বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮

মক্কাকে মক্কেশ্বর মন্দির প্রমাণের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র; উস্কানির শাস্তি দাবি

OURISLAM24.COM
মার্চ ২২, ২০১৮
news-image

ইমতিয়াজ বিন মাহতাব

আলীগড়ের হিন্দু মহাসভা হিন্দু নববর্ষের এক মারাত্মক বিতর্কিত ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। ওই ক্যালেন্ডারে তাজমহলসহ ৭টি মসজিদ ও মোগল আমলের স্থাপনার ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, হিন্দু মহাসভার দাবী, এ সকল স্থাপনা মূলত মন্দির। হিন্দু নববর্ষের ক্যালেন্ডারে আগ্রার তাজমহলকে তেজো মহালয়া মন্দির বলা হয়েছে।

ওই ক্যালেন্ডারে মধ্য প্রদেশের কামাল মাওলা মসজিদকে ভোজশালা ও বানারসের জ্ঞানব্যাপী মসজিদকে বিশ্বনাথ মন্দির বলা হয়েছে। ক্যালেন্ডারে কুতুব মিনারকেও মন্দির আখ্যায়িত করে তাকে বিষ্ণু স্তম্ভ ও জৌনপুরের আটালা মসজিদকে অতলা দেবীর মন্দির আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অযোধ্যার শহীদ বাবরি মসজিদকেও ওই ক্যালেন্ডারে যুক্ত করা হয়েছে, যাকে রামজন্মভূমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর কথা হচ্ছে, ওই ক্যালেন্ডারে মুসলমানদের ধর্মীয় কেন্দ্রভূমি মক্কা মুকাররমাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি।

হিন্দু মহাসভা তাদের ক্যালেন্ডারে মক্কা শরীফকে মক্কেশ্বর মহাদেব মন্দির হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

হিন্দু মহাসভার সেক্রেটারি পূজা শকুন পান্ডে বলেন, আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ হিন্দু রাষ্ট্র গঠনে সঙ্কল্পবদ্ধ। সেই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে।

পূজা শকুনকে এ ক্যালেন্ডারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, তারা হিন্দু নববর্ষকে হোমের মাধ্যমে স্বাগতম জানিয়েছেন। এ যজ্ঞের মাধ্যমেই হিন্দু নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়েছে, যেখানে দাবী করা হয়েছে, ভারতকে যেন হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়া হয়।

উর্দু টাইমস বলছে, পূজা এ কথাও বলেন, মসজিদে গম্বুজ নির্মাণের ধারণা ইসলামী নির্মাণ নীতির অংশ নয়, বরং হিন্দুরা এর সূচনা করেছিল, মুসলমান শাসকেরা যার প্রসার ঘটিয়েছেন। তাজমহলের ভেতর একটি কবর রয়েছে, যার প্রকৌশলী ব্যবস্থাপনা প্রায় পুরোটাই হিন্দু প্রকৌশল ব্যবস্থাপনার সাথে মিলে যায়।

পূজার দাবী, বহিরাগত আক্রমণকারীরা ভারতের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনাগুলো দখল করে নেয় এবং নাম পরিবর্তন করে তা মসজিদ বানিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, মুসলমানদের উচিত হিন্দুদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ফিরিয়ে দেওয়া। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, পূজা শকুনের দাবী, ক্যালেন্ডারে উলে­খ করা ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ইতিহাস খতিয়ে দেখেছেন ইতিহাসবিদ বিপি সাক্সেনা।

তিনি আলিগড়ের ভার্শনে কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। সাক্সেনা দাবী করেছেন, এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, ওই সাতটি ঐতিহ্য হিন্দুদের অধিকারভুক্ত ছিল।

সাক্সেনা বলেন, যদি কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদের উচিত এগুলো খনন করে দেখা। যেমনটি করা হয়েছিল রামমন্দিরের বেলায়। তাহলেই তারা সেখানে সব প্রমাণ দেখতে পাবেন।

হিন্দু মহাসভার এমন দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য ইমাম-ই-ঈদগাহের মাওলানা খালিদ রশীদ ফিরঙ্গী মাহলী বলেন, হিন্দু মহাসভার এ দাবী ভিত্তিহীন।

তাবলীগ ইস্যুতে হাটহাজারীতে উলামা সম্মেলন; গুরুত্বপূর্ণ ৪ সিদ্ধান্ত

তিনি বলেন, মক্কাকে হিন্দু মন্দির বলা মূলত মুসলমানদের মনে আঘাত দেওয়ার শামিল এবং এটি ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী।

তিনি আরো বলেন, এসব মানুষ ওই ধরনের উদ্ভট দাবির মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। উস্কানি প্রদানের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ কেলেন্ডার প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা আশ্চর্য হয়েছেন হিন্দুদের কাণ্ডজ্ঞান দেখে। ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করায় যে পারদর্শিতা তারা দেখিয়েছেন তা চতুর ও ধোকাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। তবে মিডিয়াশক্তি অর্জন করেই যে তারা এমন অপপ্রচারে এগিয়ে থাকছে এটা স্বীকার করছেন সবাই।

আর এর প্রতিকার চাইলে মুসলিমদের সে শক্তি অর্জন করতে হবে এমনটাই মনে করেন মুসলিম জনগোষ্ঠী।

আরআর