২০১৮-০৬-২২

বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

আমি কখনো নরেন্দ্র মোদির সমর্থন করিনি: মাহমুদ মাদানি

OURISLAM24.COM
news-image

আপ কি আদালত ইন্ডিয়ার একটি জনপ্রিয় টিভি শো। শোটিতে ভারতের বিভিন্ন মহলের সেলিব্রেটিদের দাওয়াত করে বসানো হয় কৃত্রিম কাঠগড়ায়। নানা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা হয় অতিথির সঙ্গে।

জনপ্রিয় শোটিতে বেশ কয়েকবার অতিথি হয়েছেন ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট মাওলানা মাহমুদ মাদানি

রজত শর্মার উপস্থাপনায় মাওলানা মাহমুদ মাদানি কথা বলেছেন ভারতের জাতীয় রাজনীতি বিষয়ে। শোতে মাওলানা মাদানির প্রতি অভিযোগ তোলা হয়, তিনি ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থন করছেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো কথোপকথনটি সমাপ্ত করা হয়।

কথোপকথন পর্বটির একাংশ আওয়ার ইসলাম পাঠকদের জন্য ভিডিও থেকে অনুবাদ করেছেনসুলাইমান সাদী

কংগ্রেস জানতে চাচ্ছে, হঠাৎ নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মাওলানা মাহমুদ মাদানির ভালোবাসার সম্পর্ক হয়ে গেল কী করে?

এ প্রশ্ন যারা করছেন তারা যদি একবার আয়নায় তাদের চেহারা দেখে নেন তাহলে হয়ত প্রশ্ন করার সাহস থাকবে না। ২০০২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গুজরাটের মাটিতে বড় বড় জনসভায় নরেন্দ্র মোদির যে পরিমাণ সমালোচনা আমরা করেছি সেটা আর কেউ করেনি।

২০০২ সালের ২৩ মার্চ গুজরাটের সরদারবাগ, আহমদাবাদে প্রথম কনফারেন্স করি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই বিশ্বাসেই চলছি।

একথা তো সত্যি, কংগ্রেসের ব্যাপারে আপনার যে অভিমত; নরেন্দ্র মোদিরও একই অভিমত? তিনিও বলছেন, কংগ্রেস মুসলমানদের ভয় দেখাচ্ছে। তিনি এও বলেন, কংগ্রেস নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সেকুলারিজমের বোরকার ভেতরে লুকোচ্ছে?

এটা তো ঠিক আছে। কিন্তু বোরকা তো মোদিও পরাচ্ছেন।

কিছু লোক এ কথা বলতে চান, আপনি ব্যক্তিগত আলাপে বলেন, ২০০২ সালে যে দাঙ্গা হয়েছিল সেটা ভুলে গিয়ে মুসলমানদের এখন সামনের দিকে তাকানো উচিত?

আপনি ‘ব্যক্তিগত’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন তো? তাহলে তো আপনাকে এ কাঠগড়ায় বসতে হবে, আমাকে দাঁড়াতে হবে আপনার জায়গায়? কারণ, ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়টি খুবই ভয়ঙ্কর। যে বিষয় ‘ব্যক্তিগত’ তার কী জবাব আপনাকে দেব আমি?

আপনি কি একথা বলতে চাচ্ছেন, ব্যক্তিগতভাবে বা খোলাখুলিভাবে কখনোই আপনি এমন কথা বলেননি?

আমি ব্যক্তিগত আলাপে বা খোলাখুলিভাবে কখনো আমি এমন কোনো কথা বলিনি, যাতে নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করা হয়েছে। কখনোই আমি নরেন্দ্র মোদির সমর্থন করিনি।

আমি আজ আপনার সামনে একথা বলছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি আমার একথা বিশ্বাস করবেন না।

সামনে জনগণ বসে আছেন। আমি জনতার সামনেই বলছি, আমি আপনার কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করছি। আমি এও মনে করি, আপনার সামনে যেসব লোক বসে আছেন তারাও আপনার কথা বিশ্বাস করছেন।

আমি যদি গুজরাটকে রাজস্থানের সঙ্গে তুলনা করি অথবা গুজরাটকে দিল্লির সঙ্গে তুলনা করি তবু আপনি বলবেন, আমি নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করছি। তুলনা তো করতে হবেই।

ওখানে আমাকে একটি প্রশ্ন করা হচ্ছিল, ২০০২ সালে গুজরাটে কোনো দাঙ্গা হয়নি। কিন্তু এরপরেই রাজস্থানে দুই বছরে চার ডজনের বেশি দাঙ্গা হয়ে গেল। দেড় বছরের মধ্যে ইউপিতে একশ দুইয়ের বেশি দাঙ্গা হয়ে গেল। তাহলে আপনিই বলুন, কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক?

আপনিই ভাবুন, এমন প্রশ্নের উত্তর কতটা কঠিন? অথচ আমাকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আপনি বলুন, আমি এসব প্রশ্নের কী উত্তর দেব?

আচ্ছা, আপনি তাহলে এর একটা উত্তর দিয়েই দিন?

আমি তো সেটাই বলছি, এতো কঠিন একটি প্রশ্ন! আমি যখনই এ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইব তখনই আপনি বলবেন, আমি নরেন্দ্র মোদির সমর্থন করছি।

আমি এ অভিযোগ তুলব না। আপনি আপনার উত্তরটি দিয়েই দিন।

কিছু লোক কোনো কাজ করা ছাড়াই ভোটগুলো ঝুলিতে পুরতে চায়। তারা আমার আস্তিন ধরে পিছু লেগে পড়বে। তাই এর উত্তর তাদের কাছেই জেনে নিন।

আপনার পিছু তো লেগেই আছে, আরেকটু লেগে পড়বে; তাহলে বলেই দিন?

না স্যার, তাদের কাছেই জিজ্ঞেস করে নিন এর উত্তর। তাদের কাউকে ডেকে নিন এখানে। জেনে যাবেন। গেহলুয়াত সাহেব আসুক, আকলেশ সাহেব আসুক; উত্তরটা দিক। কঠিন কাজ তো এটা?

কাজ করা কঠিন, অভিযোগ আনা সহজ। বলে দিল, মোদির প্রেমে ডুবে আছি। খুব সহজ বলে ফেলা! ওদের গিয়ে দেখে আসতে বলুন না, গাঁয়ের লোকেরা কেমন ধরনের বিপদ-আপদে পড়ে আছে! তাদের কষ্ট দূর করার একটু চিন্তা করুক না! বয়ানবাজি দিয়ে কী আসে যায়?

ভিডিও

আরআর