২০১৮-০৬-১০

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তরবিয়ত ছাড়া ইসলামের শিক্ষা পূর্ণ হতে পারে না: মাহমুদ মাদানি

OURISLAM24.COM
news-image

হুমায়ুন আইয়ুব: সাম্প্রতি ভরত সফরে ভাবনাবিনিময় হয় ভারতীয় পার্লামেন্টের সাবেক সংসদ সদস্য ও জমিয়তে উলামামায়ে হিন্দের সেক্রটারি জেনারেল সাইয়িদ মাওলানা মাহমুদ মাদানির সঙ্গে।

দিল্লিতে অবস্থিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কার্যালয়ে এক ভর দুপুরে কথা হয় বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার শিক্ষব্যবস্থার উন্নতি ও সাম্প্রতিক তাবলিগ জামাতের অস্থিরতা বিষয়ে।

খোলামেলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এক পরিবেশে মাদানি খান্দানের এ বরপুত্র নিজের অবস্থান ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।

হুমায়ুন আইয়ুব : মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী?

মুফতি মাহমুদ মাদানি : মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু মানুষ তৈরি করা- যারা একনিষ্ঠতার সঙ্গে দীনে ইসলামের হেফাজত ও আগামী প্রজন্মের কাছে তালিম তরবিয়ত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারে।

এ পুরো উপমহাদেশে নতুন প্রজন্মের ঈমান রক্ষা করা কার দায়িত্ব কার? এ দায়িত্ব দীনি মাদারাসাসমূহ থেকে ফারেগ বা শিক্ষা সমাপনকারীদেরই নিতে হবে।

পৃথিবীতে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনের জন্য যে মিশন শুরু করা দরকার তা হলো, শিক্ষব্যবস্থায় সর্বোচ্চ মনযোগ নিবদ্ধ করা। ক্ষমতার প্রতি মনযোগ কমিয়ে শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব প্রদান জরুরি।

বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা প্রদান ও যোগ্য করে গড়ে তোলা। সঙ্গে সঙ্গে তরবিয়তও থাকা চাই। এর জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তা গ্রহণ করতে হবে। আজকের পৃথিবীতে মানবতার সবচে বড় সংকট হলো শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক উন্নয়নের অভাব।

ইসলামের যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে সেখানে শিক্ষার পাশাপাশি তরবিয়তের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তরবিয়ত ছাড়া ইসলামের শিক্ষা পূর্ণ হতে পারে না। নতুন প্রজন্মের তরবিয়তের প্রতি বিশেষ মনযোগ দেয়া দরকার। এবং তাদের উন্নত চরিত্র গঠন ও নানামুখী বিদ্যায় পারদর্শী করে তোলা। যাতে আমাদের মাদরাসা থেকে এমন আলেম তৈরি হয় যারা বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারে।

হুমায়ুন আইয়ুব : আমাদের দেশের সরকার কওমি মাদরাসার দাওরা সমাপনকারীদের সরকারি সনদের মান দিয়েছে। এর লাভ ক্ষতি কী?

মুফতি মাহমুদ মাদানি : সরকারি সনদের ব্যাপারে আপনাদের দেশের আলেমরাই ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না।

হুমায়ুন আইয়ুব : আমাদের দেশের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মুফতি মাহমুদ মাদানি : দেখুন, রাজনীতি তো আপনাদের ভেতরগত বিষয়। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

হুমায়ুন আইয়ুব : যদি কোন পরামর্শ দিতেন!

মুফতি মাহমুদ মাদানি : দেখুন, আমি উলামাদের উদ্দেশ্যে বলব, খেদমতে খলকের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। যেমন নবি করিম সা. বলেছেন, সর্বোত্তম মানুষ সেই যে মানুষকে উপকার করে থাকে।

মানুষ যার মাধ্যমে উপকার লাভ করে থাকে। তো উলামাদের একটি উপকারী দল হিসেবে তৈরি হওয়া চাই। এক্ষেত্রে সাধারণ মুসলমানদেরও এগিয়ে আসা দরকার।

হুমায়ুন আইয়ুব : আমাদের দেশে দাওয়াত ও তাবলিগের মাঝে নানা ঝামেলা হচ্ছে…

মুফতি মাহমুদ মাদানি : এটাও আপনাদের ভেতরগত বিষয়। এটা নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারব না। আমরা হলাম ভিন দেশের মানুষ। বাইরে থেকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কথা বললে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।

আমাদের দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা। তবে আমরা কেবল এতুটুকু বলতে চাই, মাদরাসার শিক্ষা ও দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ ইসলামের মেরুদণ্ডতুল্য। যদি এ দুই কাজের কোন ক্ষতি হয় তাহলে ইসলামের ক্ষতি হবে।

কোনভাবেই এখানে ক্ষতি হতে দেয়া ঠিক হবে না। যে যেখান থেকে কাজ করছে তাকে কাজ করতে দেয়া চাই। কাজের যেন কোন ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। বিবাদ-বিশৃঙ্খলা হওয়া উচিত নয়।

ঝগড়া বিবাদ নয়, তাবলিগের মূল মেহনতে ফিরতে আলেমদের পরামর্শ

-আরআর