বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

মাথার চুল বিক্রি করা যাবে কি?

OURISLAM24.COM
মার্চ ২৮, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম :  আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন মানব জাতিকে সম্মানিত করে বানিয়েছেন। তাই সমস্ত উলামায়ে কিরাম এই বিষয়ে ঐক্যমত যে, মানুষের শরীরের কোনো অংশ বিক্রি করা জায়েয নয়। মানুষকে যেমন আল্লাহ তাআলা সম্মানিত বানিয়েছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদিকেও সম্মানিত বানিয়েছেন।

আল্লহ তায়ালা বলেন,

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً

অর্থ, নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
(সুরা বনী-ইসরাঈল: ৭০)

ইমাম মুহাম্মদ রহঃ তার রচিতগ্রন্থে বলেন,

 ولا يجوز بيع شعر الانسان

অর্থ, মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নাই।
(মাজেউস সগীর মায়া নাফেউল কবীরঃ ১/৩২৮)

জাসেউস সগীরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নাফেউল কবীরে এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,

ولا يجوز بيع شعر الإنسان إلخ لأن الإنسان مكرم فلا يجوز أن يكون منه شئ مبتذل

অর্থ,(মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নাই) কেননা, মানুষ হলো সম্মানী। সুতরাং কিছূতেই জায়েয হবে না মানুষের কোন অঙ্গকে অমর্যাদা করা।
(নাফেউল কবীর শরহে জামেউস সগীরঃ ১/৩২৮)

কানজুদ দাকায়েকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাবঈনুল হাকায়েকে আছে,

قَالَ ( وَشَعْرِ الْإِنْسَانِ ) يَعْنِي لَا يَجُوزُ بَيْعُ شَعْرِ الْإِنْسَانِ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ ؛ لِأَنَّ الْآدَمِيَّ مُكَرَّمٌ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ جُزْؤُهُ مُهَانًا

অর্থ, কানজুদ দাকায়েকের লিখকের কথা (মানুষের চুল) । অর্থাৎ অর্থ,মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নাই কেননা, মানুষ হলো সম্মানী। সুতরাং কিছূতেই জায়েয হবে না মানুষের কোন অঙ্গকে অপমানীত করা।
(তাবঈনুল হাকায়েকঃ ১০/৪৬৩, শরহে বেকায়াঃ ৪/১২৩, ফতহুল কাদীর শহরে হেদায়াঃ ১৫/৭৪)

উল্লিখিত আলোচনা থেকে প্রমানীত হয় যে, মানুষের কোন অঙ্গ বিক্রি করা জায়েয নাই।

সুতরাং আপনার মা-বোন যারা মাথার চুল বিক্রি করে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করে তা সম্পূর্ণভাবে হারাম। মারাত্বক ধরনের গুনাহের কাজ করছেন তারা। যদি সম্ভব হয় তাহলে তারা পড়ে যাওয়া চুলগুলো কোন জায়গায় দাফন করে দেবে। এটাই তাদের জন্য উত্তম কাজ হবে।  আপনার জন্য জরুরী হলো, তাদের এই গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখা।

উত্তর দিয়েছেন : শায়েখ মুফতী ফখরুল ইসলাম নিজামপূরী
পরিচালক, ফিকহে হানাফী রিসার্চ সেন্টার চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
উৎস :  ফিকহে হানাফী ডটকম