বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮

মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদের বক্তব্য নিয়ে এত তোলপাড় কেন!!

OURISLAM24.COM
মার্চ ১৯, ২০১৮
news-image

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
সম্পাদক, আদর্শ নারী

মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদ সাহেব একজন প্রথিতযশা আলেম ও দায়িত্ববান দ্বীনগবেষক। তার কথার ওজন তার মতোই দায়িত্বপূর্ণ হওয়াই অবশম্ভাবী।

মুফতী সাহেবের সাম্প্রতিক চরমোনাই মাহফিলে প্রদত্ত জাকির নায়েক ও আহলে হাদীস নিয়ে বক্তব্যের ব্যাপারে অযথাই কিছু লোক বিষোদগার করে ফেসবুক গরম করছেন। আর এতে বেমালুম বাতিলপন্থীদের পক্ষেই তাদের অবস্থান চলে যাচ্ছে। যা দেখে ওরা মুখ টিপে হাসছে।

মুফতী সাহেবের সেই বয়ান পুরোটা আমি শুনেছি। সেই বয়ান পুরোটা শুনলে এবং অনুধাবন করলে কোনোরূপ প্রশ্ন উঠার কথা নয়।

তার যে বয়ানের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হচ্ছে, তিনি সেখানে দেওয়ানবাগী, শিরককারী, বিদ‘আতী, জাকির নায়েক, আহলে হাদীস প্রমুখ সম্পর্কে পরিচয় দিয়েছেন। এরপর বলেছেন, ‘সকল বাতিলকে আল্লাহ তা‘আলা পরকালে হিসাব নিবেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’

তিনি সেখানে, ‘জাকির নায়েক ও আহলে হাদীসরা জাহান্নামে যাবে’ সরাসরি এ কথা বলেননি। বরং এক্ষেত্রে তিনি ‘বাতিল’ শব্দ উল্লেখ করেছেন এবং পরকালে আল্লাহর ‘হিসাব’ নেয়ার কথাও বলেছেন, ‘বাতিলদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পরকালে হিসাব নিবেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’

অবশ্যই যারা পরকালের হিসাব-কিতাবে মহান আল্লাহর দরবারে বাতিল ও গোমরাহ বলে সাব্যস্ত হবে, তারা যে জাহান্নামী হবে, এটা তো হাদিসেই রয়েছে- وكل ضلالة في النار ‘প্রত্যেক গোমরাহী জাহান্নামে যাবে।’ (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৫৭৮)

সুতরাং মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদ সাহেবের বক্তব্যে তো বাতিলপন্থীদেরই গা জ্বলে উঠার কথা এবং সংশোধনের চিন্তা করা দরকার। কিন্তু সেখানে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জন্য বাতিলপন্থীদের পক্ষ নিয়ে গা জ্বালা প্রকাশ করার কোনো মানে হয় না।

আসুন, সবাই হকপন্থার নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রাখি। বাতিলপন্থীদের পক্ষ নিয়ে নিজেদের নিজেরাই টার্গেট করে তাদের হাসির খোরাক না জোগাই।

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদীর ফেসবুক ওয়াল থেকে

মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ সাহেবের আলোচিত সেই বয়ানটি কি শুনেছেন?অনেকেই হয়তো না শুনেই শুধুমাত্র চরমোনাই বিরোধিতা করতে গিয়ে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন।হ্যাঁ, তিনি ড. জাকির নায়েককে শয়তান বলেছেন, আহলে হাদিস আর বেদাতিদেরকে বাতিল বলেছেন।সকল বাতিল জাহান্নামে যাবেন, সেই বিষয়টিও আলোচনা করেছেন।এই যে কওমি আর দেওবন্দী ভাই থামুন! এই বয়ানের বিশ্লেষণের পূর্বে আপনার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা আছে।আহলে হাদিস ফেরকার ভাইয়েরা অনায়াসে এই বয়ানের প্রতিবাদ জানাবে, এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু আপনি কওমী আর দেওবন্দী হয়ে এই বয়ানের প্রতিবাদ করতে করতে লুঙ্গী খুলে ফেলছেন কেন? এই যে ভাই লা মাযহাবি! আপনি এখানে আঙুল ঢুকাবেন না। এখানে আমার কওমী আর দেওবন্দী ভাইয়ের সাথে কথা বলছি।আচ্ছা দেওবন্দী ভাই! আপনার আক্বিদার প্রায় শতভাগ বক্তা আরো কঠোর ভাষায় ডা. জাকির নায়েককে তুলোধুনো করে থাকে।মাওলানা ওলীপুরীসহ দেশের হাজার হাজার কওমী আর দেওবন্দী হুজুররা ডাক্তার সাহেবকে ইহুদী নাসারাদের দালাল বলে গলা ফাটিয়ে থাকেন, তখন আপনার এই সব নসিহত কোথায় থাকে। প্লিজ থামুন ভাই! এই সকল ভাষা ব্যবহার করা উচিত কিংবা অনুচিত, সেই বিষয়টাতে পরে আসুন, আগে এই বিষয়টি ক্লিয়ার করুন; যে কথা আপনারা সবাই বলেন, সেই একই ধাঁচের কথা মুফতী মিযান সাহেব দেশের বিভিন্ন মাহফিলেও বলে থাকেন, তখন আপনাদের মুখে কুলুপ এঁটে গলাটা আটকে ছিল, আজ যখন হাজারো কওমী আলেমদের সেই কথাটাই মুফতি মিযানুর রহমান সাহেব চরমোনাই মাহফিলে বললেন, ঠিক এই সময়টাতে এসেই আপনাদের মুখে হৈ হৈ রৈ রৈ করে খৈ ফুটলো কেন?আপনাদের মতলবটা কী, বলুন তো?আর হ্যাঁ, আরেকটি জিজ্ঞাসা ছিল।আপনি কি ইমাম বিদ্বেষী আর ওলামায়ে দেওবন্দকে গোমরাহ ফতুয়া দানকারী লা মাযহাবী, বেদাতি আর ডাক্তার সাহেবদের মতো বাড়াবাড়ি আর ছাড়াছাড়ির দলকে হক মনে করেন?যদি হকই মনে না করেন, তাহলে লাফান কেন?মুফতী সাহেব তো বলেছেন, সকল বাতিল দলকে আল্লাহপাক জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।তিনি খারাপ কী বলেছেন?

Posted by সালাহুদ্দীন মাসউদ on Saturday, March 17, 2018