২০১৮-০৪-২৬

বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

অস্তিত্ব সংকটে টাঙ্গাইলের নদী ও খালবিল

OURISLAM24.COM
news-image

আওয়ার ইসলাম: ‘নদী, চর, খালবিল গজারি বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গর্বের ধন’- এ প্রবাদেই পরিচয় মেলে একসময়ের টান-আইল তথা টাঙ্গাইলের। কিন্তু কালের আবর্তে এ প্রবাদটি হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই নদী, চর, খালবিল এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না।

ক্রমাগত দখল-দূষণ আর ভরাট হয়ে টাঙ্গাইল জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী, শাখা নদী ও খালবিলগুলো অস্ত্মিত্ব সংকটে পড়েছে। জেলার নদী, খাল, বিল দিয়ে এখন আর পালতোলা নৌকা চলতে দেখা যায় না।

উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র এবং সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৪১৪.৩৫ বর্গ কিমি আয়তনের টাঙ্গাইল জেলার প্রধান নদী রয়েছে মোট ১০টি। সেগুলো হচ্ছে যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশাই, লৌহজং, খিরম্ন, যুগনী, ফটিকজানি, এলেংজানি, লাঙ্গুলিয়া ও ঝিনাই।

এ ছাড়া বৈরান, টোক, নাংলাইসহ আরো কিছু শাখা নদী জেলার অভ্যন্ত্মরে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলে খালের মধ্যে রয়েছে কুচিয়ামারার খাল, নয়ার খাল, মইষাখালীর খাল, ময়থার খাল, বেংড়া খাল, খসরম্নখালির খাল প্রভৃতি। এসব খাল প্রায় ক্ষেত্রেই নদীর শাখা রূপে সৃষ্টি হয়ে আবার নদীতেই মিশেছে। বিলের মধ্যে বালিয়া বিল, কাউলজানী বিল, ডুবাইল বিল আকারে কিছুটা বড়।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং-২৭। নদীটি মূলত বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত একটি জলাধার। টাঙ্গাইল জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত্মে যমুনা নদী থেকে ধলেশ্বরীর সূচনা।

এটি উৎপত্তিস্থল থেকে কিছুদূর এগিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়- উত্তরের অংশটি ধলেশ্বরী আর দক্ষিণের অংশটি কালীগঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়। এই দুটি শাখা নদী মানিকগঞ্জ জেলার কাছে মিলিত হয়ে সম্মিলিতভাবে এ জলাধারটি ধলেশ্বরী নামে প্রবাহিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার কাছে শীতলক্ষ্যা নদীর সাথে মিলিত হয় এবং পরবর্তীকালে মেঘনা নদীতে পতিত হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে, ধলেশ্বরী বর্তমানে যমুনার শাখা হলেও প্র্রাচীনকালে এটি সম্ভবত পদ্মা নদীর মূল ধারা ছিল। ১৬০০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে পদ্মার গতিপথ ব্যাপকভাবে পাল্টে গেছে। ধারণা করা হয়, কোনো সময়ে পদ্মার মূল ধারাটি রামপুর-বোয়ালিয়া এলাকা ও চলন বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর মাধ্যমে মেঘনায় গিয়ে মিশতো।

১৮শ’ শতকে পদ্মার নিম্ন প্রবাহটি ছিল আরো দক্ষিণে। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মূল প্রবাহ ধলেশ্বরী থেকে দক্ষিণের প্রবাহে, তথা কীর্তিনাশা নদীতে সরে যায়- যা বর্তমানে পদ্মার মূল গতিপথ।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপাড়ে যমুনার কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে স্থানীয়দের ভাষায় ‘নিউ ধলেশ্বরী’ নামে যে নদীটি দেখা যায় তা ধলেশ্বরী নদীরই পরিবর্তিত রূপ। লৌহজং নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার একটি নদী।

নদীটির দৈর্ঘ্য ৮৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৭৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং-৫৪। লৌহজং নদীটি পূর্র্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি দক্ষিণে বাঁক নিয়েছে। এই নদী অববাহিকার আয়তন ১০৪ বর্গ কি.মি।

আরো পড়ুন- গ্রীসে শরিয়াহ আইন প্রয়োগের নীতি পরিবর্তন