক ওবামা এশিয়া ভরকেন্দ্র বিকশিত করে তুলেছিলেন। এটাও এখন হুমকির মুখে পড়েছে।ট্রাম্পের জয়ে এশিয়ায় আমেরিকার মিত্ররা বেশ অস্বস্তিতে পড়ছে।

বারাক ওবামা চেয়েছিলেন চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে সংযত করতে। তা না হলে এই দেশটি দূরপাল্লার পরমাণু বােমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হতে পারে। হিলারি ক্লিনটন সেটা বুঝতেন। আর তাই জয় নিশ্চিত মনে করে তিনি এশিয়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিমও গঠন করে ফেলেছিলেন।

ট্রাম্প কিন্তু এসব কিছু বােঝেন না। এসব ব্যাপারে কে তাকে পরামর্শ দেবে, সেটাও নিশ্চিত নয়। নির্বাচনী প্রচারকাজের সময় তিনি আমেরিকার নিরাপত্তার আশ্বাসে বসে না থেকে জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজ নিজ প্রতিরক্ষা খাত জোরদার করার আহবান জানিয়েছিলেন।

তিনি এমনকি দক্ষিণ কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। তার এসব কথার সূত্র ধরে বলা যায়, তিনি এশিয়ার সাথে তেমনভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন না। আর সেটাই যদি হয়, তবে তা হবে চীনের জন্য মহাসুযােগ।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি মনে করে, চীন হলাে উদীয়মান শক্তি, আর আমেরিকার অবস্থা ভাটার দিকে।

ট্রাম্পের বিজয় আসলে আমেরিকার দুর্বলতাই ফুটিয়ে তুলেছে। সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য সম্ভবত চীনের চেয়ে অনেক বেশি দুর্ভোগ পােহাবে। আমরা এখন কেবল তাকে অবাধে তার কাজ করার সুযােগ দিয়ে তিনি কত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারি।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট