শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

দেওবন্দে হাদিসে মুসালসালের দরস নিলেন ৩ হাজার শিক্ষার্থী

OURISLAM24.COM
মার্চ ২৩, ২০১৮
news-image

তাওহীদ আদনান ও নূরুদ্দিন মুহাম্মদ
দেওবন্দ থেকে

বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে অনুষ্ঠিত হল হাদিসে মুসালসালের দরস৷ দরস দান করেছেন দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খে সানি আল্লামা কমরুদ্দীন আহমাদ।

এ দরস অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার ২২ মার্চ। এতে দেওবন্দের দাওরা হাদিসের ছাত্রসহ আশ-পাশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজারের মতো ছাত্র অংশগ্রহণ করে৷ প্রতিবারের মতো এবারও সুশৃঙ্খলভাবেই শেষ হয়েছে হাদিসে মুসালসালের দরস৷

গতকাল আসরের পর থেকে দরস শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে৷ হাদিসে মুসালসাল খতম করেই শেষ হয় দরস৷ দরস অনুষ্ঠিত হয় দেওবন্দের দাওরায়ে হাদিসের কামরায়৷ হাদিসের দরসে সর্বসাধারণের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো৷

বহির্বিশ্বে হাদিসে মুসালসালের প্রচলন বহু পুরাতন৷ তবে হিন্দুস্থানে এর প্রচলন শুরু হয় শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবির সময় থেকে৷ তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান মাদরাসায়ে রহিমিয়ায় শুরু করেন হাদিসে মুসালসালের দরস৷ এরপর থেকেই ভারতে ছড়িয়ে পরে এর প্রচলন৷

শায়েখ যাকারিয়া রহ. ছিলেন সাহরানপুর মাদরাসার শাইখুল হাদিস৷ তিনিও সাহরানপুর মাদরাসায় দরস দিতেন হাদিসে মুসালসালের৷ তার শাগরেদ ছিলেন সাহরানপুরের সাবেক শাইখুল হাদিস আল্লামা ইউনুস রহ. এবং দেওবন্দের সাবেক শায়খে সানি আল্লামা আবদুল হক আজমি রহ. ও বর্তমান শায়খে সানি আল্লামা কমরুদ্দীন আহমাদ৷

এরপর শায়েখ যাকারিয়া রহ.-এর ইন্তেকালের পর সাহরানপুরে শাইখুল হাদিস হন আল্লামা ইউনুস রহ. ৷ দেওবন্দে শায়খে সানি হন আল্লামা আবদুল হক আজমি রহ.৷ এরপর শায়েখ ইউনুস রহ. সাহরানপুরে এবং আবদুল হক আজমি রহ. দেওবন্দে শুরু করেন৷

সেই থেকেই দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক শায়খে সনি আল্লামা আবদুল হক আজমি রহ. প্রতি বছরই দেওবন্দে দরস দিতেন হাদিসে মুসালসাল৷ যিনি প্রায় ৪৫ বছর শায়খে সানি ছিলেন দেওবন্দে৷ গত বছরের মাঝামাঝি সময় তিনি পাড়ি জমান পরপারে৷

শায়খে সানি আল্লামা আবদুল হক আজমি রহ.-এর ইন্তিকালের পর গত বছর দেওবন্দে শায়খে সানি হন দেওবন্দের সাবেক নাযেমে তালিমাত আল্লামা কমরুদ্দীন আহমাদ৷ পূর্বের ধারাবাহিকতায় গত বছর তিনিও দিয়েছিলেন হাদিসে মুসালসালের দরস৷ সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দরস অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাযথভাবেই৷

হাদিসে মুসালসাল হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রতিটি হাদিস প্রথম বর্ণনাকারী থেকে একেবারে শেষ বর্ণনাকারী পর্যন্ত একইভাবে হওয়া বা একই গুণে গুণান্বিত হওয়া৷ অথবা হাদিসে যে আমলের কথা রয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক বর্ণনাকারী হাদিসটি বর্ণনা করার সময় সাথে সাথে ওই আমল করা ৷

এ ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক কথা৷ যেমন- এক হাদিসে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেহমানদারীর ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে সব সাহাবাকে পানি ও দুটি খেজুর দিয়ে মেহমানদারী করান৷ এরপর সাহাবায়ে কেরাম রা. ওই হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের ছাত্রদেরও একইভাবে মেহমানদারী করান৷ এ

ভাবে আসতে আসতে একেবারে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মুহাদ্দিস তার ছাত্রদের পানি ও দুটি খেজুর দিয়ে মেহমানদারী করান৷

আপনার সন্তাকে ভর্তি করুন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদরাসা

আবার আরেক হাদিসে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফাহার ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে সাহাবিদের সাথে মুসাফাহা করেন৷ এরপর সাহাবায়ে কেরামও সে হাদিস বর্ণনা করার সময় ছাত্রদের সাথেও মুসাফাহা করেন৷

এভাবে আসতে আসতে একেবারে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মুহাদ্দিস তার ছাত্রদের সাথে মুসাফাহা করেন৷

এ ধারাবাহিকতা আজও পর্যন্ত প্রত্যেক মুহাদ্দিসের থেকে চালু রয়েছে৷ সেই হিসেবেই দারুল উলুম দেওবন্দেও গতকাল শায়খে সানি আল্লামা কমরুদ্দীন আহমাদ ও ছাত্রদের হাদিসে মুসালসালের দরস দান প্রক্কালে মেহমানদারীর হাদিস এলে ছাত্রদের দুটি খেজুর ও যমযমের পানি দ্বারা মেহমানদারী করান৷ মুসাফাহার হাদিস পড়িয়ে ছাত্রদের সাথে মুসাফাহা করেন৷

দারুল উলুম দেওবন্দের পাঠ্যসূচি পরিবর্তনে ১২ আলেম-ডক্টরের চিঠি

আরআর