২০১৮-০৬-২২

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে জাতীয় দিবসের আহ্বান ব্রিটিশ ইমামের

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় দিবস আহ্বান জানানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার ব্রিাটশ ইমাম মোহাম্মদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

এক বছর আগে উত্তর লন্ডনের ফিন্সবারি পার্কে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মোহাম্মদ মাহমুদের পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

গত বছরের ১৯ জুন মধ্যরাত্রে মসজিদে নামাজ শেষে মুসল্লিদের ওপর ভ্যান চালিয়ে দেন ড্যারেন ওসবর্ন নামে এক শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান। পরে এই ঘটনায় ওই ব্রিটিশ নাগরিকের ৪৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

হামলার ভয়াবহ দৃশ্য সত্ত্বেও মাহমুদ হামলার পরপরই ইমাম এই ঘটনা মোকাবেলা করেন। ওসবার্নের আঘাত থেকে জনতাকে বাঁচাতে পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত তিনি তাৎক্ষণিক ওসবার্নকে একটি অর্ধবৃত্তাকারে ঘিরে রাখেন।

গত সোমবার তিনি ‘আইটিভি নিউজ’কে বলেন, ‘অন্য মানুষকে তার হামলা থেকে দূরে রাখতে আমি তাকে পিছনে রেখে অর্ধবৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমনকি তার মুখও দেখেনি।’

তিনি বলেন, ‘লোকেরা পিছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিচ্ছিল কিন্তু দু’বার আমি শুনেছি কেউ একজন বলছিল, ‘না, তিনি মসজিদের ইমাম। তার কথা শুনুন।’

তিনি বলেন, ‘ডানপন্থার উত্থানের সঙ্গে পূর্বে যথেষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যেকারণে ডানপন্থীদের মধ্যে ইসলামবিদ্বেষ এখন আরো বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।’

‘কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষিদের বিভিন্নভাবে প্রশয় দেয়া হচ্ছে, এমনকি পার্লামেন্টেও তাদের প্লাটফর্ম করে দেয়া হচ্ছে। এটা উদ্বেগ উদ্বেগজনক।’

মিশরীয় বংশোদ্ভূত ইমাম বলেন, ইসলামবিদ্বেষিদের মোকাবেলা করার সরকারের অঙ্গীকার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র সচিব সাজিদ জাভিদের কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন।

‘এই সমস্যা মোকাবেলা করা এখন এই সরকারের একটি অগ্রাধিকার এবং সব ধরনের সন্ত্রাসের মোকাবেলা করার জন্য তাদের এজেন্ডা অংশ হিসাবে এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি অনন্য কোনো গ্রুপ নয়।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ জুন উত্তর লন্ডনের ফিন্সবুরি পার্কে মসজিদের কাছে মুসল্লিদের ভিড়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয় ওসবর্ন।

মসজিদমুখী মুসল্লিদের ওপর ওই ব্যক্তি ভ্যান চাপা দিলে মুকাররম আলী নামে এক বাংলাদেশি মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ১২ জন।

এ হামলায় নিহত মকররম আলীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সরুয়ালায়।মকররমের পরিবার দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছিলেন লন্ডনে।

১২ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান লন্ডনে। একটানা প্রবাস জীবন কাটিয়ে বিশ্বনাথের দৌলতপুরে বিয়ে করেন তিনি। কয়েক বছর পর স্ত্রীকেও লন্ডনে নিয়ে যান। সেখানে জন্ম হয় চার মেয়ে ও দুই ছেলের।

ইসলাম বিদ্বেষ রোধে ৩৫০ মসজিদ ও সংগঠনের আহ্বান