শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

আলোকিত হওয়ার মাস রমজান

OURISLAM24.COM
মে ১৭, ২০১৮
news-image

চৌধুরী মনজুর লিয়াকত
কবি ও কলামিস্ট

আগামীকাল থেকে রোজা। বিশ্বমানবতার জন্য করুণা, মার্জনা, ক্ষমা আর মুক্তির বার্তা নিয়ে আবার আসছে রমজান, সেই আলোকিত রোজার মাস। ‘আহলান ওয়া সাহলান’ – ‘স্বাগত মাহে রমজান’।

এইতো আজ রোজার আগের দিন, আজ থেকে তারাবিহ নামাজে কোরআন শ্রবণ আর অনুধাবনের চেষ্টায় মেতে উঠবে মানুষ। তারপর মাঝরাতে সেহরিতে আলস্য জলাঞ্জলি দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পরবে সম্ভাব্য রোজাদার। হয়তো তাহাজ্জুদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য একটু আগেই ঘুমহীনতার আনন্দ ঘিরে বসবে আমাদের।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন সেহরি খাওয়াতে নিহিত রয়েছে বরকত। এসময়ে খাদ্য গ্রহণ আমাদের শারীরিক শক্তি সামর্থ্যকে সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক সাহায্য করে।

এরপর সারাদিন রোজার শেষে ইফতারের সময় খাদ্যের সামনে বসে অপেক্ষারত অবস্থায় দোয়া চাইবো মন মেলে। অনুধাবন করবেন নিশ্চয় সকলে ‘আল্লাহতায়ালা না চাইলে আমরা খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা রাখিনা একেবারে। রিজিক যে তাঁর থেকেই আসে’।

ইফতারের মাগরিব আজানের মধুর ধ্বনি ভেসে আসার এ সময়টি দোয়া কবুলের। চাইবো সর্বশক্তিমানের কাছে ক্ষমার পাশাপাশি আর যা আছে চাওয়ার। এ মাসেই তারাবিহ, কিয়ামুল লাইল, শেষ দশ দিনের ইতিকাফ (আল্লাহর প্রেমে আঁকড়ে ধরা বা আবদ্ধ থাকার একাকী হবার সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া)।

আর এ মাসের প্রতিটি ক্ষণে পবিত্র কোরআনে মশগুল হয়ে অন্তরের কুঠুরিতে কোরআনের শিক্ষাকে গ্রথিত করার সময় বের করা।

যাকাতের মাধ্যমে এ শিক্ষা নেয়া যে অতিরিক্ত সম্পদ অসহায় আর রিক্তের বেদনা প্রশমনে দিতে হবেই আমাদের। এ যে যাদের প্রাপ্য সেই দরিদ্রের অধিকার। আদায় করতে হবে সদকাতুল ফিতরা ঈদকে উপলক্ষ করেই।

দুটি ওয়াজিবের একটি এটি, অন্যটি ঈদের নামায আদায়। এই সদকার মাধ্যমে ঈদের দিনটি অন্তত সুবিধা বঞ্চিত মানুষেরা একটু ঈদ আনন্দ করুক, একটু ভালো থাকুক। এ ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার শিক্ষা এটি। এ যে আদেশ সেই মহামহিমের কাছ থেকে আসা। দান, খয়রাত, সাদাকাত তথা গরিবের কষ্ট অনুধাবন, সেবা এবং সমাজের কল্যাণ রমজানেরই যে অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য।

আর ‘সদকার’ দান, এতো যে কোনো সময়েই উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে। মানবিকতার উৎকর্ষ সাধনে বস্তুপ্রেমের উর্ধ্বে উঠে আত্নিক উৎকর্ষ এভাবেই যে সাধন সম্ভব। এ মাসে বেশি করে ইস্তিগফার অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। যা আমরা কাজে লাগাবো পুরোপুরি, পবিত্র কোরআন অনুধাবন ও নিজ নিজ জীবনে প্রয়োগে গুরুত্ব দেয়ার মাধ্যমে।

হিজরি সনের নবম মাস হচ্ছে ‘রমজান’। রমজান এসেছে ‘রমজ’ শব্দ থেকে। যার অর্থ হচ্ছে জালিয়ে-পুড়িয়ে কোনো কিছুকে ভস্ম করে দেয়া। সত্যিকার অর্থে অন্যায়, অসুন্দর আর ধংসের বিরুদ্ধতায় নষ্ট-ভ্রষ্ট সবকিছুকে ছাই করে ফেলা।

আগুন যেমন স্বর্ণকে নিখাদ করে দেয় রোজা তেমন ইমানদারের ষড়রিপুর কামনা-বাসনাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে তাকে খাঁটি বান্দায় পরিণত করে। ন্যায়, শান্তি, কল্যাণ আর সুন্দরকে সার্বিক অর্থে ‘নফস’কে জাগ্রত করাই এর মূল লক্ষ। আর নিজ জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানো এবং একই সাথে অন্যের জীবনকে আলোকিত করে তোলা রমজানের একটি শিক্ষা।

এরই প্রতিফলনে মানুষের জীবনের সমস্ত পাপ, অন্যায় আর গুনাহ সমূহকে সমূলে নিধন করা বা জ্বালিয়ে ফেলার যে মাসব্যাপী সুযোগ আসে সে মাসটিই ‘রমজান’, এই যে কাল থেকে যার প্রারম্ভ। আজ নেই তবে প্রস্তুতি।

‘সওম’ একটি আরবি শব্দ, এর অর্থ বিরত থাকা। যার বহুবচন ‘সিয়াম’। ফারসি, উর্দু, হিন্দি ও বাংলায় ‘সওম’কে বলা হয় ‘রোজা’। এই সিয়াম সাধনার সময়ে খাদ্য এবং জৈবিক বৈধ চাহিদাগুলো থেকে নির্দিষ্ট সময় বিরত থাকার একটি চর্চা রয়েছে। এ চর্চার মাধ্যমে অন্যায়, অবৈধ ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকার সার্বিক শিক্ষাটিও আমাদের নিতে হবে।

আর এই সংযমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার শিক্ষার চেতনাটি নিজ হৃদয়ে গ্রথিত করে আলোর সন্ধান করা যায় এ মাসেই। যাতে করে এ মাসটি চলে যাওয়ার পরে বছরেের আরো এগারো মাস মানুষ অন্যায়, অপকর্ম আর অসুন্দরকে প্রতিহত করতে পারে। এই হচ্ছে আমাদের প্রিয় রোজার মাসের গুরুত্ব।

সিয়াম সাধনার মূল শিক্ষা হলো সব কর্মকে পরিশুদ্ধ করা। নিজের, পরিবারের, সমাজের সর্বোপরি যা মানব অস্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর, এরকম কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। আবার কিছু বৈধ কাজ থেকেও কিছু সময় নিস্তব্ধতার শিক্ষা, সেই মহান সর্বশক্তিমানের আদেশে।

চলুন এ মাসটিকে কাজে লাগিয়ে অসৎ আর অসুন্দরে ঘেরা কুপ্রবৃত্তিগুলো চিরতরে বিলীন করে দেয়ার উৎসবে মেতে উঠি সকলে। এ মনকে প্রস্তুত করি এমনভাবে যেন সে আমাদের নিয়ে যেতে সহায়তা করে সেই সরল পথে (ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিমে) যেখানে আলোকিত হতে পারি আমরা সকলেই সততার চাদরে নিজেকে ঘিরে পবিত্রতার আলোকে।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। রমজানের সুন্নত পাঁচটি যথা- সেহরি খাওয়া, ইফতার করা, তারাবিহ নামাজ পড়া, কুরআন মজিদ তেলাওয়াত করা, ইতিকাফ করা। এর মধ্যে রোজা রাখার শক্তি-সামর্থ্য অর্জনের জন্য ‘সেহরি’ আর ক্লান্তি ও ক্ষুধা নিবারনে ‘ইফতার’ হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রয়োজন। যা মানুষ আদায় করবে।

এর পাশে তারাবিহ নামায যে অবশ্য করনীয় কোনো ফরজ, তা নয়। কিন্তু এ নামাজে পুরো কোরআন খতমের একটি বিষয় রয়েছে। তাই এখানে যা পড়া হয় তা যেন আমরা নিজ উদ্যোগে বুঝার চেষ্টা করি, যার গুরুত্ব অপরিসীম।

কারণ এ শিক্ষাই আমাদেরকে আলোকিত করে তুলবে সামনের পদক্ষেপ ফেলতে, নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে। আর সবচাইতে ভালো হয় যদি কোরআন এ মাসে আমরা পড়তে ও বুঝতে পারি পুরো পরিবার সহ।

এরপর ওই ইতিকাফের শেষ দশদিনে অনেকেই একান্তে বসেন আল্লাহর সান্নিধ্য সন্ধানে। কারণ এ দিনগুলোর মাঝেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র এক মহাগ্রন্থ কোরআন। যা মহান আল্লাহ্‌ সুবহানুওয়াতায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এক বিশাল উপহার। তাই এ মাসে কোরআন নিয়ে মেতে থাকা একটি অসাধারণ বিষয় অবশ্যই।

তাই এ গ্রন্থের সত্যিকার অনুধাবন এবং জীবনে এর শিক্ষা পরিপালনের মাধ্যমে এর মর্যাদা সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বটিও বর্তায় আমাদেরই উপর।

এ মাসের লাইলাতুল কদরে প্রাপ্ত এ উপহারের চাইতে বড় আর কোন কিছুই যে নেই। যা পরিপূর্ণ আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে মানবজাতিকে এমন সুন্দরভাবে আলোকিত করার ক্ষমতা রাখে, যা অন্য কোনো শিক্ষার পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদেরকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে ভিতর থেকে।

পবিত্র কুরআনের প্রথম নাজিল হওয়া শব্দ ‘ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়া’ আর যার নিগুঢ় অর্থ হচ্ছে জ্ঞানার্জনের প্রতি ইশারা। এ মাসে আমরা যেন সুরেলা তেলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআন অনুধাবন ও উপলব্ধির দিকে গুরুত্ব আরোপ করি এ লক্ষেই।

কারণ এ মাস শুধু কোরআন নাজিলের মাস নয়; বরং এ মাস কোরআন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, পঠন-পাঠন এবং চর্চার মাস। সর্বোপরি এ মাস হলো জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআন অধ্যায়ন, আমল, অনুশীলন ও বাস্তবায়নের মাস। এ জ্ঞান আমরা চাই কোরআনের আয়াত ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ অর্থাৎ ‘আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও’ এর তীব্র উচ্চারণের আলোকেই (সূরা ত্বাহা, আয়াত ১১৪ থেকে)।

উপলব্ধি করি সেই মহান শান্তিপূর্ণ নেতৃত্ব, সেই বাতিঘরের কথা। যাঁর মাধ্যমে কোরআন আমাদের কাছে এলো। তিনি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব রাসূলে করিম হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সা.। যাকে এ জগতে আগত সবচাইতে দয়ালু এবং মানুষের উপর সবচাইতে প্রভাব বিস্তারকারী মানব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় বিভিন্ন গবেষণায় (এর একটি Michel J. Hart এর গবেষণায় প্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘The Hundreds’ এও দেখি)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নবীজী সা. কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ‘আমি আপনাকে এ জগতের জন্য ‘রহমতুল্লিল আলামিন’ অর্থাৎ কেবল রহমত রুপেই প্রেরন করেছি’ (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭)। তাই তিনি তো সব মানুষের জন্যই রহমত আর অনুগ্রহ প্রদানেই এসেছিলেন। তিনি যে সকলের। আমরাও সেই শিক্ষাটি গ্রহণ করি মানবজাতির প্রতি ভালোবাসার সত্যিকারের উপলব্ধিতে।

এ মাসের প্রথম দশদিন রহমত বা মহামহিমের অনুগ্রহের বারিধারায় স্নাত হবার সময়। এর পরের দশদিন মাগফেরাত বা ক্ষমা মার্জনার জন্য অবারিত। আর বিদায় বেলার শেষের দশদিন নাজাত বা মুক্তিলাভের সুবর্ণ সুযোগ লাভের ফল্গুধারায় আলোকিত। মহাকালের যাত্রাপথে এ সুযোগ ঘুরে ফিরে প্রতি বছর আসে বারংবার আমাদের কাছে। প্রশ্ন হলো ‘পারলাম কি কাজে লাগাতে মহামহিমের দেয়া এ সুযোগকে, মনের মাঝে সত্যিকার অর্থে ধারণ করে?

আর একই সাথে নিজেকে বছরব্যাপী এবং বহমান কালের পরিক্রমায় আলোকিত করতে?’ যার প্রয়োজন সতত যেন অনুভূত হয় এ পৃথিবীর হৃদয়তন্ত্রীতে। এ ধরা যে শুধায় তার জিজ্ঞাসায় অনবরত ‘কোথা তুমি সংযমী? তোমাকে যে আজ বড় প্রয়োজন আমার এই তৃষ্ণার্ত বুকে মানুষের মাধ্যমে নেমে আসা অশান্তির অন্ধকার দূর করতে।’

আমরা জানি রোজার এ মাস কোরআন নাজিলের মাস, রোজা পালনের মাস, মহিমা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাস, লাইলাতুলকদর অর্থাৎ হাজার মাসের চাইতে শ্রেষ্ঠ রাত যে মাসে আছে সেই রাতটির মাস, বরকত-ইবাদাত আর অতিরিক্ত পুণ্য অর্জনের মাস, ধৈর্য ও তিতিক্ষার মাস, রিজিক প্রশস্ত হবার মাস, কুরআন শোনা ও শোনানোর মাস, সব খারাপের বিলীন হওয়ার মাস, শাস্তি (জাহান্নাম) থেকে মুক্তির সুযোগ পাওয়ার মাস, পুরষ্কার (জান্নাত) এর দরখাস্তের মাস, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা শিক্ষার মাস, সংযম অর্জনের মাস, দারিদ্র কষ্ট অনুধাবন ও দরিদ্র অধিকার প্রতিষ্ঠায় যাকাত প্রদানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার মাস, দোয়া কবুলের মাস, সময়ানুবর্তিতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পদ্ধতি শেখানোর মাস, ইহকালীন সম্মান ও পরকালীন মুক্তির জন্য পরম শৃঙ্খলা পালনের মাস। এ সুযোগগুলোর যথার্থ ও সার্বিক প্রয়োগই পৃথিবীকে সুন্দর করতে পারে নিশ্চিতভাবে। তাই ভাবনায় আসুক, প্রশ্ন কি করেছি কখনো নিজেকে- ‘কাজে লাগাতে পারলাম কি এ অবারিত সুযোগ আমরা’?

রোজা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলছেন-‘এ বিধান মুত্তাকী হতে পারার জন্য ‘( সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬ তে)। যে কোন রকম গীবত, অশ্লীল, কটু, মিথ্যা ও অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ পরিহার করে, শোরগোল ও অশান্তি না করে সংযম শিখবার মাধ্যমে একজন মানুষ তার ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে পারে এ মাসেই। যা তার পরবর্তী জীবনে প্রতিফলিত হবে।

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন-‘যে ব্যাক্তি রোজা রেখে অন্যায় কাজ ত্যাগ করেনা, তবে তার রোজা রেখে পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর কাছে নাই’। রোজা পালনের জন্য আল্লাহ্‌তায়ালা সুস্পষ্ট ভাবে তাকওয়া অর্জনের কথা বলেছেন। এই ‘তাকওয়া’ শব্দটিতে ব্যাপক অর্থ বহনের বিচ্ছুরন রয়েছে। এর অর্থ আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসায় অথবা সতর্কতা ও সচেতনতার সাথে রাব্বুল আলামিনের আনুগত্য অর্জন করা। এই গুনাবলী যে পায় তাকেই ‘মুত্তাকী’ বলা হয়।

এ মাসটিকে সত্যিকার কাজে লাগিয়ে, কালিমা আর অন্ধকার দূর করে মানুষ হয়ে উঠুক সত্য ও ন্যায়ের এক উজ্জ্বল নমুনা। হয়ে উঠুক আল্লাহ্‌ প্রেম ও কল্যাণের এক অনুপম উদাহরন। আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসায় যার সব সৎকাজ হয়ে উঠুক বছরব্যাপি সম্প্রসারিত। দেহ ও মনের ভিতর পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বানী প্রবেশ করুক সমস্ত মানবের কল্যাণ কামনায়। কারন আল্লাহ্‌তায়ালা আল কোরআনে বলছেন-‘কোরআন তো সব মানুষের জন্য উপদেশ (সূরা কলমঃ ৫২, সূরা তাকভিরঃ ২৭)। যাতে এ বানী আমরা নিজেরা বুঝে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।

পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার নিম্নলিখিত আয়াতগুলো রোজা সম্বন্ধীয় যা একটু মনে রাখি। যেখানে দেখি যে রোজাতে অসুস্থ, সফরকারী মানুষের জন্য রয়েছে ছাড়। যাদের জন্য কষ্টকর রোজা পালন তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে। আনন্দচিত্তে দরিদ্রদের আরো বেশী বেশী দানে উৎসাহ প্রদানের কথা আসছে। রোজা যে বিরাট কল্যাণ তা আমরা পুরোপুরি অবগত নই, এটা অনুধাবনের দায়িত্বের কথা প্রতিফলিত হচ্ছে। ফুটে উঠেছে সত্যপথের আলোকবর্তিকা পবিত্র কোরআনের কথা আর তা ভিতর থেকে ভালোবেসে অনুধাবনের তাগিদ।

সর্বশক্তিমান যে কঠোরতা আরোপ না করে রোজার সবকিছু করেছেন সহজ, সেই করুণা আর অনুগ্রহের কথাটি আসছে। আমাদের দায়িত্ব সত্যপথ অবলম্বনে সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত আর উপহারকে মনে রেখে কৃতজ্ঞ হওয়ার তাগিদটি রয়েছে। সর্বক্ষণ আমাদের কর্মকাণ্ড ও আচরণে সর্বশক্তিমানের মহিমা বর্ণনা করার উপলব্ধিটিও আসছে। এ আলোকেই আয়াতসমূহ একটু মনে করি সেই মহাগ্রন্থ থেকে-

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বসূরিদের ওপর। যাতে তোমরা আল্লাহ-সচেতন থাকতে পারো” (আয়াত ১৮৩)।

“রোজা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্যে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন রোজা রাখবে। আর রোজা রাখা যাদের জন্যে খুব কষ্টকর, তাদের সামর্থ্য থাকলে ‘ফিদিয়া’ (বিনিময়) অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করবে। আর যদি কেউ আনন্দিতচিত্তে আরো বেশি সৎকর্ম (বেশি সংখ্যক অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানসহ অন্যান্য সৎকর্ম) করে, তবে তা তার জন্যে অতিরিক্ত কল্যাণ বয়ে আনবে। তবে রোজা রাখা তোমাদের জন্যে সবচেয়ে বেশি কল্যাণের, যদি তোমরা জানতে!” (আয়াত ১৮৪)।

“রমজান মাসেই কোরআন নাজিল হয়েছে। আর কোরআন হচ্ছে মানুষের জন্যে সঠিক জীবনদৃষ্টি ও সত্যপথের দিশারি এবং ন্যায়-অন্যায়, সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের নিরঙ্কুশ মানদণ্ড। অতএব এখন থেকে যারাই এ মাস পাবে, তাদের জন্যে পুরো মাস রোজা রেখে তার ফল অর্জন কর্তব্য। তবে যদি কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকে, তবে সে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন রোজা রাখবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি কোনো কঠোরতা আরোপ করেন নি। কারণ তিনি চান, তোমরা রোজার নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করো, সত্যপথ প্রদর্শনের জন্যে স্রষ্টার মহিমা বর্ণনা করো, যেন তোমরা শোকরগোজার হতে পারো” (আয়াত ১৮৫)।

রমজানের শুরুতে যে আমল করতেন আল্লামা কাশ্মীরি রহ.

-আরআর