বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮

চীনে মুসলিমদের বন্দি করে ‘ব্রেনওয়াশ’

OURISLAM24.COM
মে ২১, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: চীনে ২ কোটি মুসলিমের বাস৷ মুসলমানদের ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে চীনের রীতিনীতিতে অভ্যস্ত করার জন্য খোলা হয়েছে বন্দিশিবির৷ সেখানে অন্তত ৯ লাখ মানুষকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Kasachstan Muslimische Camps in China (picture-alliance/AP Photo/N. H. Guan)

দুঃসহ স্মৃতি: যেসব শিবিরে মুসলমানদের রাখা হচ্ছে, সেটাকে বলা হচ্ছে ‘ইনডকট্রিনেশন ক্যাম্প’ বা দীক্ষাদান শিবির, যদিও এটি মুসলমানদের কাছে ‘ব্রেইন ওয়াশ’ কেন্দ্র হিসেবেই বেশি পরিচিত৷

বন্দি শিবিরের একজন ওমির বেকালি৷ তিনি নিজের দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করেছেন সংবাদ সংস্থা এপি’র কাছে৷

Kasachstan Muslimische Camps in China (picture-alliance/AP Photo/N. H. Guan)

নির্যাতন: কয়েক বছর আগে চীন থেকে কাজাখস্তানে চলে গিয়েছিলেন বেকালি৷ ২০১৭ সালে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চীনে আসেন৷ আসার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইনডকট্রিনেশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়৷

এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বেকালি সেই বন্দি শিবিরে তাঁর উপর চলা অকথ্য নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন৷

আত্মহত্যার চেষ্টা: বেকালি জানান, আটকের এক সপ্তাহ পরে তাকে একটি অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হয়৷ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো খাবার বা পানি দেয়া হয়নি৷

যখন তিনি তাদের নির্দেশ মানতেন না, তখন দেয়ালের সামনে ৫ ঘণ্টা টানা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো৷ তখন টানা ২০ দিন ধরে তার উপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়, তারপর তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন৷

Kasachstan Muslimische Camps in China (picture-alliance/AP Photo/N. H. Guan)

ভাবনায় পরিবর্তন: বেকালি জানান, এই বন্দিশিবিরে যারা থাকেন, তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা অর্থাৎ ধর্মীয় চিন্তা পরিবর্তন করতে হয়৷ মুসলমান ছাড়াও এ শিবিরে বিদেশি কয়েকজনকেও রাখা হয়েছে৷

ধর্ম ছেড়ে কম্যুনিস্ট পার্টির প্রশংসা: বন্দি শিবিরে সবাইকে খুব ভোরে উঠতে হতো৷ চীনের জাতীয় সংগীত গাইতে হতো৷ সকাল সাড়ে সাতটায় চীনের পতাকা উত্তোলন করতে হতো৷

এছাড়া এমন সব গান গাওয়া হতো যেগুলোতে কেবল কম্যুনিস্ট পার্টির প্রশংসা করা হয়েছে৷ এছাড়া তাঁদের চীনা ভাষা এবং চীনের ইতিহাস পড়তে হতো৷

Uiguren in China (Getty Images/K. Frayer)

রাষ্ট্রপ্রধানকে ধন্যবাদ: বেকালি জানান, খাবার হিসেবে প্রতিদিন সবজির স্যুপ আর রুটি দেয়া হতো৷ মাঝে মাঝে শুকরের মাংস এবং মদ খেতে বাধ্য করা হতো৷

খাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে কম্যুনিস্ট পার্টিকে ধন্যবাদ জানাতে হতো, পাশপাশি মাতৃভূমি এবং চীনা রাষ্ট্রপতিকেও ধন্যবাদ জানাতে হতো৷

China Peking Chinesische Flagge (picture-alliance/AP Photo/A. Wong)

নতুন পরিচয়: চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং এলাকায় এই বন্দিশিবিরগুলো স্থাপনের লক্ষ্য হলো মানুষের রাজনৈতিক চেতনায় পরিবর্তন আনা৷ তাদের নিজেদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনা পুরোপুরি দূর করা এবং তাদের নতুন রূপে পরিচয় করানো৷

Deutschland Chinesische U20 Nationalmannschaft - TSV Schott Mainz (J. Duez)

৯ লাখ বন্দি: জিনজিয়াং-এর থেকে নির্বাসিত মানুষদের দ্বারা পরিচালিত তুরস্ক ভিত্তিক একটি টেলিভিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে বেশ কিছু ফাঁস হওয়া সরকারি তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে জানা গেছে, এসব বন্দিশিবিরে ৯ লাখ মানুষ বন্দি আছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার মতে, সংখ্যালঘুদের এত বিশাল গণ কারাগার বিশ্বে আর কোথাও নেই৷

China Uiguren (picture-alliance/dpa/H. W. Young)

গোপন কার্যক্রম: চীনা কর্তৃপক্ষ এই বন্দিশিবিরের কথা স্বীকার করে না৷ তবে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামি চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়তে মতাদর্শ পরিবর্তন করা দরকার৷

সংবাদ সংস্থা এপি বন্দিশিবিরের বেশ কয়েকজন বন্দি এবং নির্দেশকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন৷ প্রত্যেকেই নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, কেননা, তাদের পরিবার রয়েছে চীনে৷

Kasachstan Muslimische Camps in China (picture-alliance/AP Photo/N. H. Guan)

হারানোর কিছু নেই: বেকালি কাজাখস্তান ফিরে গেছেন৷ ভেবেছিলেন কারো কাছে কিছু বলবেন না৷ কিন্তু গত মার্চে চীনা কর্তৃপক্ষ তার বাবা-মা এবং বোনকে ধরে নিয়ে যায়৷ তাই তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিশ্বকে তাঁর গল্প বলার সিদ্ধান্ত নেন৷

বেকালি জানান, তিনি এসব কথা জানাতে চান, কারণ, তাঁর আর হারানোর কিছু নেই৷

সূত্র: ডয়েচেভেলে

-আরআর