২০১৮-০৫-০৫

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

আইকোনোক্লাস্টিক হেফাজত!

OURISLAM24.COM
news-image

ত্বরিকুল ইসলাম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

হেফাজতকে আমি সাম্প্রতিককালের একটা প্রভাবশালী চেতনা হিসেবে দেখি। এর আবেদন এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। ইসলামবিদ্বেষী জালিম সেকুলার দুষ্টচক্রের বিপরীতে গড়ে ওঠা ঈমান-আকিদায় বলীয়ান পাল্টা প্রতিবাদী গণশক্তির নামই তো হেফাজতে ইসলাম

হেফাজত বৃহত্তরভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকায় গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইকে প্রেরণা দেয়। ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে জুলুম, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণমানুষকে জাগ্রত করে।

তবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও নির্বাচনমুখী রাজনীতির প্রশ্নে অরাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে হেফাজত সবসময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই, হেফাজত কোন্ অর্থে নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ বলে, সেটা বোঝা জরুরি। কেবলমাত্র রাষ্ট্রক্ষমতা ও নির্বাচন প্রশ্নেই হেফাজত অরাজনৈতিক থাকতে চায়। হেফাজত এই জায়গা থেকেই নিজেকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলাম এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। হেফাজতকে এড়িয়ে যাওয়া মানে ইসলাম-প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া। তাই, প্রগতিশীল সেকুলার বাম ডান ও জাতীয়তাবাদী কোনো পক্ষই আজ আর হেফাজতের প্রভাববলয় থেকে মুক্ত নয়। হিম্মত থাকলে হয় এই প্রভাববলয় ছিন্ন করে বেরোতে হবে, আর সেই হেডম না থাকলে হেফাজতকে সালাম ঠুকে চলতে হবে। হুঁশিয়ার কিন্তু!

এছাড়া হেফাজতের মধ্যে একটা আইকোনোক্লাস্টিক ভূমিকা সুস্পষ্ট। যেমন, বিকৃতায়নের মাধ্যমে সেকুলারিজমের ধুয়া তুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর প্রচলিত প্রগতিশীল ও সেকুলার তরিকাকে হেফাজত শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করেনি, বরং সেটাকে জনগণের কাছে খেলো করে দিয়েছে। দাঁড়ি-টুপি পরলেই রাজাকার কিংবা মুক্তমনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ধর্ম ও রাসূলের অবমাননা করার প্রবণতা, কিংবা সেকুলারিজমের ছদ্মবেশে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর প্রচলিত মত ও তরিকাকে হেফাজত এক্কেবারে পঁচিয়ে দিয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে সেকুলার শিবসেনাদের প্রত্যেকটি ভণ্ডামিমূলক তৎপরতাকে হেফাজত আজ কোণঠাসা করে ফেলেছে।

হেফাজতে ইসলাম একটা দল কিংবা একটা সংগঠন মাত্র, এভাবে আমি হেফাজতকে বিবেচনা করিনা। কারণ দল বা সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম আজ আছে ঠিক, কিন্তু কাল বা পরশু না-ও টিকে থাকতে পারে। কিন্তু ঈমান-আকিদা ও জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের চেতনা হিসেবে হেফাজতকে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

যদিও হেফাজত ইতোমধ্যেই আইকোনোক্লাজমে পরিণত হয়েছে (ICONOCLASM)। কিংবা এই চেতনার একটা ব্রান্ড নেইমে পরিণত হয়েছে। দেশের বিশালসংখ্যক ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনগোষ্ঠী এই ব্রান্ড নেইমকে ধারণ করে।

তেঁতুল তত্ত্ব থেকে মোবাইলিজম!! মারহাবা!

আচ্ছা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি কোনো দলের একক সম্পত্তি? কিংবা কোনো একটি বিশেষ দল যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমালিকানা দাবি করে, সেটা কি গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে? যাবে না। হেফাজতের চেতনাও তদ্রুপ। এটা সামগ্রিকভাবে একটা জাতীয় চেতনার নাম। ভিন্ন দল বা সংগঠনও পারে এই নামের চেতনা নিয়ে জেগে উঠতে, লড়তে।

তাই, হেফাজতের চেতনা কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়। শাপলা চত্বরের রক্তমাখা ইতিহাস শুধুমাত্র একটি দলের ওপর ভর করেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এমন নয়, বরং এই ইতিহাস সৃষ্টির মূল কারিগর দেশের বৃহৎ আপামর তৌহিদি জনতা। দলীয় সাফল্য ও ব্যর্থতা ছাপিয়ে তারাই মূল কুশীলব। তারাই রাজপথে শাহাদতি রক্তের কালি দিয়ে ঈমানের ইতিহাস রচনা করেছেন।

সুতরাং, তাদের রক্তের সাথে বেঈমানি করার পরিণামও ভয়াবহ হবে। ইতিহাস নিশ্চয়ই সেটার বিচার করবে। তৌহিদি জনতা যেদিন বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে, সেদিন বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতকদের রেহাই নেই।

নারায়ণগঞ্জ হেফাজত আমিরসহ ৬২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

-আরআর