বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

আজমির শরিফে আবারো ঐক্যের ডাক মাওলানা মাহমুদ মাদানির

OURISLAM24.COM
মার্চ ১৯, ২০১৮
news-image

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: ভারতের রাজস্তান প্রদেশের আজমিরে বিখ্যত বুজুর্গ খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি রহ. এর দরবারে ১০ দিনব্যাপী ওরস চলছে। এ ওরসে দেশ বিদেশ থেকে আগত মুসল্লীদের জন্য বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে ভারতীয় মুসলিমদের প্রাচীন সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

ক্যাম্প উদ্বোধনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়িদ মাহমুদ মাদানি।

মাওলানা মাদানি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি রহ. পু্রো ভারত বর্ষের জন্যই রহমত স্বরুপ ছিলেন। তিনি নিজের মহান চরিত্র দ্বারা লাখ লাখ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। তিনি সর্বদা একতা ও সাম্যের শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের মঝে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি তার কর্মময় জীবনে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাসাউফ না কেবল ইলমের নাম, না শুধু রুসম রেওয়াজের নাম। বরং তাসাউফ তো আল্লাহর সাথে প্রকৃত ভালোবাসার সম্পর্ক ও কোন ভেদাভেদ ছাড়াই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে মুহাব্বতের বন্ধন তৈরি করা।

মাদানি বলেন, হজরত খাজা রহ. বলতেন, ‘নদীর মতো দানশীলতা, সূর্যের মতো বদান্যতা এবং জমিনের মতো বিনয়ী হওয়ার নামই হলো আসল ফকিরি।’ জমিয়ত হজরত খাজার এই দর্শন সামনে রেখে ঐক্যের পয়গাম নিয়ে মানবতার সেবা করে চলছে। পৃথিবীতে ভালোবাসার পয়গাম ছড়িয়ে দিতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণতা পরিহার করে সুন্দর পৃথিবী গড়ার শপথ নেয়াই সময়ের দাবি। ইসলামের প্রকৃত বাণী দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

এর আগে মাওলানা মাদানি আজমির শরিফে পৌঁছলে দরবারের দায়িত্বশীলরা তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। এসময় রীতি অনুযায়ী তারা মাদানির মাথায় সম্মানের পাগিড়ি পরিয়ে দেন।

দরবারের সেক্রেটারী জেনারেল হাজি সাইয়িদ হুসাইন চিশতি বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সব সময়ই এক্য ও মানবতার পক্ষে কাজ করে আসছে। জমিয়ত আজমিরের সাথে বহু আগ থেকে ভালোবাসার সম্পর্ক রক্ষা করে আসছে। ’৪৭ এ দেশ ভাগের পর জমিয়তের তৎকালিন সেক্রেটারী মাওলানা হিফজুর রহমান সিহরাওয়াবি আজমির শরিফ দরবারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছেন।

জানা গেছে, ওরসে জমিয়তের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক ৮ টি এ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি টিম সব সময় মুসল্লীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

উল্লেখ্য, গতবছর আজমির শরিফে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছিলো। সেখানে সব ধর্মের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: খবরে রোজনামা, সাহাফাত, মিল্লাত টাইমস।