শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

সফলতার জন্য পরিশুদ্ধ নিয়তের অপরিহার্যতা

OURISLAM24.COM
জুন ৮, ২০১৮
news-image

মাওলানা ইমদাদুল হক
অতিথি লেখক

আমরা আমাদের মন-মস্তিষ্ক, চোখ-কান, মুখ-হাত ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে যেসব কর্ম করি প্রত্যেকটা কর্মের কোনো উদ্দেশ্য থাকে। যেমন, ১. নিজের বা অন্যের প্রয়োজন মেটানো
২. শরীর বা মনের অবসাদ দূর করা ৩. সাময়িক ভালোলাগা

৪. ইজ্জত সম্মান অর্জন করা বা মানুষের কাছে বড় ও ভালো হওয়া। ৫. অর্জিত সম্মান রক্ষা করা
৬. অন্যের মনোরঞ্জন করা ইত্যাদি।

কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন, আমি জিন ও মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছি, তারা শুধুই আমার ইবাদত করবে (আলকুরআন ৫১ : ৫৬)।

মানুষ বুদ্ধিমান ও অনুভূতিপ্রবণ প্রাণী। মানুষের জন্য তাই নিজের বুদ্ধি ও অনুভূতিকে বিসর্জন দিয়ে অন্য কারো বেধে দেওয়া ফ্রেমে অবদ্ধ থাকা সুখকর নয়। আল্লাহ সর্বশক্তিমান; তিনি আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক।

পক্ষান্তরে আমরা মানুষ দুর্বল, অসহায় ও আল্লাহর প্রতি সর্বতো নির্ভরশীল জীব। এজন্যই কি তিনি আমাদের উপর নিজের আইন চাপিয়ে দিয়ে আমাদেরকে চাপে রাখতে চান? তবে কি ইবাদত মানে দুর্বলের জন্য সবলের এবং অনুগৃহীতের জন্য অনুগ্রাহকের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার নাম? কারো মাথায় হয়তো এমন ভাবনা আসতে পারে।

অপ্রাপ্তবয়ষ্ক শিশু-কিশোর, অভিজ্ঞতাহীন, নিজের ভবিষ্যত জীবন সম্পর্কে নেই যার পরিস্কার ধারনা, তাকে যদি নিজের ইচ্ছামত চলতে দেওয়া হয়, সবকিছু করতে দেওয়া হয়, তবে সে শুধু ভবিষ্যতকে নয়, বর্তমান জীবনকেও নষ্ট করে ফেলবে।

মন চাইলেই যদি কনকনে শীতের রাতে ফ্রিজ থেকে আইসক্রীম বের করে খেয়ে নেয়, নিজের ইচ্ছার উপর এমন নিয়ন্ত্রণহীন শিশু নিজের ইচ্ছাপূরণের পর দীর্ঘদিন সর্দি-কাশিতে ভুগবে। এজন্য বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনকে সুখকর, আনন্দময় ও উপভোগ্য করতে হলে প্রয়োজন দরদি অভিজ্ঞ অভিভাবকের অনুশাসন মেনে চলা।

মা যখন বলেন, শীতের রাতে আইসক্রীম খেতে নেই, এটা মেনে চলাই সন্তানের বর্তমানের জন্য কল্যাণকর। বাবা যখন সন্তানকে বলেন, আমি চাই, তুমি আমার কথা শুনবে, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যের সাথে আড্ডা দিয়ে, নিজের ইচ্ছামত ঘুরে বেড়িয়ে সময় নষ্ট করবে না, শুধু পড়াশোনা করবে, ভালো রেজাল্ট করবে, তখন তিনি প্রতিপালন ও পিতৃত্বের অধিকার বলে সন্তানের ইচ্ছাধিকার কেড়ে নিয়ে, তাকে দিয়ে নিজের আদেশ প্রতিপালন করিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চান না।

তিনি চান, সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণ করতে। এটা সন্তানের প্রতি তার করুণা ও বাৎসল্য। নইলে অপরিণত ও অনভিজ্ঞ শিশুকে যদি নিজের ভবিষ্যতের রাস্তা নির্মাণ করতে হত, তাতে তার ধ্বংস ছিল অনিবার্য।

মহান আল্লাহও চান তাঁর দুর্বল অসহায় অনভিজ্ঞ বান্দাকে রাস্তা দেখিয়ে সফলতার মনজিলে পৌঁছে দিতে। নইলে যে বান্দা রাস্তা হারাবে, ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত হবে।

তাইত তিনি বলেন, বান্দা, তুমি শুধু আমার কথা শুনবে, আমার ইবাদত-উপাসনা করবে, অন্যের কথায় কান দেবে না তোমার ধ্বংস ও ক্ষতি করার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে ওত পেতে আছে শত্রু।

সকল মানুষই সফলতা চায়, সম্মান ও সম্পদ চায়। ভবিষ্যতের সফলতার জন্য বর্তমানের সুখ ও শখকে পানি করে দেয়। মানুষ তো কতভাবেই সম্মান ও সম্পদের অধিকারী হয়।

কেউ নিজের শ্রমে, কেউ পৈতৃকসূত্রে। তবে সমাজের মাপযন্ত্রে পৈতৃকসূত্রে পুরুষাণুক্রমে পাওয়া সম্মানেরই দাম বেশি। বনেদি ঘরের ছেলের আলাদা কদর তো থাকেই। তাহলে সৃষ্টিসূত্রে পাওয়া সম্মান ও সম্পদের দাম কত হবে?

মহান আল্লাহ সৃষ্টিসূত্রে আমাদেরকে দান করেছিলন সর্বোচ্চ সম্মান ও সর্বোচ্চ দামি সম্পদ। সমগ্র দুনিয়া বিক্রি করে দিলে কি জান্নাতের এক টুকরো মাটির দাম হবে? মহান আল্লাহ আমাদের পিতা আদম ও মাতা হাওয়া আ.কে সৃষ্টি করে জান্নাতের অবারিত নিআমতের ভেতর রেখে বললেন, হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতের ভেতর বসবাস করো আর সেখানে ইচ্ছামত ভক্ষণ করো (আলকুরআন ২ : ৩৫ ও ৭ : ১৯)।

আর তার আগেই তাঁর সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি ফেরেশতাদেরকে দিয়ে সিজদা করিয়ে প্রমাণ করলেন, মানুষ তাঁর সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সম্মানিত।

এ সম্মান ও মর্যাদা দুনিয়ার সম্মান ও মর্যাদার সাথে তুলনীয় নয়। আর তা অর্জনের পথও দুনিয়ার সম্মান ও মর্যাদা অর্জনের পথের থেকে শতকোটি গুণ ঊর্ধ্বের স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন সৃষ্টিসূত্রে।

কিন্তু আমাদের প্রকাশ্য চিরশত্রু ইবলিসের চক্রান্ত ও প্রতারণায় আমরা আমাদের সে সম্মান ও সম্পদ থেকে বিতাড়িত হয়েছি। এখন আমাদের কী করণীয়? একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতারিত হয়ে সম্মান-সম্পদ সর্বস্ব খোয়ালে কী করেন?

প্রতারকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ে তাকে পরাজিত করে পুন-উদ্ধারই তো তার ধ্যান-জ্ঞান! নিজে আইন-কানুন না জানলে একজন সৎ দক্ষ যোগ্য আইনজীবীর কথা তো তিনি সর্বান্তকরণে মেনে চলবেন! এক্ষেত্রে চিন্তা ও কর্মের একাগ্রতা, একমুখিতা ও একনিষ্ঠা খুবই জরুরি।

বিক্ষিপ্ততা ও দোদুল্যমানতা তাকে ব্যর্থ করে দেবে। আমরা জানি ও বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ আমাদের সফলতা চান, সফলতা দিতে পারেন; একমাত্র তিনিই তার চূড়ান্ত-সঠিক পথ-পদ্ধতি জানেন। অন্য কেউ জানে না, দিতে পারে না। আমাদের তাই কর্তব্য, চিন্তা ও কর্মের সকল বিক্ষিপ্ততা ও দোদুল্যমানতা পরিহার করে পরিপূর্ণ নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে তাঁর নির্দেশনা ফলো করা।

প্রতিপক্ষকে যেহেতু আমরা দেখি না, অথচ তার শত্রুতা সর্বাত্মক, এ লড়াই তাই খুবই নাজুক। সেজন্য এ লড়াইয়ে কর্মের নিষ্ঠার মতোই ভাবনা ও চিন্তার একাগ্রতা এবং ইচ্ছা ও নিয়তের একমুখিতা সর্বোচ্চ জরুরি। আর কর্মের নিষ্ঠা তো চিন্তা ও নিয়তের একাগ্রতার উপরই নির্ভরশীল।

একারণেই ভাবনা ও ইচ্ছার সামান্যতম বিক্ষিপ্ততা, দ্বিমুখিতা ও দোদুল্যমানতা আমাদের এ লড়াইকে সম্পূর্ণরূপে নাকাম করে দেবে। দুনিয়ার এ কর্মের ময়দানে হয়তো আমরা তা বুঝে উঠতে পারব না। কিন্তু বিচার, প্রতিদান ও ফলাফলের মাঠে সবকিছুই পরিস্কার হয়ে যাবে।

সে কথাই জানাচ্ছেন আমাদের মুরশিদ আল্লাহর দূত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম। জাবির ও আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকেরা হাশরে নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস-৯০৯০; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৪২২৯, ৪২৩০)।

হিজরত অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহ আল কুরআনে বারংবার ঈমানের সাথেসাথেই হিজরতের আলোচনা করেছেন। কিন্তু নিয়তের গলতির কারণে এমন মহান ইবাদতেরও প্রতিদান বাতিল হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কর্মের ফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে। যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়ার বা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেজন্যই গণ্য হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস-১, ৬৬৮৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস-১৯০৭; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-২২০১; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১৬৪৭; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৭৫; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৪২২৭)।

এভাবে ভুল নিয়ত বড়বড় কর্মকে ব্যর্থ করে দেয়। এমনকি বড়বড় ফলপ্রসু আমলকে ভয়ঙ্কর অপরাধ ও শাস্তির কারণে পরিণত করে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে সে একজন শহিদ।

তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে দেওয়া নিআমতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। সে তা স্বীকার করবে। তখন বলা হবে, তুমি এই নিআমত পেয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে, আল্লাহ, আমি তোমার রাস্তায় লড়াই করে জীবন দিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, মিথ্যা বলছ। তুমি বরং লড়াই করেছে লোকে তোমাকে বীরপুরুষ বলবে বলে। তা বলা হয়েছে। তখন তার ব্যাপারে আদেশ করা হবে এবং সে মোতাবেক তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তারপর বিচারে আনা হবে এমন একব্যক্তিকে যে ইলম অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন অধ্যয়ন করেছে। আল্লাহ তাকে দেওয়া নিআমতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্বীকার করবে। তখন আল্লাহ বলবেন, এর বিনিময়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে, আমি ইলম অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি। আর আপনার সন্তুষ্টির জন্যই কুরআন পড়েছি।

আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি বরং ইলম শিখেছ যেন লোকে তোমাকে আলিম বা জ্ঞানী বলে এবং কুরআন পড়েছ তোমাকে যেন পাঠক বলে। তা তো বলা হয়েছে। তখন তার ব্যাপারে আদেশ করা হবে এবং সে মোতাবেক তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তারপর আনা হবে একজন ধনী ব্যক্তিকে, যাকে সচ্ছলতা ও সকল প্রকার প্রাচুর্য দান করা হয়েছিল। আল্লাহ তাকে তার নিআমতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সেও তা স্বীকার করবে। তখন তিনি বলবেন, এসব নিআমতের বিনিময়ে তুমি কী করেছ?

সে বলবে, আপনার সন্তুষ্টির সকল পথে খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি বরং এজন্য করেছিলে যে লোকে তোমাকে দানবীর বলবে। তা তো বলা হয়েছে। তখন তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে জাহান্নামে ফেলা হবে (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস-৮২৭৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস-১৯০৫; সুনান তিরমিযি, হাদিস-৩২৮২; সুনান নাসায়ি, হাদিস-৩১৩৭)।

দান, শাহাদত ও ইলম অর্জন কত মর্যাদাময় ইবাদত! এসব ইবাদতের কত বড়বড় প্রতিদানের কথা কুরআন-হাদীসে বলা হয়েছে! অথচ নিয়তের গলতির কারণে কী ভয়ঙ্কর অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে!

এদের মাধ্যমে অপরাধীর বিচারকার্য সূচনা হচ্ছে। আর তাদেরকে টেনে হেচড়ে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হচ্ছে! পরিশুদ্ধ নিয়তের গুরুত্ব এমনই।

পরিশুদ্ধ নিয়ত ছোট কর্মকে বড় প্রতিদানের উপযুক্ত করে। আবার বড় কর্মকেও বাতিল বা শাস্তির উপযুক্ত করে। কর্মে অক্ষম ব্যক্তির শুধু একাগ্র নিয়তও তাকে বড় প্রতিদানের উপযুক্ত করে।

আবু কাবশা আনবারি রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন, এই উম্মাতের দৃষ্টান্ত চার ব্যক্তির মতো। একব্যক্তিকে আল্লাহ মাল ও জ্ঞান দান করেছেন এবং সে তার জ্ঞান দ্বারা মাল ব্যবহার করে, যথার্থ খাতে তা ব্যয় করে। একব্যক্তিকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু মাল দেননি।

সে বলে, ওই ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকলে আমি তার মতো কাজে লাগাতাম। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে সমান প্রতিদানের অধিকারী হবে। একব্যক্তিকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু জ্ঞান দেন নি।

সে তার মালের ক্ষেত্রে ভুলনীতি অবলম্বন করে এবং অন্যায় পথে খরচ করে। আর একব্যক্তিকে আল্লাহ জ্ঞান ও সম্পদ কেনোটাই দান করেন নি। সে বলে, তার মতো আমার সম্পদ থাকলে আমিও তার মতো (অন্যায় পথে) ব্যয় করতাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে সমান অপরাধী (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস-১৮০২৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস-৪২২৮)।

পড়ালেখা ও পরীক্ষা খুবই আয়াসসাধ্য বিষয়। কিন্তু উজ্জ্বল ভবিষ্যত প্রত্যাশী ছাত্র দীর্ঘদিন পড়ালেখা করে ও ঘামে ভিজে পরীক্ষা দিয়ে যখন যথার্থ অ্যান্সার করতে পারে তখন সে ভেতরে এক ধরনের আনন্দ অনুভব করে।

তাই ভবিষ্যতের জন্য যে পড়ালেখা, তাও তার বর্তমানকে আনন্দ ও বিনোদন দিতে থাকে। তাই যে ছাত্র যত ভালো বন্ধুদের আড্ডায় ও টিভির সামনে তার উপস্থিাত ততই কম দেখা যায়। ভবিষ্যত সম্পর্কে অনভিজ্ঞ অবুঝ কিশোর যখন তার দরদি অভিজ্ঞ অভিাভাবকের রুটিন মেনে চলে তার বর্তমানের দেহ-মনের স্বাস্থ্য যেমন আটুট থাকে তেমনই ভবিষ্যতও উজ্জ্বল হয়।

মহান আল্লাহর চেয়ে দরদি সর্বজ্ঞ অভিভাবক আর কে আছেন? তাই তাঁর দেওয়া ইবাদত ও বিধিবিধান আমাদের বর্তমানের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য যেভাবে সুরক্ষিত করে তেমনই ভবিষ্যতকেও করে স্বর্ণোজ্জ্বল। তিনি বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর যিকর বা স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়, প্রফুল্ল থাকে (আলকুরআন ১৩ : ২৮)।

আর এ সুরক্ষিত অক্ষত অন্তরই সফলতার চূড়ান্ত কথা। মহান আল্লাহ বলেন, সেদিন সন্তান ও সম্পদ কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে (আলকুরআন ২৬ : ৮৯)।

মহান আল্লাহর বিধিবিধান আমাদের এই আন্তরিক সুস্থতা ও সফলতার জন্যই। ইবলিসের ধোঁকায় প্রতারিত হয়ে আমরা যখন সর্বস্ব হারিয়ে দুনিয়াতে নেমে এলাম তখনই তিনি আমাদরকে অভয় দিয়েছিলেন, আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে পথনির্দেশ যাবে, যে আমার পথনির্দেশ ফলো করবে তাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা চিন্তিত হবে না ( আলকুরআন ২ : ৩৮)।

সফলতা অর্জনের জন্য আমাদের তাই একমাত্র কর্তব্য মহান আল্লাহর পথনির্দেশনা পালনে ইচ্ছা ও কর্মে নিষ্ঠাবান হওয়া।

 লেখক: শিক্ষক- মাদরাসাতুত তাকওয়া, আনন্দধাম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।

আরো পড়ুন- ‘ছাত্র-শিক্ষক শিষ্টাচার’ জীবন গঠনের অনন্য বই