শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮

আপনি কি থ্রেট করছেন? খালেদা জিয়ার আইনজীবীকে আদালত

OURISLAM24.COM
মার্চ ১৪, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া চার মাসের জামিন আগামী রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

আজ বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি কমিশনকে (দুদক) লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন আদালত। অন্য বিচারপতিরা হলেন মোহাম্মদ ইমান আলী, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আর মির্জা হোসাইন হায়দার।

বুধবার সকাল ৯টা ৪ মিনিটে খালেদা জিয়ার জামিনের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্ট চারটি কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। আমরা এখনো সে আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাইনি। আদেশের কপি পেলে লিভ টু আপিল করব।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা লিভ টু আপিল করে আসেন।’

তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘মাই লর্ড, হাইকোর্টের আদেশের কপি বের হয়েছে গতকাল বিকেল ৫টার পর। এ কারণে আমরা লিভ টু আপিল করতে পারিনি। লিভ টু আপিল করতে হলে আগামী রোববার-সোমবার পর্যন্ত আমাদের সময় দেওয়া হোক। এ পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখা হোক।’

এরপর আদালত বলেন, ‘ঠিক আছে সিপি ফাইল করে আসেন রোববারের মধ্যে। এ পর্যন্ত জামিন স্টে থাকবে।’

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘আমাদের আগে শোনেন। আমাদের বক্তব্য তো শোনেন নাই। আমাদের না শুনে এভাবে আদেশ দিতে পারেন না।’

আদালত বলেন, ‘শুনতে হবে না। রোববার পর্যন্ত তো স্থগিত দিয়েছি। ওই দিন আসেন, তখন শুনব।’

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আপনি যে একতরফাভাবে শুনানি করে আদেশ দিলেন, এতে আদালতের প্রতি পাবলিক পারসেপশন খারাপ হবে।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা পাবলিক পারসেপশনের দিকে তাকাই না। কোর্টকে কোর্টের মতো চলতে দিন।’

এরপর জয়নুল আবেদীন ও এ জে মোহাম্মদ আলী কিছুটা আওয়াজ করে আদালতে বলেন, ‘মাই লর্ড, না শুনেই তো আদেশ দিলেন।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছি। আমাদের শোনার দরকার নেই।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ মামলায় চেম্বার আদালত তো স্টে (জামিন স্থগিত) দেয়নি। এ সময়ের মধ্যে আসামিও বের হবেন না। তাই স্টে (স্থগিত) প্রয়োজন নেই।’

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ‘আমরা তো শুনানির সুযোগ পেলাম না।’

এ সময় প্রধান বিচারপতি কার্যতালিকা থেকে অন্য মামলা শুনানি শুরু করতে বলেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, ‘আপনি তো না শুনেই একতরফা আদেশ দিলেন। আমাদের কথা শুনতে হবে। কেন শুনবেন না?’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কার কথা শুনব, কার কথা শুনব না তা কি আপনার কাছে শুনতে হবে?’

এ সময় আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন আবারও একটু উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি আমাদের না শুনে একতরফা শুনানি করে আদেশ দিতে পারেন না। এটা নজিরবিহীন।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘আপনি কি আদালতকে থ্রেট করছেন?’

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘শুনে তারপর আদেশ দিতে হবে।’

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘থ্রেট দেবেন না।’

এরপর আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আপনি আমাদের শুনে অর্ডার দেন, প্লিজ?’

এ সময় বিএনপির অর্ধশতাধিক আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে হৈচৈ শুরু করেন।

একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘আপনি তো কোর্টকে শেষ করে দিলেন।’ তখন অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েই ছিলেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুবউদ্দিন খোকন শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জোনরেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে খুরমীদ আলম খান অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় আদালতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।