২০১৮-০৫-০৪

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

‘৫ মে ইতিহাসে নতুন কারবালা; ওদের রক্ত বৃথা যাবে না’

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৩ সালে কতিপয় নাস্তিক আল্লাহ, রাসূল, পবিত্র কুরআন-হাদীস অবমাননা এবং ইসলামের প্রতীকসমূহের ওপর জঘণ্যতম আক্রমন করেছে, ইসলাম, মুসলমান ও আলিম-ওলামাদের হেয়প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টায় চালাচ্ছে, মাদারিসে দীনিয়্যার বিরুদ্ধে হরদম মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপতৎপরতা চালিয়েছে তখনই এদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে শান্তিপূর্ণভাবে হেফাজতে ইসলাম ৫ মে রাজধানী ঢাকা অবরোধ করেছিল।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ৫ মে বাংলদেশের হক্কানী ওলামা-পীর-মাশায়েখ, আশেকে রাসূর সা. ও দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতার জন্য রক্তঝরা এক ঐতিহাসিক দিন। কেননা ঐদিনের ট্রাজেডি অত্যন্ত মর্মান্তিক, মর্মন্তুদ ও বেদনাদায়ক।

তিনি বলেন, সারা দিন অবরোধে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যখন ক্ষুধা, পিপাসায় ক্লান্ত শরীরে হাহাকার তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার ও পানির গাড়ি বন্ধ করে, সন্ধ্যা থেকেই রাস্তার লাইট বন্ধ করে, মতিঝিলের আশপাশের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিদঘুটে অন্ধকার তৈরি করে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে নিরস্ত্র ঈমানদার নবীজী সা. এর সৈনিকদের ওপর। পত্রিকার রিপোর্ট মতে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, পিপার গান, বৃষ্টির মতো সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির যৌথ বাহিনী নিরীহ, নিরাপরাধ, তাহাজ্জুদ গুজার, জিকিররত আলেম হাফেজদের ওপর।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, এই নজির বিহীন হত্যাকাণ্ড হালাকু খান, চেঙ্গিস খানের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চাইতেও ভয়াবহ।

২০১৩ সালের ৫ মের শাপলা চত্বরের গণহত্যায় চালিয়ে যৌথ বাহিনী ইতিহাসে এক নতুন কারবালা সৃষ্টি করেছে। তাদের জানা দরকার, হেফাজত কাফেলার মাতৃভূমি কিন্তু বাংলাদেশ। তারা এদেশের নাগরিক, আইন বিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত নয়, কোন দাগী আসামিও নয়, আলেমরা শান্তি প্রিয়, সমাজে তারা মর্যদাশালী। এরা কোন অন্যায় করে না।

দাওয়াত ও তাবলীগের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের করণীয়

আলেম ওলামাদের সাথে জুলুমের পরিনতি খুব ভয়াবহ। আল্লাহর অলিদের বিরুদ্ধে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে, অন্যায় জুরুম করে অল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ২০১৩ সালে ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে যারা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তারা কেবল মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর ভালবাসা নিয়ে ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না।

হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে সেদিন ময়দানে নেমেছিল সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হেফাজত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ঈমান রক্ষার আন্দোলনে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তারা আমাদেরই ভাই, তাদেরকে আমরা ভুলে যেতে পারি না।

শাপলা চত্বরের শহীদদের বিচার বাংলার সবুজ চত্বরে একদিন হবে ইনশাআল্লাহ। যারা সেদিন শাহাদাত বরণ করেছেন আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আর যারা আহত হয়েছেন আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবেন।

তিনি দেশবাসীকে শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

হাটহাজারী মাদরাসার ফেসবুক পেজ উদ্বোধন করলেন আল্লামা শফী

‘৫ মে’র শিক্ষা ইসলাম কায়েমে আমাদের অন্তরে শক্তি সঞ্চার করবে’

-আরআর