২০১৮-০৬-২০

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

ফিলিস্তিনিদের যে খেলনা অস্ত্রের ভয়ে আতঙ্কিত ইসরায়েল

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: ইসরাইলের শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে হতবিহ্বল করতে ঘুড়ি একটি শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে, তা হয়ত কেউ অনুমান করতে পারেনি।

ফিলিপাইনে আহলে বাইয়েত আ. এবং কুরআনের খাদেমকে সম্মাননা প্রদর্শন: গত মার্চ থেকে গাজা উপত্যকার সঙ্গে সীমান্তে ইসরাইলি সেনারা অন্যান্য সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হলেও বেড়ার ওপার থেকে উড়ে আসা ঘুড়ি এবং বেলুন তাদেরকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ৪৫০টি আগুন লাগার ঘটনায় কমপক্ষে ৭,৪১০ একর কৃষি জমি এবং জাতীয় উদ্যান আগুনে পুড়ে গেছে। প্রায় ১,৪০০ একর জমির পাকা গম নষ্ট হয়ে গেছে।

গাজার অভ্যন্তর থেকে আসা এসব ঘুড়ি ইসরাইলের ক্ষতিসাধনে সাফল্যের এই ঘটনাকে একটি অসম্ভাব্য বিজয় বলে মনে করা হয়। কেননা সাম্প্রতিক গাজা সীমান্তে এই বিক্ষোভে ইসরাইলি সৈন্যরা প্রায় ১৩০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং আহত হয়েছে অন্তত কয়েক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।

সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ১৩ বছর বয়সী জাকারিয়া নামে একজন কিশোরে মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। গত শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া বুলেট তার পাকস্থলিকে বিদ্ধ করে।

সোমবার সকালে ইসরাইলি বিমানবাহিনী অবরুদ্ধ গাজায় হামাসের দুটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা চালায়। যদিও এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এদিন বলা হয়, বিস্ফোরক দ্রব্য মিশ্রিত বেলুন ও ঘুড়ির মাধ্যমে তাদের সম্পদে আগুন ধরিয়ে দেয়ার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিস্ফোরক ঘুড়ি ও বেলুনের ব্যবহারকে তারা অত্যন্ত গুরুতর কাজ বলে তারা মনে করে এবং এটির ব্যবহার প্রতিরোধ করতে তারা কাজ করবে।

একই দিন বিকেলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চীয় গাজা স্ট্রিপে হামাসের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে তাদের তাদের বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে, ঠিক কোথায় হামলা চালানো হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়নি।

পাল্টা হিসেবে ওই দিন বিকেল ৫টায় গাজা থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি রকেট ছোড়া হয়।

এর জবাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা সীমান্তে ২৪ বছর বয়সী একজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে।

ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও হামাস প্রথম ঘুড়ি যুদ্ধের সূচনা করতে যাচ্ছে।’

তিনি লিখেন, ‘হামাস ইসরাইলকে এই বার্তা দিচ্ছে যে ঘুড়ি উড়ানোদের লক্ষ্যবস্তু করা হলে তারা রকেট হামলা চালিয়ে তার কঠোর জবাব দিবে।’

এই ঘুড়ি আক্রমন ইসরাইলি কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সীমান্ত থেকে কয়েকশ গজ দূরের ‘নাহল ওজ’ এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত কিনডারগার্টেন শিক্ষক গৈরা আলমগ। তিনি কাটার জন্য প্রায় প্রস্তুত এই গম ক্ষেতের ধ্বংসকে ‘ইসরাইলি জাতির গর্ভের বিরুদ্ধে আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

নাহল ওজের আশেপাশের বিপুল পরিমান গমের ক্ষেত্র পুড়ে গিয়ে কালো হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহান্তে কেবল এক রবিবার সকালেই দক্ষিণ ইসরাইলে অন্তত ১৭টি স্থানে লাগা আগুন নিভিয়েছে অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা।

ঘুড়ি যুদ্ধের একজন অর্গানাইজার ৩০ বছর বয়সী রামী (ছদ্ম নাম) জানান, গত ৩০ মার্চের প্রথম বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বেড়ার অন্য প্রান্তে প্যালেস্টাইনি পতাকার সঙ্গে সংযুক্ত একটি ঘুড়ি উড়তে দেখেন। এই দৃশ্য তাকে অনুপ্রাণিত করে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবলাম এটি হয়তো মোলোটোভ ককটেলের মত কিছু জিনিস বহন করতে পারে, কিন্তু পরে বুঝতে পারি এটি বাস্তব নয়। তারপর আমরা আচমকা এতে জ্বলন্ত কিছু সেট করার ধারণা পাই।’ দ্য অ্যাঞ্জেলস টাইমস