বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

ঈদে জনগণের দুয়ারে আ.লীগের সংসদ সদস্যরা

OURISLAM24.COM
জুন ১৬, ২০১৮
news-image

মুমিনুল ইসলাম:  ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হওয়ার আশায় ঈদ উপলক্ষে হাজির হচ্ছেন জনগণের দুয়ারে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যেসব নেতা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, আমিও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো।’ তার এই কথাকে প্রাধান্য দিয়ে ঈদুল ফিতরের সুযোগে তৃণমূলের নেতা ও জনগণের কাছাকাছি যাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। স্থানীয়দের মন জয় করে নিতে রমজান মাস জুড়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তারা।

দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ও দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদ এলেই দেশের বাইরে পাড়ি জমাতেন। অনেকে ঈদ উদযাপন করতেন রাজধানীতেই। স্থানীয় জনগণ ও দলের তৃণমূলের নেতাদের খবর রাখতেন না। কিন্তু এবারের চিত্র অন্যরকম। সবাই সপরিবারে ঈদ করছেন নিজেদের জেলা ও থানায়।

তবে সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা স্থানীয়দের নিয়ে যে ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন তা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের দৃষ্টিতে অতি মূল্যায়ন মনে হচ্ছে। তাদের মন্তব্য, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে এটি শেষ ঈদুল ফিতর। ফলে সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। তাদের প্রত্যেকেই পুরো রমজান মাস জুড়ে এলাকার জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ইফতার টেবিলে সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে। ইফতার সামগ্রী ও যাকাত বিতরণের জন্য দরিদ্রদের কাছেও গেছেন তারা। দরিদ্রদের উপহার পাওয়ার পরিমাণও এবার তিন-চার গুণ বেড়েছে।

একদিকে সংসদ সদস্যরা দিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে একেকটি এলাকায় একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় তারাও সাধ্যমতো উপহার বিতরণ করে যাচ্ছেন। কে কার চেয়ে বেশি দান করে এলাকার মানুষের আলোচনায় আসতে ও মন জয় করতে পারেন, এমন প্রতিযোগিতাও ছিল দেশের কোনও কোনও অঞ্চলে। মসজিদ আর মাদ্রাসায়ও দানের পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সারাদেশের অন্তত ১০টি জেলার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ কথা স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার আমাদের দলের নেতারা নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে বেশি মিশেছেন। সামনে সংসদ নির্বাচন, ফলে সবাই গ্রামমুখী থাকছেন, স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই এই ঈদে এলাকাকেন্দ্রিক। ফলে এটা একটু বেশি চোখে পড়েছে। এসব কাজ মানে কিন্তু মনে করিয়ে দেয়— রাজনীতি হলো সবসময় জনগণের সেবা।’

সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই তোড়জোড়ে আশার আলো দেখছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এলাকার জনগণকে যে মূল্যায়ন করতে হয় তা জনপ্রতিনিধিরা একসময় বুঝতে বাধ্য হন। কারণ তারাই ভোটার। আমাদের দলে এমন অনেক সংসদ সদস্য আছেন যারা এলাকার মানুষের খোঁজ নেওয়া তো দূরে থাক, দলের নেতাদের পাশেও দাঁড়াতে আসেননি কখনও।’

অবশ্য এটাকে স্বাভাবিকই মনে করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান। তিনি বলেছেন, ‘এবারের ঈদে নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা সবাই এলাকামুখী। এলাকার মানুষ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, এতে এত হিসাব মেলানোর কী আছে?’

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় যারা বর্তমান সংসদ সদস্য তারা ও নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জনগণের মন জয় করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ঈদুল ফিতর নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ হওয়ায় স্থানীয় জনগণের খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন তারা।’

সারাদেশে একই চিত্র। পঞ্চগড় জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটও জানালেন, এবারের ঈদে স্থানীয় নেতা ও জনগণের খোঁজখবর বেশি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।