বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮

তাবলিগের মেহনত সম্পর্কে মাওলানা রবিউল হকের গুরুত্বপূর্ণ নসিহত

OURISLAM24.COM
এপ্রিল ১৫, ২০১৮
news-image

১২ এপ্রিল, ২০১৮ বৃহস্পতিবার, বা’দ মাগরিব কাকরাইল মসজিদে দেয়া তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা রবিউল হকের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। লিখেছেন তানভির আহমদ সিদ্দিকী]

দীন এবং দীনের মেহনত দুটোই আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে এসেছে। এমন না যে দীন আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছেন আর দীনের মেহনত নবীগণ নিজেদের আকল-বুদ্ধি ব্যবহার করে করেছেন।

এখন ধরুন, আপনি নতুন জিনিস শুরু করতে চাচ্ছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, তা কি কুরআনে আছে? হাদীসে আছে? অথবা সীরাতে আছে? পরিশেষে, তা গ্রহণ করা হবে না।

এখনো দুনিয়া উলামা-শূন্য হয়ে যায় নাই। এখনো এমন মহামারি হয় নাই যে সব উলামা হঠাৎ দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, আর সারা দুনিয়ায় জাহেলের রাজত্ব কায়েম হয়ে গেছে, যার যেভাবে ইচ্ছা ফতোয়া দিচ্ছে।

মুফতিও জাহেল, গোমরাহ। তাকে যারা অনুসরণ করছে তারাও জাহেল, গোমরাহ। এখনো দুনিয়ায় সেই অবস্থা তৈরি হয় নাই যে হক আর বাতিল পার্থক্য করার কেউ নাই।

দুনিয়ায় যত নতুন নতুন পরিস্থিতি আর মাসআলা তৈরি হচ্ছে তার সব চৌদ্দশত বছর আগে ছিল না। বর্তমানে যত প্রকার সুদ দেখা যায় তার সবকিছু নবীর যামানায় ছিল না।

এখন, সুদ হল সবচেয়ে বড় সাতটা কবীরা গুণাহের একটা। আল্লাহ্‌ সকল প্রকার সুদকে হারাম করেছেন। এখন, নতুন নতুন এই সুদী ব্যবস্থার মাসআলার সমাধান দিবেন কারা? আমরা আওয়ামরা? নাকি উলামাগণ? এজন্য এরকম উলামা তৈরি করা উম্মাতের জিম্মায় ফরজে কিফায়া।

আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআন-হাদীসের মধ্যে সমস্ত সমাধান বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ বলেন, নিশ্চয়ই আমার কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন হল ইসলাম।

তিনি বলেন, আজ তোমাদের উপর তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তাই ইসলামের মধ্যে সমস্ত সমাধান অবশ্যই আছে। কিন্তু কুরআন-হাদীস ঘেটে, সীরাত ঘেটে সমস্ত আধুনিক মাসআলার সমাধান বের করা কি যার-তার পক্ষে সম্ভব, নাকি বিশেষজ্ঞের পক্ষে সম্ভব?

কুরআন ও হাদীসের যিনি বিশেষজ্ঞ, সীরাতের যিনি বিশেষজ্ঞ, এমনকি এই লাইনের ইল্‌ম হাসিলের জন্য জীবনের এক লম্বা সময় ব্যয় করেছেন, মেহনত করেছেন, সমস্ত দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেছেন, কুরআন ও হাদীসের ইল্‌ম তিনিই অর্জন করতে পারেন। আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর অন্তরকে ইল্‌মের জন্য খুলে দেন।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর অন্তরে আল্লাহ্‌ তা’আলা এই দীনের মেহনতের একটা নকশা ইলহাম করেন। কিন্তু তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত এই মেহনত শুরু করতে চাননি, যতক্ষণ পর্যন্ত আলেমগণ থেকে এর স্বীকৃতি আদায় করতে না পেরেছেন।

কেননা, ইলহাম ঠিকমত বুঝতে না পারলে তা মানুষের গোমরাহীর কারণ হতে পারে। ইলহাম শয়তানের পক্ষ থেকেও হতে পারে। অতএব তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে, নাকি শয়তানের পক্ষ থেকে তা বুঝার জন্য শরীয়ত দ্বারা যাচাই করার প্রয়োজন, তাছাড়া অনেক সময়েরও প্রয়োজন।

তো তিনি চিন্তা করলেন, আমি এক ব্যক্তি। আমার সাথে সকলে যে একমত হবে এমনটা নাও হতে পারে। তো হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. চিন্তা করলেন, আমাকে বড় বড় উলামাগণের কাছে যেতে হবে।

তাদের মত এবং সমর্থন নিতে হবে। তো সেই সময় ভারতের অনেক বড় আলেম ছিলেন মুফতী কিফায়াতুল্লাহ্‌ রহ.। তিনি ছিলেন ভারতের গ্রান্ড মুফতি। হযতজী তার কাছে গেলেন। তাকে নিজের অস্থিরতার কথা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন।

বললেন, উম্মাতের বর্তমান অবস্থায় তিনি কিরূপ পেরেশান। দিন-রাত তিনি অস্থির থাকেন। ভাবেন- উম্মত এই অবস্থায় চললে তো দুনিয়াতে দীন-পালনকারী মুসলমান খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বললেন, তিনি আল্লাহ্‌র কাছে এজন্য অনেক দুআ-কান্নাকাটি করেছেন। আল্লাহ্‌র কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছেন যেন তিনি একটা পথ বলে দেন। তো আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে একটা নকশা ইলহাম করেছেন। এখন আমি আপনার কাছে এসেছি।

আপনি শরীয়তের আলোকে এর উপর চিন্তা-ফিকির করে বলেন, তা শরীয়তসম্মত কিনা। যদি শরীয়তসম্মত হয়, তাহলে এই মেহনত আমি শুরু করতে চাই। মুফতী কিফায়াতুল্লাহ রহ. বললেন, ইলিয়াস, শান্ত হও, অস্থির হয়ো না, আমি দেখছি।

তাবলীগের মুরব্বিসহ আলেমদের বয়ানের অ্যাপ ইসলামী যিন্দেগী ইনস্টল করুন আপনার মোবাইলে

উলামাগণ দীনের পাহারাদার। তারা দীনের দরদি হন। তাদের সামনে আল্লাহ্‌র ভয় থাকে। তাদের সামনে থাকে আখেরাত। এরপরও, যেহেতু তারাও মানুষ তাই তাদেরও ভুল হতে পারে।

কিন্তু আশার কথা হল উলামাগণের বড় অংশ কখনো গোমরাহীর উপর একমত হবেন না। এজন্য কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত বাতিলের পথে যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত উলামাগণের অনুসরণ করবে। আর তাই সমস্ত বাতিলই চায় উম্মতকে প্রথমে উলামাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে।

তো, পরিশেষে মুফতী সাহেব রহ. বললেন, তোমার এই নকশা কুরআন-সুন্নাহ্‌র মুয়াফিক। কিন্তু তাতে একটা বড় সমস্যা আছে। তা হল, বর্তমান যামানায় তোমার এই কষ্ট-কুরবানীর মেহনত করার মত মানুষের জামা’আত পাবে না।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. একদিকে আশান্বিত হলেন যে মুফতী সাহেব এই নকশাকে কুরআন-সুন্নাহ্‌ মুয়াফিক বলেছেন। আরেকদিকে হতাশ হলেন তাঁর সার্বিক সমর্থন না পাওয়াতে। কেননা তাঁর মত আলেমের পরিপূর্ণ সমর্থন না পাওয়া গেলে তিনি এই মেহনত করতে গিয়ে পদে পদে বাধা পাবেন।

অন্যান্য উলামাগণও বাধা দিবেন। আর উলামাগণ বাধা দিলে আওয়াম মানুষও ভাগবে। তো, তিনি চিন্তা করলেন, কাজ করে দেখিয়ে সমর্থন আদায় করতে হবে। তিনি অনেক চেষ্টা মেহনত করে এক জামাত দাঁড় করালেন।

এই জামাতের কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠালেন মুফতী কিফায়াতুল্লাহ্‌ রহ. এর কাছে। তাদের শিখিয়ে দিলেন, মুফতী সাহেব যখন তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন তখন কি উত্তর দিতে হবে।

তো মুফতী সাহেব রহ. তাদের ব্যাপারে জানতে পেরে চমৎকৃত হয়ে গেলেন। ভাবলেন, মাওলানা ইলিয়াস তো করে দেখিয়ে দিল। এই জামানাতেও যে কিছু দিনের জন্য বাড়ি-ঘর-বিবি-বাচ্চা ছেড়ে কষ্ট-কুরবানীর মেহনত করার মত জামাআত তৈরি করা সম্ভব তা তো এখন প্রমাণ হয়ে গেল।

এখন আর এতে সমর্থন দিতে কিসের বাধা! তো মুফতী সাহেব পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়ে দিলেন।

তো, এই মেহনত শরীয়াত মুয়াফিকই শুরু হয়েছে। আর তাই ধীরে ধীরে সমস্ত উলামাই এই মেহনত সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন। যখন তারা নিশ্চিন্ত হলেন, একে সার্বিকভাবে সমর্থন সহযোগিতা করতে শুরু করলেন– তাদের লেখালেখির মাধ্যমে, তাদের বয়ানের মাধ্যমে, তাদের অংশগ্রহণ এবং উৎসাহিত করার মাধ্যমে।

তাদের জোর সমর্থনের কারণেই ধীরে ধীরে এর সামনে থেকে কঠিন থেকে কঠিন বাধা সব দূর হতে লাগলো। এটা তখনই সম্ভব হয়েছে যখন উলামায়ে কেরাম এর সমর্থন দিয়েছেন। দুআ করুন যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের মউত পর্যন্ত এই মেহনতের সাথে লাগিয়ে রাখেন। এই মেহনতের মধ্যে আল্লাহ্‌ তা’আলা জাতির হেদায়েত রেখেছেন।

এটা হলো দীনের মেহনত। এটা কোন দলের মেহনত নয়। আমরা কোন দল নই। “তবলীগ জামাত”, এই নাম মাওলানা ইলিয়াস রহ. দেননি। মানুষ এটাকে এই নামে ডাকে।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন, আমি যদি এই মেহনতের কোনো নাম রাখতাম তাহলে তা হত তেহরীক-ই-ঈমান বা ঈমানী আন্দোলন। এটা রাসূল সা. এর উম্মাত হিসেবে আমাদের মেহনত। যেহেতু মুহাম্মাদ সা. এর পর আর কোনো নবী আসবেন না, তাই তাঁর উম্মাত হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উপরই এই জিম্মাদারী যে তাঁর উপর যে পয়গাম এসেছে, তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি যে মেহনত করেছেন, যেভাবে মেহনত করেছেন, তাঁর উম্মাত হিসেবে সেই মেহনত করা, সেভাবে মেহনত করা আমাদের প্রত্যেকেরই জিম্মাদারী। বুঝে এসেছে ভাই?

এই মেহনত গায়ের জোর আর শক্তি নয়। তুমি নিজের অবস্থান কত শক্ত বানাতে চাচ্ছো? আর কত বেশি শক্ত অবস্থানের আশ্রয় চাচ্ছো? কারা ওরা? ওদের কি আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক আছে, না মালের সাথে? না হাতিয়ারের সাথে? না ক্ষমতার সাথে? পৃথিবীর অতীতকে একটু মনে করে দেখ।

কত শক্তিধর, ক্ষমতাধরকে আল্লাহ্‌ তা’আলা দুনিয়াতে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এই মেহনতের লক্ষ্য দুনিয়াবি অবস্থান তৈরি করা নয়। এই মেহনতের সম্পর্ক আখেরাতের সাথে।

ভাই, দোস্ত, বুজুর্গ। আল্লাহ্‌ তা’আলা এই মেহনত আমাদের দিয়েছেন। এটা দীনের মেহনত। দীনও আমানত। দীনের মেহনতও আমানত। তাই এই মেহনত আমানতদারীর সাথে করতে হবে।

মেহনত করলে দীন বুঝে আসবে। মেহনত না করলে দীনের বুঝ আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাবে, দীনের উপর চলা কঠিন হয়ে যাবে। তাই আল্লাহ্‌ তা’আলা এই মেহনতে আমাদের জান, মাল খরচ করার তাওফীক দান করুন। জান, মালও আল্লাহ্‌র আমানত।

জান, মাল খরচ করার বহু রাস্তা আছে। বহু রাস্তা আছে আল্লাহ্‌ তা’আলার পছন্দনীয়, আবার বহু রাস্তা আছে আল্লাহ্‌ তা’আলার অপছন্দনীয়। পছন্দনীয় রাস্তায় জান, মাল খরচ করার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলার তাওফীক চাইতে হবে। অপছন্দনীয় রাস্তায় জান, মাল খরচ করা থেকে আল্লাহ্‌ তা’আলার পানাহ্‌ চাইতে হবে। হুজুর সা. আল্লাহ্‌র রাস্তায় জান মাল খরচ করেছেন।

একজন দরিদ্র, বিপদগ্রস্ত লোককে আর্থিক সহযোগিতা করাও আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ করা। মসজিদ বানানো, মাদরাসা বানানো, এগুলোও আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ করা। এগুলোও দীনি কাজ, এগুলো সব দীনের সাহায্য করা। এগুলো সমস্ত কাজ যখন চলবে, দীনের উপর চলা সকলের জন্য সহজ হবে।

বিপদগ্রস্ত লোককে সাহায্য করলে মানুষ দীনের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাই এগুলো সব দীনের সাহায্য নয়? খালি তবলীগ! এইটাই একমাত্র কাম! আর কোন কাম নাই! এরা হলো আস্ত কতগুলো পাগল, মাথা খারাপ, ব্রেকহীন। ব্রেকহীন গাড়ি যেমন ভয়ানক বিপদ, এরাও তেমনি। কী আশ্চর্য কথা!

আল্লাহ্‌র রাসূল দীনের কাজে মাল সংগ্রহ করেন নাই? সাহাবারা একসাথে মাল জমা করেন নাই। এগুলো কি চাঁদা নয়? সাহাবারা চাঁদা দেন নাই? অন্ধের মত না চলি আমরা। চোখ, কান খুলে চলি। নতুন মুসলমানকে সাহায্য সহযোগিতা করা, তাদের সমস্যার সমাধান করে দেওয়া, তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া এগুলোও দীনের মেহনত।

ইসলামের সব কাজকে অস্বীকার করবো, আর একমাত্র এটাকেই কাজ মনে করবো, এটাতো বহুত বড় জাহালত আর অন্ধকার! এটাতো বাস্তবতাকে অস্বীকার করা।

হাঁ এরপর এটা দেখবো যে আল্লাহ্‌র রাসূল এবং সাহাবারা কোন কাজে সবচেয়ে বেশি জান, মাল খরচ করেছেন। তারা সবচেয়ে বেশি যে কাজে জান, মাল খরচ করেছেন, তা হল দীনকে আল্লাহ্‌র জমীনে বুলন্দ করা, প্রতিষ্ঠিত করার কাজে, এর পিছনে মেহনতের জন্য। তাই এটা নিয়ত করি যে কল্যাণের যত রাস্তা আছে, সমস্ত রাস্তায় আমি জান-মাল খরচ করবো।

তবে জান-মালের বড় অংশটা আমি খরচ করবো আল্লাহ্‌র দীনকে, আল্লাহ্‌র কালেমাকে আল্লাহ্‌র জমীনে বুলন্দ করার কাজে।

এবং দীনের আর যত মেহনত আছে, আমি কোন মেহনতকে অস্বীকার করবো না, কোন মেহনতের সাথে আমি মোকাবেলায় যাবো না। একজন হয়তো মসজিদে সাপ্তাহিক জিকিরের মজলিস করেন।

কিছু লোক, যারা ঠিকমত নামাযও পড়ে না, তারা এই সাপ্তাহিক জিকিরের মজলিসে বসা শুরু করলো। ধীরে ধীরে তাদের অন্তরে জিকিরের রঙ ধরা শুরু করলো, নামায ধরলো, দাড়ি রাখা শুরু করলো, সুন্নাতি লেবাস ধরলো। এটা কি দীনের মেহনত নয়? পরিপূর্ণ দীন নয়, কিন্তু দীনের অংশ, দীনের আমল।

একজন বাচ্চাদের আলিফ, বা, তা পড়ায়। এর পিছনে কত যে মেহনত করে! এটা কি দীনের মেহনত নয়? কোন মেহনতকেই আমরা প্রতিপক্ষ না বানাই । সবগুলোরই দরকার আছে।

দীনের মেহনত করতে হবে ইখলাসের সাথে। এমনভাবে মেহনত করতে হবে যেন মেহনত করতে করতে এক আল্লাহ্‌র উপর তাওয়াক্‌কুল পয়দা হয়। আসবাব আর দুনিয়াবি উপকরণের উপর থেকে তাওয়াক্‌কুল চলে যায়।

আল্লাহ্‌র উপর যদি এরূপ তাওয়াক্‌কুল করা হয়, যেরুপ তাঁর হক রয়েছে, তাহলে তিনি আমাদেরকে পাখিদের মত রিযিক দিবেন, যারা সকালে বের হয় খালি পেটে আর সন্ধ্যায় ফিরে আসে ভরা পেটে। মেহনত করতে করতে আল্লাহ্‌র বড়ত্ব দিলে পয়দা হবে। নজরের মধ্যে আল্লাহ্‌ শক্তি দান করবেন, জবানের মধ্যে আল্লাহ্‌ শক্তি দান করবেন।

এর মধ্যে কোন সন্দেহ নাই, হেদায়েত আল্লাহ্‌র হাতে। আমরা হেদায়েতের মুখাপেক্ষি। সমস্ত মানুষ হেদায়েতের মুখাপেক্ষি। মেহনত একটা উসিলা, হেদায়েত আল্লাহ্‌র হাতে। হেদায়েত নবীদের হাতেও ছিল না।

তারা হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন। নবী চাইলেও আল্লাহ্‌ যখন চান নাই, হেদায়েত হয় নাই। আবার নবী না চাইলেও আল্লাহ্‌ চেয়েছেন তো হেদায়েত দিয়েছেন।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন, “এই মেহনত, মেহনতকে জিন্দা করার জন্য নয়। এই মেহনত দীনকে জিন্দা করার জন্য।” মেহনত মেহনতের মত চললে এর দ্বারা দীন জিন্দা হবে। নয়তো এর দ্বারা শুধু মেহনতই জিন্দা হতে পারে, দীন জিন্দা হবে না।

তাই আমরা নিয়ত করি, মউত পর্যন্ত এই মেহনতকে মেহনতের মত করে করতে থাকবো। এর উছিলায় আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের নিজেদের জীবনেও দীন দান করবেন, মানুষের মাঝেও দীনকে জিন্দা করবেন।

গোনাহ করলে কি দাঁড়ি সেভ করতে হবে? যুবকের প্রতি মাওলানা তারিক জামিল

-আরআর