২০১৮-০৫-০২

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইহুদিদের স্বার্থেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি: ইলান পেপ

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: বিখ্যাত ইসরাইলি ঐতিহাসিক ইলান পেপ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ফিলিস্তিনিদের বুঝিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্যের কোনো আগ্রহই যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

কাতারের রাজধানী দোহায় আল জাজিরাকে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে পেপ আরও বলেন, ট্রাম্পের এই অবস্থানের পর ফিলিস্তিনিদের বুঝে নেয়া উচিত যে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দরকারি নয়।

ইসরাইলে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি ধর্মাবলম্বী পেপ ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র অর্জনের অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তাদের প্রাপ্য এবং ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইহুদিদের ভবিষ্যত নিরাপদ করার জন্যও ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বারাক ওবামা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলো দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলো। তারা আসলে ফিলিস্তিনিদের ক্রমাগত ধোঁকাই দিচ্ছিলো। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিছু বক্তৃতা বিবৃতি ছাড়া ফিলিস্তিনের ভুখণ্ডে যয়নবাদী স্বার্থই রক্ষা করে গেছে।

দি ইথনিক ক্লিনজিন অব প্যালেস্টাইনসহ ১৫টি গ্রন্থের রচয়িতা এবং এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইওরোপিয়ান সেন্টার অব প্যালেস্টাইন স্টাডিযের ডিরেক্টর ইলান পেপ গত সপ্তাহে দ্বাদশ আল জাজিরা ফোরামে ভাষণও দেন।

আল জাজিরা ইংলিশ থেকে তার সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করেছেন ফারুক ফেরদৌস

আল জাজিরা: আপনি ফিলিস্তিনের অবস্থা এখন কেমন দেখছেন? একদিকে তারা বিভক্ত অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এখন আগের শান্তি সমঝোতাগুলোর মূল টার্মগুলোকেই উপেক্ষা করছে।

ইলান পেপ: আমি মনে করি পুরো শান্তি প্রক্রিয়া এতো দিন যেভাবে চলেছে তার সাথে পুরো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর তেমন সম্পৃক্ততা ছিলো না। তাদের উচিত একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া। যা তারা শেষবার করতে পেরেছিলো ১৯৪৮ সনে।

এখন সময় এসেছে সব ফিলিস্তিনি শুধু পশ্চিম তীর বা গাজা উপত্যকার অধিবাসীরা নয় বরং মূল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অপরাপর অংশে যারা বসবার করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের সবার সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।

আমি আশা করি তারা পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাইবেন।

আল জাজিরা: ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ইসরাইল ফিলিস্তিন সমস্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে আসলে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে?

ইলান পেপ: ট্রাম্প প্রশাসন একটি নতুন ধরনের কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের আগের সরকারগুলো দুই পক্ষের সাথেই কথা বলতো। বিল ক্লিন্টন, জর্জ ডব্লিও বুশ এবং বারাক ওবামাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলো সাধারণত এ ব্যাপারে একটা বলে তার বিপরীতটা করতো।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন এটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিস্কার লঙ্ঘন। এখন দেখার বিষয় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রচুর ক্ষমতাশালী শিশুসুলভ প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত কীভাবে মোকাবেলা করে।

আল জাজিরা: ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলি সকল অবস্থান ও বিবৃতিকে ক্রমাগত সমর্থন করে যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কথাই বলছে ইসরাইলের ভাষায়-এর পেছনের কারণ আপনার দৃষ্টিতে কী?

ইলান পেপ: যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন আসে মূলত ট্রাম্পের সমর্থনের মূল ভিত্তি খ্রিশ্চিয়ান জয়নবাদী কম্যুনিটি এবং ইহুদি কম্যুনিটি থেকে। তবে তরুণ আমেরিকান ইহুদিরা ইসরাইল থেকে নিজেদের আলাদা করে দেখেন এবং ইসরাইলের অনৈতিক আচরণগুলো নিয়ে প্রশ্নও তোলেন।

বেশিরভাগ জয়নবাদী খ্রিস্টান ইসরাইলকে সমর্থন করে কারণ তারা খ্রিস্টান, ইসরাইলের প্রতি ভালোবাসার কারণে নয়। তাদের এই ধর্ম যেনো খ্রিস্ট ধর্মের একটি অভূতপূর্ব অনন্য সংস্করণ।

মানুষ ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থনকে অনেক সময়ই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন থাকে ইসরাইলি লবিগুলোর সফলতার কারণে আর রিপাবলিকান পার্টির ইসরাইলকে সমর্থনের বড় কারণ তাদের খ্রিস্টান জয়নবাদ।

আল জাজিরা: যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেম সিদ্ধান্তের মোকাবেলা ফিলিস্তিন এবং তাদের সমর্থকদের কীভাবে করা উচিত?

ইলান পেপ: এই অবস্থান ফিলিস্তিনিদের অন্তত এই বিশ্বাস থেকে মুক্তি দিয়েছে যে কোনো শান্তি-আলোচনা বা উদ্যোগ শুধু মাত্র যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেই আসতে পারে না। তারা এবার সমাধানের উপায় নিয়ে আরও অগ্রসর চিন্তা ভাবনা করতে পারবে।

এটা জরুরি নয় যে শান্তি-উদ্যোগ বা সমাধান শুধু মাত্র আমেরিকা বা ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে হতে হবে। ফিলিস্তিনের উচিত নিজেদের চিন্তা ভাবনা নিয়েই এগিয়ে যাওয়া।

আল জাজিরা: পুরো আরব বিশ্বই দীর্ঘ দিন যাবৎ এটা বিশ্বাস করে এসেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরানব্বই ভাগ দ্বন্দ্ব ও সমস্যার সমাধান অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হতে হবে। তাদের বেঁচে থাকা ও সুরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের উপরই নির্ভরশীল। এটা কি এখনও কার্যকর কোনো চিন্তা?

ইলান পেপ: আমি মনে করি ট্রাম্পের আমলে এটা একটা কঠিন চিন্তা। একদিকে তিনি বলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিতে আমেরিকার নাক না গলানো উচিত। কিন্তু যখন তিনি নাক গলাতে চাচ্ছেন জোর করেই নাক গলাচ্ছেন।

আমি মনে করি আমদের উচিত নয় আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকা। আমাদের উচিত নিজেদের কথা শোনা। নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে যাওয়া।

ইনস্টল করুন বয়ান ও কিতাবের অ্যাপ ইসলামী যিন্দেগী

তবে আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য আছে। সরকারগুলো এটা বলতে ভয় পায় যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত ছাড়া এগিয়ে যেতে পারি। জনগণের উচিত তাদের নীতিনির্ধারকদের এই বার্তা দেয়া যে হ্যাঁ তোমরা পারো।

যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ বা লাল সংকেতের কোনো দরকার নেই তোমাদের। তোমাদের দেখা উচিত সমস্যার মূল সূত্রগুলো কী? এই সময়ে এর সমাধান কীভাবে হতে পারে। এবং মাথায় রাখা উচিত মানবাধিকারের মূলনীতিগুলো।

আল জাজিরা: ১৯৯৩ সনের অসলো এগ্রিমেন্ট পাঁচ বছরে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা দিয়েছিলো। কিন্তু এখন শুধু পশ্চিম তীরেই দখলদার ইহুদি অধিবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। আপনি কি মনে করেন দুই রাষ্ট্র সমাধান এখনও সম্ভব?

ইলান পেপ: যতদিন যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করছিলো ততদিন এটা একটা প্রশ্ন ছিলোই যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের অবস্থানকে নমনীয় করার জন্য ইসরাইলের ওপর যথাযথ শক্তিপ্রয়োগ করছে কি না।

আর এখন যখন তারা তাদের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে আনার কথা বলছে তখন এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে আর কোনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে না।

যদিও পশ্চিম তীরের কিছু মানুষ মনে করে যে দুই রাষ্ট্র সমাধান পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি দখলদারির অবসান ঘটাবে আমি মনে করি তাদের ধারণা ভুল। একদিন তাদের বোধোদয় হবে এবং বুঝতে পারবে এখানে আসলে ভিন্ন কোনো সমাধান দরকার।

জিন্নাহর ছবি বিতর্কে বিজেপির পাশে জামিয়েত হিন্দ

‘মাওলানা সাদকে দূরে ঠেলে নয় পরিশুদ্ধির জন্য কাছে টানতে হবে’

-আরআর